নিজস্ব প্রতিনিধি : জেসমিন রেভল্যুশনের কথা মনে আছে? ২০১০ সালের ১৮ ডিসেম্বর তিউনিশিয়ায় যে প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু হয়েছিল তৎকালীন শাসকের বিরুদ্ধে। সেই প্রতিবাদ আন্দোলনের একটা বড়ো অংশ সংগঠিত হয়েছিল ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। ফেসবুকের মাধ্যমেই বহু অচেনা অজানা মানুষ সংগঠিত হয়েছিলেন সরকারের দুর্নীতি, বেকারির বিরুদ্ধে।

ওই রকম বড়োসড়ো কিছু না হলেও, একটা ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে বহু মেয়েকে এক করে ফেলেছে বিটিএম। তাদের স্বনির্ভর হওয়ার পথে সহযোদ্ধা হয়েছে। মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছে।

বিটিএম মানে ‘বিউটি টিপস অ্যান্ড মোর’ (❤beauty tips n more❤(female group)BTM)। নামটা শুনেই মনে হচ্ছে এ গ্রুপে ‘বিপ্লবটা’ কোথায়? এখানে তো নিশ্চয়ই সৌর্ন্দয্যচর্চা নিয়ে আলাপচারিতা হয়। ‘‘শুরুতে গ্রুপটা সে জন্যই করেছিলাম’’, জানালেন গ্রুপের অ্যাডমিন পারমিতা ঘোষ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের বাসিন্দা গৃহবধূ পারমিতা জানালেন, ‘‘আমার বন্ধু-আত্মীয়দেরই গ্রুপ যোগ দিইয়ে ছিলাম। তার পর ক্রমশ এই গ্রুপের সদস্যসংখ্যা বাড়তে থাকে।’’

বিয়ের পর মেয়েদের স্বামী-সংসার-সন্তান সামলে ‘ফুরিয়ে’ যাওয়ার দিনগুলোতে দাড়ি টেনেছে বিটিএম।

বাড়তে বাড়তে এখন গ্রুপের সদস্য বর্তমানে ১ লাখ ৫৭ হাজারেরও বেশি। প্রতি দিন বাড়ছে। পারমিতা জানালেন, ‘‘প্রথম দিকে মাঝে মাঝে কেউ জিনিসপত্র বিক্রির পোস্ট দিত। তখন আমি ভাবলাম যদি বিষয়টি আরও সংগঠিত উপায়ে করা যায়।’’ তবে একা তো সব কাজ করা যায় না তাই বেশ কয়েক জনকে ‘মডারেটর’ হিসাবে যুক্ত করে নেন। তার পর আর ভাবতে হয়নি। বর্তমানে এই গ্রুপে বিক্রেতার সংখ্যা প্রায় ৫৫০ জন।

নামমাত্র মূল্যে এই গ্রুপে কিছু বিক্রির জন্য পোস্ট দেওয়া হয়।  সুযোগ রয়েছে লাইভ করারও। যারা এই গ্রুপে বিক্রির জন্য নিয়মিত পোস্ট করেন তাদের ব্যবসা উত্তরোত্তর বেড়েছে বলেই জানালেন পারমিতা।

team-btm
টিম বিটিএম : পারমিতা ঘোষ, মৌমিতা চ্যাটার্জি, গার্গী চ্যাটার্জি, শ্রীপর্ণা কুমার, সোনালি দত্ত, রূপা ঘটক, শাশ্বতী সরকার, কোয়েল দত্ত, পারমিতা ঘোষ, রিমা সিংহ রায়।

এই গ্রুপের আর এক কাণ্ডারী মৌমিতা চ্যাটার্জি জানালেন, ‘‘সাধারণ ভাবে ফেসবুক গ্রুপগুলোতে শুধু বিক্রির জন্যই ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। কিন্তু বিটিএমে আমরা অ্যাডমিনরা, বিক্রিকে কেন্দ্র করে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা সমাধানের চেষ্টা করি।’’

পারমিতা জানালেন, ‘‘বেশ কিছু দিন ধরেই গ্রুপের বিক্রিতারা চাইছিলেন, অনলাইনের বাইরেও যদি অফলাইনে তাঁদের প্রোডাক্টকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় তা হলে ব্যবসার পরিচিতিকে আরও ছড়িয়ে দেওয়া যায়।’’

সেই উদ্দেশ্যেই আগামী ৭ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর একটি বিকিকিনি মেলার আয়োজন করা হয়েছে গোলপার্ক কেয়াতলা লেনের ঘোষবাড়িতে। ৪০ থেকে ৪৫ জন বিক্রেতা দুপুর ১২টা থেকে ৮টা উপস্থিত থাকবেন তাঁদের সৃষ্টিশীল সামগ্রী নিয়ে।

btm

এই মেলার উদ্বোধনেও কিছুটা অভিনবত্ব রাখছেন অ্যাডমিনরা। কোনো সেলিব্রিটিকে দিয়ে নয়, অনাথ শিশুদের দিয়েই মেলার উদ্বোধন করাবেন তাঁরা। শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হবে বিক্রেতাদের তৈরি উপহার।

BTM-reaction
বিটিএম সদস্যদের মন্তব্য
কী ধরনের জিনিস বিক্রি হয় বিটিএমের মাধ্যমে?

এখানে যে সব সামগ্রী বিক্রি হয় তার বেশির ভাগ হাতে তৈরি, লেগে রয়েছে সৃষ্টিশীলতার ছোঁয়া। শাড়ি, চুড়িদার, জামাকাপড়, বিউটি প্রোডাক্ট, জুয়েলারি, ঘর সাজানোর জিনিসের পাশাপাশি মেকআপ, নেল আর্ট-এর মতো পরিষেবাও এই গ্রুপের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন বিক্রেতারা।

বিয়ের পর মেয়েদের স্বামী-সংসার-সন্তান সামলে ‘ফুরিয়ে’ যাওয়ার দিনগুলোতে দাড়ি টেনেছে বিটিএম। এই ফেসবুক গ্রুপকে কেন্দ্র করে স্বনির্ভর হয়ে ওঠা স্বপ্নকে আরও আঁকড়ে ধরছেন গৃহবধূ থেকে কলেজছাত্রীরা। সেই তালিকায় রয়েছেন অ্যাডমিনরাও। প্রতি দিন ‘বিউটি টিপস অ্যান্ড মোর’ আরও আরও মেয়ের চোখে শিরদাঁড়া সোজা রেখে বাঁচার স্বপ্ন এঁকে দিচ্ছে।

বিটিএমের একটি ফেসবুক পেজ আছে, সেই পেজে লাইক করতে পারেন 

বিজ্ঞাপন প্রতিবেদন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন