চুলের যত্নের সঙ্গে বদল করুন চুলের স্টাইল

ওয়েবডেস্ক: পুজোর বাকি আর হাতেগোনা কয়েকটা দিন। ত্বকের পরিচর্যার সঙ্গে দরকার চুলের পরিচর্যাও। পুজো মানেই কে নিজেকে কতটা সুন্দর করে সাজতে পারে তা নিয়ে একটা লড়াই প্রায় প্রত্যেকের মধ্যেই চলে। এখন আবার বড় চুল মাথায় রাখার প্রবণতা প্রায় সকলের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে।

শুধু বড় চুল মানেই যে সুন্দর, এই ধারণাটা কিন্তু ভুল। নিয়মিত পরিচর্যা করে ছোট বা মাঝারি চুলকেও নজরকাড়া করে তোলা সম্ভব। চুলের সমস্যা প্রখর ভাবে সমস্যা শুরু হওয়ার আগে থেকেই নিয়মিত রুটিন মাফিক চুলের যত্ন নিলে খুসকি, নির্জীবতা এবং চুল পড়ার মতো সমস্যাগুলো এড়ানো সম্ভব। আসুন আজকে জেনে নিই পুজোর আগে কী ভাবে চুলের যত্নের রুটিন মেনে চলা যায়।

যাঁদের চুল খুব পাতলা বা ফাইন টেক্সচারের, তাঁরা প্রথমেই চুলে একটা উপযোগী কাট দিন। মুখের সঙ্গে এবং পোশাকের সঙ্গে মানানসই হেয়ার কাট করুন। এতে চুলে একটু ভারী হবে। চুল অতটা পাতলা লাগবে না।

(ক) হেনা করা যেতে পারে। এতে চুল পড়ার সমস্যা থাকলে কমবে। পাতলা চুল বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হেয়ার ফলের কারণেই হয়। হেনার সঙ্গে একটা ডিম, অল্প দই মিশিয়ে নিন। এতে চুল অনেক পুষ্টি পাবে।

খুব ড্রাই হেয়ার হলে হেনা বেশি না করাই ভাল। কারণ হেনা করলে চুল সামান্য শুষ্ক হয়। যদি করতেই হয়, তবে ওর মধ্যে এক চামচ তেল মিশিয়ে নিন। হেনা খুব ভাল কন্ডিশনার। চুলের কন্ডিশনিং খুব ভালো হয়।

(খ) হেয়ার সিরাম অবশ্যই ব্যবহার করুন। কারণ সিরাম চুলকে দূষণ থেকে রক্ষা করে। স্পা করতে পারেন পুজোর আগে অন্তত দু’বার। এতে চুলের টেক্সচার ভাল হবে। চুল নরম, কোমল ও উজ্জ্বল হবে।

(গ) এই আবহাওয়াতে চুল একটু উসকোখুসকো থাকে। এ ক্ষেত্রে নারকেলের দুধ ব্যবহার করা যেতে পারে চুলে।

(ঘ) চুলের পুষ্টির জন্য নারকেল তেলে কারিপাতা ফুটিয়ে নিন। ছেঁকে নিয়ে চুলে ভালো করে ম্যাসাজ করুন সপ্তাহে অন্তত দু’দিন।

(ঙ) আমলকি, জবা ফুলের কুঁড়ি নারকেল তেলে ফুটিয়ে ভাল করে ছেঁকে মাথায় ম্যাসাজ করুন। এতে চুলের গোড়া শক্ত হবে।

(চ) চুল খুব ড্রাই হলে অলিভ অয়েল আর ডিম মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে নিন। এতে চুলের রুক্ষতা কমবে।

(ছ) মাথার ত্বকেরও এক্সফোলিয়েশন জরুরি। এক্ষেত্রে অল্প নুন নিয়ে মাথায় হালকা হাতে ঘসুন কিছুক্ষণ, তার পর শ্যাম্পু করে নিন।

পুজোর আগে অনেকে চুল নিয়ে নানা এক্সপেরিমেন্ট করেন। একটু নিজেকে পাল্টাতে চান। হেয়ার কাটিং ছাড়া, কেমিক্যাল ট্রিটমেন্টও করান চুলে। যদি কেউ তা করতে চান, তবে এখনই সঠিক সময়। কিছুদিন আগে কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট করানোই ভাল।

কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট এখন ইন। যেমন পার্মিং, স্ট্রেটনিং,  কেরা স্মুদ, কালারিং–যাই করুন না কেন,  কেমিক্যাল ট্রিটমেন্টের পর চুলের যত্ন খুব জরুরি,  কারণ এগুলোর ফলে চুল ড্রাই হয়ে যায়।

১। পার্মিং

পার্মিং হল চুল কার্ল করা। পার্মিং করলে চুল ঘন লাগে। বয়স হলে অনেকের চুল পাতলা হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে পার্মিং করলে চুল পাতলা লাগে না। কার্ল করলে নিয়মিত শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, সিরাম খুব জরুরি। হেয়ার মাস্ক খুব উপযোগী কার্লি হেয়ারের জন্য। পার্মিং করার পর চুল চিরুনি দিয়ে আঁচড়ালে চলবে না,  আঙুল দিয়ে ভেজা চুল শুকিয়ে নিয়ে সেট করতে হবে। ড্রায়ার দিয়েও শুকোতে পারেন। ড্রায়ারে ডিফিউজার লাগানো থাকলে ভাল, এতে চুলের কার্ল ভাল করে সেট করা যায়।

২। স্ট্রেটনিং

স্ট্রেটনিং হল পোকার স্ট্রেট। এর একটা আর্টিফিশিয়াল লুক থাকে।

আরও পড়ুন: চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কাজে লাগান এই ৬টি পুষ্টিকর খাবার

৩। স্মুদনিং

এটা হল আর্টিফিশিয়াল ভাবে স্ট্রেট না করে নর্মাল পদ্ধতিতে স্ট্রেটনিং করা। এতে ন্যাচরাল বাউন্স থাকে।

৪। কেরা স্মুদ

এই স্মুদনিং-এর ক্ষেত্রে চুলের গঠনগত কোনও পরিবর্তন হয় না। নিজের যা চুলের ধরন, সেই অনুযায়ী চুল রেখে স্টাইল করা হয়। কেরা স্মুদ করলে যার যেমন চুল, তেমনই থাকে, শুধু দেখতে সুন্দর লাগে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন