শীতকালে ছেলেদের চুলের যত্নের ঘরোয়া টিপস

0
haircare
প্রতীকী

ওয়েবডেস্ক : রূপচর্চা বা চুলের যত্ন মানেই যে শুধু মেয়েরা করবে তা কিন্তু নয়। এখন সব কঠিন কাজে ছেলেদের পাশাপাশি যেমন মেয়েরা এগিয়ে আসছে তেমনই সব রকম ভাবে নিজের সৌন্দর্য ধরে রাখা বা নিজেকে সুন্দর করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় প্রচেষ্টায় আজকাল ছেলেরাও এগিয়ে আসছে। এখন ছেলে বা পুরুষরা কিন্তু রূপচর্চার বা চুলের যত্নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। তারাও এখন রীতি মতো এই বিষয়গুলিতে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

এখন যেহেতু শীতকাল তাই স্বাভাবিক ভাবেই যে কোনো মানুষেরই নিজের চুল ত্বক ইত্যাদির ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন নেওয়া উচিত। আর সেই যত্নের ক্ষেত্রে চুলের যত্ন কিন্তু একটি বিশেষ ভূমিকা রাখে। কারণ হল এই সময়ে খুসকির প্রকোপ বাড়ে। ফলে চুল যেমন রুক্ষ্ম শুষ্ক হয়ে যায় তেমনই ডগা ফাটা, ঝরে পড়া, মরামাস ইত্যাদির সমস্যা থাবা বসায়।

সে ক্ষেত্রে যাদের ঘরের বাইরে বেশি সময় কাটাতে হয় তাদের এই সমস্যায় বেশি জড়িয়ে পড়ার ব্যাপারটা অস্বীকার করা যায় না। কারণ রোদে ধুলোবালির ফলে ত্বকের সঙ্গে সঙ্গে চুলও তার স্বাভাবিক কমনীয়তা হারায়। ম্লান হয়ে যায়। তাই অবশ্যই দরকার নিয়মিত যত্নের।

সব কিছু ছেড়ে দিয়েও ছেলে হোক বা মেয়ে চুল শরীরের একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় অংশ। তাই নিয়মিত চুলের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন ছেলেদেরও।

সাধারণ পন্থা –

১। খুব সাধারণ ভাবে হলেও যেটি অবশ্যই করা দরকার তা হল, চুলে নিয়মিত তেল দেওয়া, নিয়ম করে চুলে শ্যাম্পু করা, শ্যাম্পুর পরে কন্ডিশনার ব্যবহার করা।

২। চুলকে আতরিক্ত পুষ্টি দিতে অল্প কিছু সময় হাতে থাকলে সপ্তাহে অন্তত একবার চুলে হেনা ব্যবহার করা ভালো।

ঘরোয়া টিপস –

তা ছাড়া আর একটু বেশি যত্ন করতে হলে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি বা টিপস তো প্রয়োগ করাই যায়। তেমনই কয়েকটি খুব সাধারণ ও সহজ টিপস হল

১। হট অয়েল

শীতের দিনগুলিতে সবচেয়ে বেশি উপকার হট অয়েল ম্যাসাজে। নারকেল তেল, অলিভ অয়েল, বাদাম তেল ইত্যাদি যে কোনো চুলে মাখার তেল হালকা গরম করে তা হালকা হাতে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করে লাগাতে হবে। তা কম করে আধ ঘণ্টা বা ৪০ মিনিট রেখে চুল ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে।

২। লেবু হট অয়েল

যাদের খুসকির সমস্যা ভোগাচ্ছে তারা এই গরম তেল বা হট অয়েল ম্যাসাজের সঙ্গে অবশ্যই পাতি লেবুর রস ব্যবহার করতে পারে। লেবুর রস খুসকি দূর করতে সিদ্ধ হস্ত। তার জন্য গরম তেল নিতে হবে – নারকেল, অলিভ, জলপাই, বাদাম বা যে কোনো মাথায় মাখার তেল। তার মধ্যে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ফেলে মিশিয়ে নিয়ে নিয়ম করে সপ্তাহে অন্তত দুই বা তিন দিন করলে ভালো ফল পাবে।

৩। তেল টকদই

লেবু ছাড়া টকদইও এই ট্রিটমেন্টে ভালো কাজ করতে পারে। তাই তেলের সঙ্গে টকদই মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে ব্যবহার করতে হবে। তবে টকদইটি ঘরে পাতা হলে বেশি ভালো। তা চুলের রুক্ষতা দূর করতে পারে।

৪। অ্যলোভেরা জেল

চুলকে কোমল মখমলের মতো করতে হলে অ্যলোভেরা জেল খুবই উপকারী। এই জেল শুধু চুল কোমল করে না, চুল ঝরে পড়াও অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

৫। লেবু পেঁয়াজের রস

পেঁয়াজের দাম আকাশ ছোঁয়া হলেও পেঁয়াজের গুণাগুণকে অস্বীকার করা যায় না। চুলের যত্নে আরও একটি কার্যকর টোটকা হল – লেবু ও পেঁয়াজের রস। লেবুর মতো পেঁয়াজও চুলের জন্য খুব খুব ভালো একটি উপকরণ। পাতি লেবু এবং পেঁয়াজ রস এক সঙ্গে মিশিয়ে চুলে মাখতে হবে। এতে খুসকি তো দূর হবেই, সঙ্গে জেল্লাও বাড়বে।

৬। ট্রিম

শীতের দিনের আরও একটি সমস্যা হল চুল রুক্ষ হয়ে ফেটে যাওয়া। তাই চুলের ডগা ফাটা দেখতে পেলেই দেরি না করে চুল ট্রিম করা বা ডগা ছেঁটে নেওয়া দরকার।

সাবধানতা –

১। চুলে কোন ধরনের প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে হবে তা নির্বাচনের ওপরও কিন্তু  চুল ঝরা বা না ঝরা নির্ভর করে। তাই পণ্য সতর্কতার সঙ্গে বাছাই করতে হবে। চুলের শ্যাম্পু, ডিপার কণ্ডিশনার ইত্যাদি সবই চুলের প্রকৃতি অনুযায়ী নির্বাচন করা দরকার। সে শুধু শীতকালে নয় সারা বছরই সে কথা প্রযোজ্য।

২। শীত কালের ভেজা চুলে ঠাণ্ডা লাগার সমস্যাটি একটি বড়ো ব্যাপার। তাই ভালো করে মাথা মোছা দরকার। তা ছাড়া স্নানের পরই ভেজা চুলে রাস্তায় বেরলে আরও একটি বিষয় হল শীতের দিনে উড়ন্ত অতিরিক্ত ধুলো-ময়লা চুল ও মাথার ত্বকে চেপে বসার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ফলে চুল ঝরে বেশি, রুক্ষ্মও হয় বেশি।

৩। যেহেতু শীতকাল তাই প্রয়োজনে চুল শুকাতে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা যায় ঠিকই। কিন্তু অবশ্যই মনে রাখতে হবে ড্রায়ার সব সময় যেন খুব কম তাপমাত্রায় ব্যবহার করা হয়। কারণ তা বেশি গরম থাকলে ত্বকের ক্ষতি করে। সঙ্গে সঙ্গে চুলকেও নষ্ট করে দেয়।

সাধারণ পরামর্শ –

১। শীত খুব বেশি পড়েছে, তাই ঠাণ্ডায় অনেকেই স্নান করতে ভয় পায়। কিন্তু একটা কথা বহুল প্রচলিত যে তেলে-জলে চুল বাঁচে। তাই চুলকে সুস্থ ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখতে অবশ্যই প্রতিদিন ভালো করে স্নান করা দরকার। যাতে চুলে কোনো ভাবেই ধুলো ময়লা জমতে না পারে। তা না হলেই চুলের সমস্যা শুরু হবে।

২। সুদর্শন হতে হলে ত্বক এবং চুলের যত্নে কোনো রকম গা ফিলতি হলে চলবে না। তাই সুন্দর চুল এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হলে এই পরামর্শ ও টিপসগুলি অবশ্যই পরোখ করতে হবে। ফল হাতেনাতে পাওয়া যাবে।

৩। এই সব কিছুর সঙ্গে আরও একটি বিষয় অবশ্যই সংযুক্ত করা দরকার তা হল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে সঙ্গে নিয়ম মতো ও পরিমাণ মতো পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। কারণ চুল বাহ্যিক যত্ন ছাড়াও খাবার বা খাদ্যদ্রব্য থেকে পুষ্টিগ্রহণ করে।

৪। সর্বোপরি যে বিষয়টি যে কোনো ক্ষেত্রে চলেই আসে, তা হল পর্যাপ্ত ঘুম। সব কিছু করে যদি পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে না দেওয়া যায়, তা হলে কিন্তু সব প্রচেষ্টাই বৃথা। তাই সর্বোপরি ঘুমটা শরীর ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই অন্যতম ও জরুরি বিষয়। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে অন্তত পক্ষে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম শরীরকে দেওয়া অবশ্যই দরকার। তাতে মন, স্বাস্থ্য, ত্বক ও চুল সবই সুস্থ এবং প্রাণবন্ত থাকবে।

আরও পড়ুন – শীতে বয়স্কদের যত্নে বিশেষ টিপস

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.