popping pimple

ওয়েবডেস্ক: মাত্র একটা পপ! আর তাতেই নাকি জীবনযাত্রা স্টপ! সম্প্রতি এমন সতর্কবার্তাই মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন ত্বকবিশেষজ্ঞরা। বলছেন, শরীরের আর যে জায়গারই ব্রন ফাটানো হোক না কেন, বিশেষ একটি জায়গায় নৈব নৈব চ! সেখানে হাত গেলেই আপনার জন্য অপেক্ষা করে আছে খোদ মৃত্যুর হাতছানি!

তা, বিশেষজ্ঞরা শরীরের কোন অংশের ব্রন ফাটাতে বারণ করছেন?

চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় শরীরের এই অংশটির নামই ‘ডেঞ্জার ট্র্যাঙ্গল’। বিপজ্জনক এই ত্রিভুজের তিনটি বাহু ঠোঁটের দুই প্রান্ত থেকে শুরু হয়ে পৌঁছিয়েছে গিয়ে নাকে। ঠিক যেমনটা দেখতে পাচ্ছেন নীচের ছবিতে। পই পই করে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা- এই জায়গার ব্রনতে হাত না দেওয়াই ভালো!

danger triangle

কিন্তু কেন এ হেন সতর্কবাণী? জানা কথা, শরীরের এক অংশের ব্রন ফাটালে তা আবার নতুন করে ফিরে আসে অন্য অংশে। এ ভাবেই চলতে থাকে ব্যাপারটা। শেষ পর্যন্ত নিরাময় আর হয় না। তা বলে মৃত্যুও তো আর হয় না। তা হলে কী এমন রহস্য লুকিয়ে আছে মুখের বিপজ্জনক ত্রিভুজে?

রহস্য নয়, লুকিয়ে রয়েছে একে অপরের সঙ্গে জট পাকিয়ে থাকা অগুনতি স্নায়ু। এই স্নায়ুমণ্ডলীই জটিল করে তুলেছে ব্যাপারটাকে। কেন না, এই সব স্নায়ুর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ রয়েছে মস্তিষ্কের। মানে, এই জায়গার কোনো ব্রন ফাটানোর পর তা যদি বিষিয়ে যায়, তবে সেই বিষক্রিয়া স্নায়ুবাহিত হয়ে পৌঁছে যাবে মস্তিষ্কে। তার আর পর বলে কিছু থাকবে না। মুখ থেকে ব্রন তুলে ফেলার খেসারত দিতে হবে জীবনের মূল থেকে নিজেকে তুলে নিয়ে।

ভয়ের ব্যাপার, সন্দেহ নেই! কিন্তু সন্দেহ আর ভয় তো এখানেই শেষ হচ্ছে না ব্রন-সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে। ঈশ্বর যেমন মানুষকে ব্রন দিয়েছেন, তেমনই তো দিয়েছেন হাত দু’খানিও! এ বার তারা যদি নিসপিস করে? মুহূর্তের দুর্বলতায় ফাটিয়ে দিতে চায় ওই বিপজ্জনক ত্রিভুজে মাথা চাড়া দেওয়া ব্রনকে?

সে ক্ষেত্রে কী করা উচিত, তারও নিদান দিয়েছেন চিকিৎসকরা। বলছেন, কোনো ভাবেই হাত দিয়ে ব্রন ফাটানো চলবে না। কেন না হাতে লেগে থাকা ধুলোবালি থেকেই সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। তাই ব্রন ফাটানোর জন্য ব্যবহার করতে হবে নিরাপদ কিছু। তা করা যেতে পারে একটা সূচ বা সেফটিপিন দিয়েও। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সেই সূচ বা সেফটিপিনকে ভালো করে জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে অ্যালকোহল দিয়ে ধুয়ে।

আর যদি অ্যালকোহল পেটে না ঢেলে সূচ বা সেফটিপিনে ঢালতে মন না চায়?

সে ক্ষেত্রে গরম জলে একটা নরম কাপড় ভালো করে ভিজিয়ে জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে। তার পর সেই গরম কাপড় দিয়ে চার পাশ থেকে চেপে ধরতে হবে ব্রনটাকে। একটু একটু চাপের সঙ্গে এ ভাবে সেঁক দিলে এক সময় ব্রন ফাটবে। তবে তাড়াহুড়ো করা চলবে না। ধীরে ধীরে এগোতে হবে এই পদ্ধতির সাহায্যে।

সবই তো জানলেন! এ বার কী করবেন, তা আপনার মর্জি! তবে হাতদু’খানি দিয়ে তো কত ভালো কাজ করা যায়। চিকিৎসকদের বিধান মেনে না-হয় সে বেচারাদের ব্রন ফাটানোর কাজে নাই বা লাগালেন! ব্রনর না হলেও আপনার মঙ্গল তো লুকিয়ে আছে এই পথেই!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here