পুরোনো ঘর নতুন করে তোলার একগুচ্ছ টিপস

0
home
প্রতীকী ছবি

স্মিতা দাস

জামাকাপড়, সাজের জিনিস বা ঘর সাজানোর অন্যান্য সামগ্রী মাঝে মধ্যেই বদলে ফেলে যায়। কিন্তু একটি গোটা ঘর, ফ্ল্যাট বা বাড়ি তো চাইলেই বার বার বদল করা যায় না। বা ধরনও হুট বলতেই বদলে ফেলা সম্ভব নয়। অনেকেই বলবেন কেন ঘরের দেওয়াল আর জানলা দরজার রং বদলে নিলেই তো হল। হ্যাঁ তা হল বটে, কিন্তু তা সে কত বার, বলতে পারেন?

তা হলে এক ঘেয়ে ঘরে থাকতে থকতে যখন বিরক্তি লাগবে, মন একটু নতুনত্ব খুঁজবে তখন উপায় কী?

উপায় আছে। অনেকেই বলবেন, ঘর সাজানোর চারটি জিনিস কিনে এনে জায়গামতো বসিয়ে দিলেই মন ওই নতুন জিনিসে মেতে উঠবে। তা করা যায় ঠিকই। কিন্তু সকলের পক্ষে যেমন চাইলেই নতুন জিনিস কেনা সম্ভব নয়, তেমনই, অনেকের ঘরে নতুন করে কিছু কিনে ভরানোর জায়গা থাকে না। তা হলে উপায় কী? ঘরের একঘেয়েমি কি মনকে গ্রাস করবে?

কখনোই নয়। তার জন্য রয়েছে কিছু পরামর্শ।

১। পরিষ্কার করে ঘর গোছানো

প্রথমেই যেটা করা যেতে পারে তা হল, ঘরকে একদম টিপ টপ করে সাজিয়ে ফেলা। নতুন নয়, পুরোনো যেগুলি রয়েছে সেগুলি দিয়েই। তার জন্য একটু পরিশ্রম করতে হবে। অনেক দিন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না করার জন্য ঘরটা ম্যাড়ম্যাড়ে হয়ে যায়। তাই সর্বপ্রথম ঘরের সমস্ত জঞ্জাল দূর করে ধুলো ছেড়ে ফেলতে হবে। তার পর যেখানকার যা সেখানে তা সুন্দর করে গুছিয়ে রাখলেই একটি সুন্দর শান্তির ভাব ঘরের মধ্যে বিরাজ করবে। আর গোছানো পরিষ্কার পরিপাটি ঘর দেখতে পেলে চোখের শান্তি, সঙ্গে সঙ্গে মনেও শান্তি আসে এবং একঘেয়েমি কেটে যায়।

২। পর্দা

একটু সামান্য খরচ করার পরিস্থিতি যদি থাকে, তা হলে পরামর্শ হল এক সেট নয়। ঘরের সব জানলা দরজার পর্দা, টেবিল ক্লথ ইত্যাদি দুই সেট রাখা যেতে পারে। একই রঙের একঘেয়েমি কাটাতে মাঝে মধ্যেই পর্দা, টেবিল ক্লথ, বিছানার চাদর, সোফা সেটের কভার, কুশন কভার ইত্যাদি বদলে অন্য সেটটি ব্যবহার করা যেতে পারে। এক সঙ্গে সব কিছুর দ্বিতীয় সেট করা না সম্ভব হলে একটু একটু করে তৈরি করা যেতে পারে। এতে বাজেটে চাপ পড়ে না। তবে খেয়াল রাখতে হবে ঘরের সঙ্গে তা যেন অবশ্যই মানানসই হয় এবং দুটি সেট সম্পূর্ণ আলাদা রঙের ও ডিজাইনের হয়। তা হলেই পরিবর্তন মনকে ভালো লাগা এনে দেবে।

৩। আসবাব

পরের টিপস হল একটু পরিশ্রমসাধ্য। তবে একবার করতে পারলে বেশ কিছু দিনের জন্য একটি নতুনত্বের আমেজ মনকে ভরে দেবে। তা হল ঘরের যাবতীয় আসবাবের জায়গা বদল। যা যেখানে ছিল তা এক্কেবারে অন্য দিকে বা অন্য জায়গায় রাখতে পারলে মন্দ হবে না। অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে, গৃহসজ্জা করতে গিয়ে রোজকার রুটিনের পথে তা যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় যে জিনিসটি যেখানে রাখলে সব থেকে সুবিধে ছিল, রদবদল করার পর যেন তা নিয়ে নিজেকেই বিরক্ত হতে না হয়। বা কাজের অসুবিধে যেন না হয়। অনেক সময়ই আসবারের জায়গা বদলও মনকে নতুনত্বের স্বাদ দেয়।

৪। আলো

আলোর ব্যবহার করে বা আলোর ধরন বদলে দিলেও অনেক একঘেয়েমি দূর করা যায়। তার জন্য বুদ্ধি করে কোথায় কোন আলো দেওয়া যেতে বা কোন আলো কোথায় না দিয়ে অন্য কোথাও দিলে ঘরে আলো-ছায়া ভাব তৈরি হবে বা আরও উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে তা ঠিক করতে হবে। সেইমতো নতুন ভাবে আলোর ব্যবহার এবং তার বদল করেও নতুনত্বের ছোঁয়া পাওয়া যেতে পারে।

৫। ফুল

ফুল ভালোবাসে না এমন মানুষের সংখ্যা পৃথিবী খুব কমই আছে। তাই একঘেয়েমি কাটাতে মাঝে মধ্যেই ফুলের ব্যবহার করা যেতে পারে। তার জন্য ঘরে যদি আগে থেকেই ফুলদানি থাকে তো ভালো কথা, তা না হলে আজকাল বাজারচলতি নানাও ধরনের ফুলদানির কয়েকটি মাঝে মধ্যে সংগ্রহ করে রাখলে তা সময় বিশেষে ব্যবহার করা যেতে পারে। অথবা সহজ উপায় হল সুন্দর দেখতে কাচের গ্লাস বা বাটিতে অথবা বাতিল করা কফি মগেও ফুল সাজানো যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ঘরের মাঝখান বা কোণা, উঁচু জায়গা বা নিচু কোনো জায়গায় ফুল ভরা ফুলদানি রাখা যেতে পারে। তাতে সুন্দর রঙ ও সুন্দর গন্ধে মন ভরে যাবে। একঘেয়ে ভাবও কেটে যাবে। এ ক্ষেত্রে পছন্দের ফুল তো ব্যবহার করা যেতেই পারে। তা ছাড়াও মাঝে মধ্যে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে রকমারি ফুল বাছলে এক একবার এক এক রঙের আলাদা এফেক্ট মনকে আনন্দ দেবেই দেবে।   

৬। হাতে করা জিনিস

যদি মনের মধ্যে শিল্পভাবনা থেকে থাকে তা হলে তাকে কাজে লাগাতে পারা যায় একঘেয়ে পুরোনো ঘরকে নতুন করে তোলার জন্য। তার জন্য কম দামের কিছু সরঞ্জাম ব্যবহার করা যায়, তেমনই ব্যবহার করা যায় রোজকার জীবনে ফেলে দেওয়া বা বাতিল হয়ে যাওয়া অনেক জিনিসপত্র। যেমন – কাঠ, বোতল, প্লাস্টিটল, হ্যান্ডেল ভাঙা কফি মগ, পুরোনো কাচের বাটি গ্লাস বা বোতল, খবরের কাগজ ইত্যাদি। তাই দিয়ে ফুলদানি, কৃত্রিম ফুল, মোমদানি, টেবিল ল্যাম্প, শোপিস, টেবিল ল্যাম্প ইত্যাদি বানিয়ে ফেলা যেতে পারে এবং ঘরের বিশেষ বিশেষ জায়গায় তা রেখে নতুনত্ব আনা যেতে পারে।

পড়ুন – রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে লিক? সন্দেহ হলে মেনে চলুন এই ৭টি টিপস

তা হলে এ বার থেকে ঘর নিয়ে মনে একঘেয়েমি এলে আর বিরক্তি, মন-খারাপ এ সব নয়, এই টিপস এক একটি করে অ্যাপলাই করে দেখুন। অবশ্যই সুফল পাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.