happy holi
স্মিতা দাস

ভাঙ, প্যাঁড়া, ঠান্ডাই, রং- সব মিলিয়ে জমজমাট হোলি। আর ইতিমধ্যেই এই সব উপকরণ বাড়িতে মজুত করে ফেলেছেন প্রায় অনেকেই। কিন্তু রং খেলার পর আপনার ত্বকের কী হাল হবে! সে ব্যাপারে কি ভেবেছেন? যদি ভেবে নাও থাকেন তবে এ বার ভাবুন। তা না হলে রং খেলার সময় আপনি হাসলেও আপনার ত্বক-চুল কিন্তু মোটেই হাসবে না। এমনকি আগামী কয়েক দিনও হাসার কথা ভাবতেই পারবে না। তাই সময় থাকতেই যতটা সম্ভব তৈরি হয়ে তবেই দোল খেলায় মাতুন।

জল খেতে হবে – মনে রাখবেন দোলের দিন কিন্তু হুড়োহুড়ি আর আনন্দে মেতে থেকে জল খাওয়ার পরিমাণ খুবই কম হয়। তাতে ত্বকের ক্ষতি করে। তাই ত্বক ভালো রাখতে দিনের শুরু থেকেই বেশি করে জল খেতে শুরু করুন, যাতে শরীরে জলের ঘাটতি না হয়। জল শরীরকে সতেজ করে, টক্সিন দূর করে, সঙ্গে শরীর যথেষ্ট আর্দ্র থাকলে রঙের সঙ্গের কেমিক্যালও শরীরে চেপে বসে যেতে পারে না। তাই খেলার আগে, পরে ও খেলার সময় যতটা সম্ভব জল খান।

সারা গায়ে তেল মাখুন – শরীরের যে সব অংশে রং বেশি লাগার সম্ভাবনা থাকে সেই সব অংশে তো অবশ্যই, তা ছাড়াও সারা শরীরেই ভালো করে, বেশি করে তেল মাখুন। তেলের মধ্যে সাধারণ সরষের তেল, নারকেল তেল তো ব্যবহার করাই যায়। যদি আপনি আরও বিশেষ কোনো তেল ব্যবহার করতে চান সে ক্ষেত্রে অলিভ ওয়েল বা ভিটামিন ই ওয়েলও ব্যবহার করতে পারেন।

মাথায় তেল – চপচপে করে সারা মাথায় তেল দিন। লম্বা চুল থাকলে সঙ্গে লম্বা চুলেও। তার পর শক্ত করে চুল বেঁধে, গুটিয়ে নিন। এতে যতটা সম্ভব কম রং মাথায় বসবে।

ওয়াটারপ্রুফ সানস্ক্রিন – খেলতে নামার আগে ওয়াটারপ্রুফ সানস্ক্রিন লোশন লাগিয়ে নিন ভালো করে। তা না হলে রঙের ওপর দিয়ে রোদ ত্বকের বারোটা বাজিয়ে দেবে।

আরও পড়ুন : বাড়িতে বানান হোলি স্পেশাল কেশর প্যাঁড়া, মুখে দিন আর হারিয়ে যান

জামাকাপড় – চামড়াকে রঙের কুপ্রভাব থেকে বাঁচাতে একটা আরও কাজ আপনাকে রং খেলার আগে করে নিতে হবে। তা হল যতটা সম্ভব গা হাত পা ঢাকা জামাকাপড় পরুন। তাতে ত্বক রঙের সংস্পর্শে কিছুটা কম আসবে।

স্নানের পদ্ধতি – ঘষে ঘষে নয়, রং তুলতে হবে অনেকটা যত্ন নিয়ে। তা না হলে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই প্রথমেই টানা পাঁচ থেকে দশ মিনিট কল খুলে জলের নীচে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। তাতে রঙের বেশির ভাগটাই ধুয়ে যাবে। এর পর কম ক্ষারযুক্ত সাবান দিয়ে আলতো হাতে রঙ তুলতে হবে। মাথাতেও শ্যাম্পু ঘষতে হবে হালকা হাতে। তা না করলে চুলের গোড়া আলগা হয়ে যায়। চুল ঝরতে শুরু করে। স্নানের পর চুলে কন্ডিশনার আর গায়ে তেল বা বডি ক্রিম মাখতে ভুলবেন না।

