খাঁটি মধু চিনবেন কী ভাবে? এক ডজন সহজ উপায়

2
hunny
প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: মধু হল উচ্চ ঔষধি গুণ সম্পন্ন একটি ভেষজ তরল। মধুতে আছে নানান উপকারিতা। এটি বহু রোগ নিরাময়ের ক্ষমতা রাখে

শুধু দেশ নয়, বিদেশেও এর কদর খুব। প্রাচীন কাল থেকেই গ্রিস ও মিশরে ক্ষত নিরাময়-সহ অন্যান্য নানান ক্ষেত্রেই মধু ব্যবহার করা হয়ে আসছে।

মধু এমন একটি তরল যা কখনও নষ্ট হয় না। তবে তাতে যদি ভেজাল থাকে তা হলে তা যেমন ক্ষতিকর, তেমনই তা দীর্ঘ দিন থাকেও না।

আজকাল নানান সংস্থার নামে মধু বাজারে বিকোচ্ছে। কিন্তু সব সময় সবটাই যে খাঁটি হয় তা কিন্তু নয়। সে ক্ষেত্রে খাঁটি মধু চিনে নিতে না পারলে তা যে প্রয়োজনেই ব্যবহার করা হোক না কেন তা উপযুক্ত ফল দিতে পারে না।

শুধু তাই নয়, ভেজাল মধুতে অনেক রাসায়নিক পদার্থও মেশানো থাকে। যা উলটে ক্ষতিকারক হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই মধু ব্যবহার করার আগে যদি যাচাই করে নেওয়া যায় সেটি আসল না নকল তা হলে আর সমস্যায় পড়তে বা ঠকতে হয় না। তাই রইল মধু খাঁটি না ভেজালযুক্ত তা বুঝে নেওয়ার সহজ কয়েকটি উপায়।

১। খালি হাতে মধু খাঁটি না নকল তা বোঝার সহজ উপায়ই হল মধুর ঘনত্ব দেখে চেনা। মধু আসল হলে তা অনেক বেশি ঘন, মোটা হবে। তা গড়িয়ে পড়তে চাইবে না। তাই মধুর মধ্যে একটি আঙুল ডুবিয়ে তুলে নিলে দেখা যাবে তা সহজে গড়িয়ে আঙুল বেয়ে পড়ছে কিনা। আবার আঙুল নীচের দিকে করলে দেখা যাবে তা আঙুল থেকে টপে পড়ছে কিনা। এই দুই ক্ষেত্রেই যদি মধু খুব সহজেই গড়িয়ে যায় বা টপে যায় তা হলে বুঝতে হবে তা নকল। কারণ আসল হলে মধু গড়াতে চাইবে না। অনেকটা বেশি পরিমাণ থাকলেও অনেক দেরিতে গড়াবে।  

২। মধুর গন্ধ খুবই সুন্দর হয়। কোনো রকম বাজে গন্ধ মধুতে থাকে না। উলটে গন্ধ শুকেই খেতে লোভ হবে। কিন্তু যদি মধুটি নকল বা ভেজালযুক্ত হয় তা হলে তাতে একটি বাজে গন্ধ ছাড়বে।   

৩। মধু আসল বা খাঁটি হলে তার স্বাদ হবে মিষ্টি। এতে কোনও ঝাঁঝালো ভাব থাকবে না। কিন্তু মধু নকল হলে স্বাদ অন্য রকম হবে।

৪। মধু আসল কিনা তা একটি পরীক্ষা করেও দেখা যেতে পারে। একটি পাত্রে খানিকটা জল নিতে হবে। সেই জলে এক চামচ মধু দিয়ে দেখতে হবে জলে মধু মিশে যাচ্ছে কিনা। স্পষ্ট ভাবে যাচাইয়ের জন্য ভালো করে নাড়িয়ে দিয়েও দেখা যায়। যদি সহজেই পুরোটা মিশে যায়, তা হলে বুঝতে হবে যে এই মধু নকল। কারণ আসল মধুর ঘনত্ব অনেক বেশি। তা জলে মিশতে পারে না। খানিকটা মিশে গেলেও খানিকটা নিচে বা ওপরে অদ্রাব্য অবস্থায় থেকে যাবে।

৫। অনেক সময় মধু বাড়িতে দীর্ঘ দিন থাকলে জমে যায়। আবার শীতের দিনে বা ফ্রিজে রাখলেও মধুর নিচে চিনির মতো জমে যায়। সেটা কিন্তু রাখাপ কিছু নয়। তবে এ ক্ষেত্রে একটি পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া যায়, যে মধুটি খাঁটি নাকি ভেজাল। সেই ক্ষেত্রে জমে যাওয়া মধুর শিশিটি একটি গরম জলের পাত্রে বসিয়ে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যে তা আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু যদি এই মধু নকল হয়, তা হলে তা গলে স্বাভাবিক হবে না। জমাট বেঁধেই থাকবে।

৬। একটি ছোট্টো সাদা কাপড়ে মধু মাখিয়ে আধ ঘণ্টা মতো রেখে দিতে হবে। তারপর কাপড়টি জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। ধোওয়ার পর মধুর দাগ যদি উঠে যায় তা হলে বুঝতে হবে তা খাঁটি মধু এবং দাগ রয়ে গেলে বুঝতে হবে মধুটি খাঁটি নয়।

৭।  মধু খাঁটি কিনা পরীক্ষা করে দেখা যায় ব্লটিং পেপারের সাহায্যেও। তার জন্য লাগবে ব্লটিং পেপার ও মধু। এক টুকরো ব্লটিং পেপারে কয়েক ফোঁটা মধু দিতে হবে। কাগজে মধুটা সম্পূর্ণ শুষে নিলে বোঝা যাবে মধুটি খাঁটি নয়। আর শুষে না নিলে মধুটি খাঁটি।

৮। যদি মধু আসল হয় তা হলে পাশ করে যাবে মোমবাতির এই পরীক্ষাটিও। এর জন্য প্রথমে একটি মোমবাতি নিয়ে সেটির সলতে ওই মধুতে ভালো করে ডুবিয়ে নিতে হবে। এ বার আগুন দিয়ে সেই মোমবাতিটি জ্বালানোর চেষ্টা করতে হবে। এতে সলতেটি যদি সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে ওঠে তা হলে বুঝতে হবে ওই মধুটি আসল। আর মোমবাতিটি যদি না জ্বলে ওঠে, তা হলে বোