ডাক্তারের চেম্বার থেকে: মশলার গুণাগুণ

0
1293

অরিত্র খাঁ, পুষ্টিবিদ

খাবার দাবারের ক্ষেত্রে নানান ধরনের কথাবার্তা শোনা যায়। কেউ বলেন খাবারে যতটা কম মশলা খাওয়া যায় ততই ভালো। কেউ বলেন তেল কম খান, মশলায় ক্ষতি নেই। তর্ক তর্কের জায়গায় থাকুক। আমরা শুধু আমাদের নিত্য ব্যবহৃত মশলাগুলির গুণাগুণ জেনে নিই।

আাদা

  • রক্তের অনুচক্রিকা এবং হৃদযন্ত্রের কাজ ঠিক রাখতে আদা দারুণ কার্যকর। আদা হজমশক্তি বাড়ায়।
  • দেহের কোথাও ক্ষতস্থান থাকলে তা দ্রুত শুকোতে সাহায্য করে আদা। এতে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি এজেন্ট, যা যে কোনো কাটাছেঁড়া, ক্ষতস্থান দ্রুত ভালো করে। পেশি ব্যথায় আদা কার্যকর।
  • আদা কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। মাইগ্রেনের ব্যথা ও ডায়াবেটিস জনিত কিডনির জটিলতা দূর করে আদা।
  • প্রতিদিন মাত্র ২ গ্রাম আদার গুঁড়ো ১২ সপ্তাহ ধরে খেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ১০ ভাগ কমে।
  • আদার মধ্যে রয়েছে ক্যানসার প্রতিরোধক উপাদান। এটি কোলনের ক্যানসার কোষ ধ্বংস করতে সাহায্য করে। ওভারির ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করে আদা।
  • আদার মধ্যে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও বায়োঅ্যাকটিভ উপাদান মস্তিষ্কের অকালবার্ধক্য কমাতে সাহায্য করে। এতে স্মৃতিশক্তি বাড়ে।
  • আদা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আমাশয়, জন্ডিস, পেট ফাঁপা রোধে আদা চিবিয়ে বা রস করে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
  • ঠান্ডায় আদা ভীষণ উপকারী। এতে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট, যা শরীরের রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করে।

রসুন

  • খালি পেটে রসুন অ্যান্টিবায়োটিক-এর মত কাজ করে।
  • খালি পেটে রসুন খাওয়ার ফলে যকৃত এবং মূত্রাশয় ঠিকভাবে নিজের কাজ করে। রসুন হজম ও ক্ষুধার উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। রসুন স্ট্রেস দূর করতেও সক্ষম।
  • অন্যান্য ওষুধের তুলনায় শরীরকে ডি-টক্সিফাই করতে রসুন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। রসুন প্যারাসাইট, কৃমি , ডায়াবেটিস, বিষণ্ণতা এবং ক্যান্সার-এর মত বড়ো বড়ো রোগ প্রতিরোধে উপকারী।
  • আপনি যদি প্রতিদিন সকালে টিফিন শেষে এক কোয়া রসুন গিলে ফেলেন, তাহলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ঋতু পরিবর্তনের সময় স্বাস্থ্যগত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
  • ২/৩ টি রসুনের কোয়া কুচি করে সামান্য ঘিয়ে ভেজে নিন। এটি সবজির সঙ্গে কিংবা এমনি খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে হজমের নানা সমস্যা থেকে দূরে থাকবেন এবং কোস্টকাঠিন্যের সমস্যা সমাধান হবে।
  • হৃদপিন্ডের সুস্থতায় রসুন উপকারী। রসুন কোলেস্টরল কমাতে খুবই সহায়ক।
  • কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে থাকে এই রসুন।গলব্লাডার ক্যান্সার হওয়া থেকেও মুক্ত রাখে। মেয়েদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। এমনকি রেক্টাম ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা করে।
  • রসুন পেটের কৃমি নিরাময়ে উপকারী।
  • সুতরাং রসুন দেহের অভ্যন্তরীণ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং কৃমি ধ্বংস করে।

হলুদ

  • ত্বকের বিভিন্ন সমস্যায় হলুদ উপকারী
  • এলার্জি জাতীয় অসুখে হলুদ উপকারী
  • পেটের সংক্রমণ দমনে হলুদ খুবই কার্যকর।
  • কৃমি সারাতে কার্যকর
  • গ্যাস-অম্বল থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে কাঁচা হলুদ।
  • মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে কাঁচা হলুদ। নিয়মিত কাঁচা হলুদ খেলে অ্যালঝাইমার্স, ডিমেনশিয়া সহ মস্তিষ্কের বেশ কিছু সমস্যার সমাধান হয়।
  • এমনকি ক্যানসার নিরোধক হিসেবেও কাজ করে কাঁচা হলুদ।
  • কাঁচা হলুদ হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে । ফলে নিয়মিত কাঁচা হলুদ খেলে হার্টের সমস্যা আপনার কাছে ঘেঁষতে পারবে না।
  • নিয়মিত কাঁচা হলুদ খেলে আর্থারাইটিসের সমস্যা অনেকাংশেই ভালো হয়ে যায়।
  • স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধকারী ও অন্ত্রের ক্যান্সার নিরাময়কারী।
  • শিশুদের লিউকিমিয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।
  • চর্বি বিপাকে সাহায্য করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ করে।
  • মানসিক অবসাদ রোধ করতে ব্যবহৃত অ্যান্টি ডিপ্রেস্যান্টের কাজও করে ।
  • হলুদের অন্য এক উপাদান ‘পলিফেনল’ চোখের অসুখ ‘ক্রনিক অ্যান্টিরিয়ার ইউভেইটিস’ সারাতে কর্টিকোস্টেরয়ডের কাজ করে।

জিরা

  • জিরা ভেজান জল ওজন কমাতে সাহায্য করে।
  • আয়রনের একটি উৎস হল জিরা। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে জিরায় থাকা আয়রন গুরুত্বপূর্ণ।
  • জিরা রক্তশূন্যতায় উপকারী।
  • জিরা অ্যাসিডিটি কমাতে সাহায্য করে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় যারা ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে জিরা ভেজান জল উপকারী।
  • জিরা অনিদ্রাজনিত রোগে উপকারী।
  • জিরাতে আছে ‘অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামাটরি’ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান। যা হজমে সাহায্য করে, হৃৎক্রিয়া ঠিক রাখে। জিরা লোহার ভালো উৎস এবং এটি কমে যাওয়া হিমোগ্লোবিনের মাত্রা পুনরায় ঠিক করতে সাহায্য করে।

এছাড়া

  • মরিচ, লবঙ্গ, দারুচিনি ও এলাচ খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।
  • যাদের টাইপ-টু ডায়াবেটিস আছে তাদের জন্য দারুচিনি বেশ উপকারী।এটি রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়।
  • দারুচিনি স্মৃতিশক্তি বাড়াতে এবং হৃদয় সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
  • ধনেগুড়োতে আছে রক্তের কোলেস্টেরল ও রক্তের শর্করা কমানোর উপাদান।
  • আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে লবঙ্গকে দাঁতের সব রোগের সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  • এছাড়াও লবঙ্গতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এবং ওমেগা-সিক্স ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়।
  • দারুচিনি, গোল মরিচ ও জিরায় আছে ক্যান্সার প্রতিরোধক ক্ষমতা।
  • গোলমরিচ ক্ষুধা ও বিপাক ধীর করে ফলে ওজন হ্রাস পায় তাছাড়া মরিচ ত্বকের পক্ষেও বেশ ভালো।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here