প্যাক ব্যবহার – সাবানের পরিবর্তে হলুদ ও দই-এর একটা মিশ্রণ বানিয়ে নিয়ে তা দিয়েও হালকা করে মাসাজ করে রং তোলা যায়। এ ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধীরে ধীরে হালকা হাতে মিশ্রণটি সারা গায়ে মাখাতে হবে। তা ছাড়াও বেসন ও দুধ দিয়েও একটা প্যাক বানিয়ে নিয়ে বা শুধু অলিভ ওয়েলও একই ভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে। তার পর বেশি করে জল দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

স্নানের পরে রূপচর্চা – রং খেলার পর স্নানের পরেও চামড়ায় একটা অতিরিক্ত শুষ্ক ভাব থাকে। তা দূর করা যেতে পারে বাড়িতে তৈরি একটা অতি সাধারণ প্যাকের সাহায্যেই। খানিকটা লেবুর রস, এক চিমটে চন্দনের গুঁড়ো, খানিকটা টক দই, একটুখানি মধু মিশিয়ে নিয়ে মুখে হালকা হাতে মালিশ করুন। বিশেষ করে কানের পাশ, চোখের কোল, নাকের দু’ পাশে খাঁজ ঠোঁটের ওপর আর নীচে – এই সব অংশে রঙ জমে থাকে। উঠতে চায় না। তাই এই সব অংশের ওপর নজর দিতে হবে বেশি। এর পর কিছুক্ষণ রেখে জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিলেই হল। তার পর দেখবেন ত্বক কেমন জেল্লা দিচ্ছে।

ত্বকের স্বার্থে সাবধানতা –  এর পরও যদি সামান্য রং কোথাও লেগে থাকে তা হলে অধৈর্য্য হবেন না। দু’ দিন সময় দিলেই স্বাভাবিক উপায়েই রং উঠে যাবে। রং তুলতে জোড় করে স্ক্রাবার বা বাথ সল্ট ব্যবহার না করাই মঙ্গল। তাতে ত্বকের খারাপ বৈ ভালো হবে না। পারত পক্ষে রং খেলার পর দু’ দিন রোদে না বেরোনোই ভালো।

কয়েকটি জরুরি কথা এই সুযোগে বলে রাখি,

  • আপনার যদি কন্ট্যাক্ট লেন্স থাকে তা হলে মনে করে খেলতে নামার আগে সেটা খুলে রাখুন।
  • রং খেলার সময় সানগ্লাস ব্যবহার করুন।
  • চেষ্টা করুন প্রাকৃতিক জিনিস থেকে তৈরি ন্যাচারাল কালার ব্যবহার করতে। দামে সস্তা হলেও রাসায়নিক রং ব্যবহার করবেন না। তাতে ত্বকের ক্ষতি হয়।
  • রং খেলার সময় কোনো ভাবে চোখে রং ঢুকে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন।
  • ত্বকের কোনো অংশে জ্বালা বা চুলকানি বা যে কোনো রকম অস্বস্তি অনুভব করলে সেই জায়গা পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ঠান্ডাই বা মিষ্টি কোনো কিছুই বেশি ঠান্ডা খাবেন না। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এনে খান। কারণ এই সময়ে সর্দিকাশি লেগেই থাকে। তার ওপর রোদে দোল খেলতে খেলতে ঠান্ডা কিছু খেয়ে ফেললে তা মারাত্মক হতে পারে।
  • যাঁদের টানের কষ্ট আছে তাঁরা পারলে শুকনো রং নিয়ে খেলবেন না।
  • এ বার একটু আশেপাশের পশুপাখিদের কথায় আসি। নিজের আনন্দের জন্য পশুপাখিদের গায়ে রং দেবেন না। এই রং ওদের ত্বকের আর শরীরের ক্ষতি করে।

আপনার দোল উৎসব আনন্দে কাটুক

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here