আসল এসেনশিয়াল ওয়েল চেনার ৬টি উপায়

0
essential-oil
প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক : বর্তমানে নানান কারণে এসেনশিয়াল অয়েলের ব্যবহার খুবই বৃদ্ধি পেয়েছে। এই এসেনশিয়াল অয়েল হল গাছগাছড়ার বিভিন্ন অংশ থেকে তৈরি তেল। গাছের পাতা, ফুল, বীজ, শিকড় ইত্যাদি থেকে বের করা নির্যাস। এই এসেনশিয়াল ওয়েল চিকিৎসা সংক্রান্ত একাধিক কাজে ব্যবহার করা যায়। তা ছাড়া রূপচর্চা, রান্না, ঘরের বিভিন্ন প্রয়োজনে এর ব্যবহার অপরিহার্য। এ ছাড়াও ম্যাসাজ ও অ্যারোমাথেরাপিতেও এর ব্যবহার হয়।

ব্যবহার যখন নানা বিবিধ, তখন উপযুক্ত এসেনশিয়াল অয়েল কেনারও দরকার। এই অয়েল কিনতে গেলেও অন্যান্য দ্রব্যের মত গুণমান আসল নকল বিষয়টি তো অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

আসল-নকল যাচাই করার ক্ষেত্রে অবশ্যই কিছু বিষয় জেনে রাখা দরকার। রইল তেমনই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়-

১। বিশুদ্ধতা –

এসেনশিয়াল অয়েল বিশুদ্ধ না হলে তা কোনো কাজেই লাগবে না। তাই এটি বিশুদ্ধ বা আসল কিনা তা খেয়াল রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে বিক্রি হওয়া সব ধরনের এসেনশিয়াল অয়েলই কিন্তু সম্পূর্ণ খাঁটি নয়। কোনো কোনোটায় খুব সামান্য পরিমাণ এই তেল দেওয়া থাকে। কোনোটাতে থাকেই না। সুতরাং, খুব মনোযোগ দিয়ে লেবেলটি পড়তে হবে। যদি অনলাইনে কেনা হয়, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই রিভিউ পড়ে দেখে নিয়ে তবে কেনা উচিত।

২। কাচের শিশি –

অনেক সময় এসেনশিয়াল অয়েল পাওয়া যায় প্লাস্টিকের বোতলে আবার কখনও কখনও পাওয়া যায় নানান ধরনের কাচের শিশিতে। তবে অন্য কোনো কিছুর থেকে তেলটি যদি নীল রঙের কাচের শিশি বা খয়েরি রঙের কাচের শিশিতে পাওয়া যায়, সেটাই কেনা উচিত। কারণ প্লাস্টিকের স্বচ্ছ বোতল বাইরের আলো থেকে তেলকে আড়াল করতে পারে না। ফলে তেলটির গুনাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই এই বিষয়টিও অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

৩। অর্গানিক –

চেষ্টা করা উচিত অর্গানিক এসেনশিয়াল অয়েল কেনার। তাতে যেমন বিশুদ্ধতা ধরা থাকে, তেমনই এর কার্যকারিতা, গুণগত মানও অনেক বেশি হয়। উপকার পাওয়া যায় অনেক বেশি। তবে হ্যাঁ, এর দাম কিছুটা বেশি হয়। দামে সামান্য বেশি বলে একে ফেলে অন্যটা কেনা কিন্তু বোকামো হবে।  

৪। প্রয়োজনীয় কোনটা –

বাজারে অনেক এসেনশিয়াল অয়েল পাওয়া যায়। অর্থাৎ নানা ধরনের। সে ক্ষেত্রে প্রত্যেকটির গুণ ও কাজ আলাদা। ফলে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বা অন্য যে কোনো ক্ষেত্রেই তাদের কার্যকারিতা এক নয়। তাই এই তেল কেনার আগে নিজের প্রয়োজনীয়তা বা সমস্যা কী তা ভালো করে জানতে হবে। সে মতো এসেনশিয়াল অয়েল বাছাই করতে হবে। এই বাছাইয়ের ব্যাপারটিতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

৫। ল্যাটিন নাম –

এসেনশিয়াল অয়েল কেনার জন্য আরও একটি বিষয় জানা জরুরি। তা হল এর ল্যাটিন নামটা কী? অর্থাৎ প্রত্যেক ধরনের এসেনশিয়াল অয়েলের একটি করে ল্যাটিন নাম থাকে। সেটা জানা দরকার। তাতে নিজের প্রয়োজনীয় তেল খুঁজে পেতে অনেক সুবিধা হবে। তা ছাড়াও একটি জরুরি বিষয় হল, প্রত্যেক ধরনের আসল এসেনশিয়াল অয়েলের বোতলের গায়ে লাগানো লেবেলে দু’টি নাম লেখা থাকে। একটি প্রচলিত নাম এবং একটি ল্যাটিন নাম। এই ল্যাটিন নামটি শিশির লেবেলে লেখা থাকার মানে হল আসল তেলটি পাওয়া যাচ্ছে, নকল নয়।

৬। তৈরির প্রক্রিয়া –

কী উপায়ে তেলটি তৈরি হয়েছে, তেলটির বিশুদ্ধতার ব্যাপারে সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ এই প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপরও তেলের গুণগত মান নির্ভর করে। বিভিন্ন উদ্ভিদের তেলের প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি বিভিন্ন হয়। এই কাজে সব থেকে প্রচলিত পদ্ধতি হল বাস্পীভূতকরণ বা পাতন। তা ছাড়াও কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোল্ড প্রেস ব্যবহার করা হয়।

তা হলে আর কী? এ বার থেকে এসেনশিয়াল অয়েল কেনার সময় অবশ্যই এই বিষয়গুলি মাথায় রেখে এবং চোখ খোলা রেখে তবেই কিনতে হবে। তবেই ঠিক জিনিসের ঠিক উপকারটি লাভ করা যাবে।   

পড়ুন – পুরোনো ঘর নতুন করে তোলার একগুচ্ছ টিপস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.