পুজোয় কী ভাবে নিজেকে সাজিয়ে তুলবেন ফিউশন লুকে, পরামর্শ দিচ্ছেন ডিজাইনাররা

বাতাসে বাজছে আগমনীর সুর, জানান দিচ্ছে মা আসছেন। অতিমারির মধ্যেও শুরু হয়ে গিয়েছে পুজোর প্রস্তুতি, হাতে রয়েছে আর মাত্র কয়েকটা দিন। সারা বছরের ক্লান্তি, মালিন্য দূর করে দেওয়ার জন্য পাঁচটা দিনই থাকে। গোটা বছরের অক্সিজেন বাঙালি জোগাড় করে নেয় পুজোর পাঁচটা দিনেই। 

পুজো মানে বন্ধুদের সঙ্গে প্যান্ডেল হপিং, প্যান্ডেলে আড্ডা, প্রেমিকের সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো, অষ্টমীর সকালে অঞ্জলি। পুজোর ৫টি দিন আলাদা আলাদা ভাবে সুন্দর দেখানোটা কিন্তু খুব জরুরি। সুন্দর দেখানো মানেই আপনাকে বেছে নিতে হবে সঠিক দিনের সঠিক পোশাকটি। পুজোর ক’টা দিন শাড়ি বা যে কোনো সনাতন দেশি পোশাকেই বাঙালি মেয়েদের দেখতে সব চেয়ে ভালো লাগে।

এটাও ঠিক যে রোজ শাড়ি পরাটা একটু একঘেয়েও মনে হতে পারে। বিশেষ করে আজকের দিনে যাঁদের শাড়ি পরার অভ্যেসটাই তেমন নেই। তাঁরা কী ভাবে সাজবেন তা হলে? পুজোর ভিড়ে যাতে আলাদা করে নজর পড়ে আপনার উপর, সে চেষ্টা করতে হবে বই-কি! প্যান্ডেলে গোল হয়ে বসে আড্ডা মারার সময় বা সন্ধিপুজোর সময় আপনার উপরেই যেন বিশেষ মানুষটির চোখ আটকায়। তার জন্য প্রিপারেশন নিতে হবে। পাঁচ জনের কথা মেনে আপনি কী পরবেন বা কেমন সাজবেন সেটা ঠিক করতে যাবেন না। নিজে যে ধরনের পোশাক ও সাজসজ্জায় কমফর্টেবল, সেটা পরুন।

ইন্দো-ওয়েস্টার্ন বা ইন্ডিয়ান ফিউশন

Shyamsundar

সাধারণত পুজোর সময় সবাই এখন ইন্দো-ওয়েস্টার্ন বা ইন্ডিয়ান ফিউশন পরতে পছন্দ করেন। কিন্তু সব চেয়ে ট্রেন্ডিং ইন্দো-ওয়েস্টার্ন। অনেকেই পুজোর সময় খুব একটা ওয়েস্টার্ন পছন্দ করেন না। সপ্তমীতে একটু লাইট ফিউশন ওয়ের বা লং ড্রেসেস। লং ড্রেসের থেকেও শর্ট ড্রেস বেশিই ভালো লাগবে। একটা জ্যাকেটের সঙ্গে মানাবে ভালো। অষ্টমীর দিন অবশ্যই শাড়ি বা ফিউশন শাড়ি পরা যেতে পারে। নবমীর দিন একটু গ্রেসি হলে ভালো হয়। একটু ডার্ক কালার নবমীতে বেশ ভালো লাগে। আর দশমীর দিন মানুষ শাড়ি পরতে বেশি পছন্দ করে। যাঁরা শাড়ি পরতে পারবেন না তাঁরা লং আনারকলি পরতে পারেন।

লম্বা ঝুলের স্কার্ট

যদি স্কার্ট ভালো লাগে, তা হলে লম্বা ঝুলের একটি স্কার্ট বেছে নিন। তার সঙ্গে এমব্রয়ডারি করা অফ শোল্ডার টপ খুব স্মার্ট দেখাবে। সন্ধেবেলার অনুষ্ঠানের জন্য সঙ্গে কুন্দনের গয়না পরুন। চুলটা এমন ভাবে বেঁধে নিন যাতে আপনার কলার বোন ও গয়না দেখা যায় সুন্দর ভাবে।

ফ্ল্যাট জুতো বেছে নিন

আপনি পোশাকের সঙ্গে ঠিক কোন ধরনের জুতো পরছেন সেটাও দারুণ গুরুত্বপূর্ণ। যদি প্যান্ডেলে ঘুরে ঠাকুর দেখার প্ল্যান থাকে তা হলে হিল পরবেন না – অতি অবশ্যই আরামদায়ক ফ্ল্যাট বেছে নিন।

সালোয়ার কামিজ, কুর্তা বা পালাজো

যাঁরা একটু রোগা তাঁরা শাড়ি ছাড়াও সালোয়ার কামিজ, কুর্তা, পালাজো দিয়েও সাজাতে পারেন পুজোর কালেকশন। যদি শাড়ি পরতেই হয়, লম্বা হাতা ব্লাউজ ট্রাই করুন। ব্লাউজের পিঠ এয়ারহোস্টেসদের মতো হতে পারে। গলা মেকআপ করতে বেছে নিন হাইনেক ব্লাউজ। সালোয়ার-কামিজে প্রিন্টের আধিক্য আনুন। পালাজো আপনাদের জন্য বেশ ভালো পোশাক।

কখন মানাবে শাড়ি

আপনার চেহারার ধরন মাঝামাঝি হলে সুতি, হ্যান্ডলুম, তসর, কোটা, সিল্ক, মসলিন, কোসা, মটকা, শিফন, সব ধরনের শাড়ি মানাবে ভালো। তাই পুজোর সকালের জন্য সুতির শাড়ির অপশন রাখুন। আর রাতের জন্য বেছে নিন সিল্ক বা তসর।

কেমন হবে ব্লাউজ

ব্লাউজ নিয়েও এক্সপেরিমেন্ট করতে পারেন। অফ শোল্ডার ট্রাই করুন রাতের সাজে। এ ছাড়া যাঁরা ওয়েস্টার্ন পরতে চান শর্ট ড্রেসই বলুন বা চেনা জিন্সের স্মার্ট সাজ, সবই আপনার চেহারায় মানাবে ভালো। ভ্যারাইটি নিয়ে আসুন শার্টের কলারের সেলাইয়ে অথবা বোতামের রঙে। ডিজাইনার লুক চাইলে অফ শোল্ডার গাউনও ট্রাই করতে পারেন।

ভারী চেহারায় মানানসই পোশাক

যাঁদের চেহারা ভারী, তাঁরা কখনও ওয়েস্টার্ন আউটফিট পরবেন না, তা-ও আবার হয় নাকি? কিন্তু চেহারার কথা ভেবে আগে থেকে প্ল্যান করতে হবে, কী ধরনের ওয়েস্টার্ন আউটফিট আপনাকে ভালো মানাবে। ধরুন, গাউন। বোল্ড কালারের লং গাউন ট্রাই করতে পারেন। জিন্স বা কুর্তি তো রোজই পরেন। পুজোর আবহে বেছে নিন অন্য পোশাক। যদি একটু সাহসী হতে চান, তা হলে গাউনের শোল্ডার নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে পারেন। তবে সব সময়ই ডার্ক শেড বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ডিজাইনাররা।

আরও পড়তে পারেন

এ বারের পুজোয় ফ্যাশনে তাক লাগাতে স্কার্টেই বাজিমাত

হবু মায়েদের ফ্যাশনে চমক, একটু ঢিলেঢালা পোশাক বাঞ্ছনীয়, মনে করেন বিশেষজ্ঞরা

চাকরির ইন্টারভিউয়ে কেমন পোশাক পরবেন

বর্ষায় যেমন পোশাকে নিজেকে সাজিয়ে তুলবেন

বর্ষায় পোশাকে ফাঙ্গাস? দূর করতে রইল ৮ টি পদ্ধতি

মোজা পরা পায়ের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পেতে হলে

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

পাঠকের পছন্দ

আরও পড়ুন