আত্রেয়ী রায়

নিজেকে সকলের মাঝে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে প্রতিটি মানুষই চায়। আর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাজসজ্জা হচ্ছে বিয়ের সাজ। যা স্মৃতি হয়ে থাকে বাকি জীবন। তাই প্রত্যেকেরই আশা থাকে, চেষ্টা থাকে, যেন কোনো অপূর্ণতা না থেকে যায়। তাই খেয়াল রাখা প্রয়োজন সাজসজ্জার অনেক বিষয়েই। প্রথমেই আসা যাক বিয়ের ও বউভাতের শাড়ির ব্যাপারে।

বাঙালি নারীর সৌন্দর্য আর ব্যক্তিত্ব শাড়িতেই সবচেয়ে ভালো ফুটে ওঠে। অনেক আগে বউয়ের শাড়ি মানেই ছিল লাল টুকটুকে বেনারসি। মাঝখানে অনেকেই ঝুঁকেছিলেন বিদেশি শাড়ির দিকে। অধুনা দেশি শাড়ি ফিরে আসছে স্বমহিমায়।

উজ্জ্বল বাহারি রং আর কারুকাজের শাড়ির সমারোহ বিয়েতে অন্য রকম মাধুর্য নিয়ে আসে। বিয়ের পর্বটা শেষ হলেই চলে আসে বউভাত। বউভাতে শাড়ির সাজে এমন স্নিগ্ধতা থাকা চাই, যেন নবপরিণীতা বধূর চেহারায় ফুটে ওঠে প্রসন্ন ও মনোমুগ্ধকর আবেদন।

শাড়ি

বিয়ে বললেই যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে লাল রং। বিয়েতে তাই বেছে নিন লাল শাড়ি। একেবারেই লাল পরতে না চাইলে আছে মেরুন, জাম, গাঢ় নীল, বেগুনি বা গোলাপি। বিয়ের দিন বেছে নিন সবচেয়ে জমকালো শাড়িটি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই ঐতিহ্যবাহী শাড়িটি বেছে নিন। উপাদান হতে পারে জামদানি, বেনারসি, কাতান, টিস্যু বা মসলিন। পেটানো জরিতে মিনা করা, সিকোয়েন্সের ভারী কাজ, এমব্রয়ডারি, মুক্তো বা কুন্দনের কাজ করা শাড়ি বেছে নিতে পারেন।

weeding saree

বউভাতে বেছে নিন ফ্যাশনেবল, ট্রেন্ডি হালকা কাজ ও রঙের শাড়ি। রং হতে পারে সোনালি, পেঁয়াজি, সফট পিংক, পিচ এমকি সাদাও। বউভাতে ভালো লাগবে সিফন, মসলিন আর হালকা কাজের জামদানি। সঙ্গে নিন বিপরীত রঙের ওড়না।

weeding saree

শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজের ডিজাইন নিয়ে একটু গবেষণা করতে পারেন, এখন তো কোল্ড শোল্ডার ভীষণ ইন৷ তার সঙ্গে ফেদার, সিক্যুইন, টাসেল, ফ্রিঞ্জ – এগুলো খুব সুন্দর করে ব্যবহার করা যেতে পারে।

শাড়ি কেনার সময় যে বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন :

  • আপনার গায়ের রং শ্যামলা বা চাপা হলে একটু গাঢ় রঙের শাড়ি বেছে নিন। যেমন ব্লাড রেড, গাঢ় নীল বা গোলাপি। পেঁয়াজ বা বেগুনি রঙের শাড়ি মানিয়ে যাবে সবাইকে।
  • যদি উচ্চতা কম হয়, তাহলে বেছে নিন সরু পাড় বা পাড় ছাড়া শাড়ি। উচ্চতা ভালো হলে চওড়া পাড়ের শাড়ি পরুন।
  • আপনার গড়ন রোগা হলে ভারী শাড়ি বেছে নিন। শাড়িটি হতে পারে টিস্যু বা মসলিনের আর ভারী কাজের।
  • ভারী গড়ন হলে বেছে নিন সফট মেটেরিয়ালের গাঢ় রঙের শাড়ি। যেমন শিফন বা জর্জেট।

গয়না

বিয়ের দিন সাধারণত সোনার গয়না পরা হয়, তাই বউভাতের দিন মুক্তোর গয়না পরতে পারেন। দেখতে ভালো লাগবে। আর এতে বিয়ে ও বউভাতের সাজেও ভিন্নতা থাকবে। যদি মুক্তোর গয়না পরেন তাহলে কোনো ধরনের সোনা না পরলেই ভালো। এ ছাড়া চাইলে রুপোর গয়নাও পরতে পারেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here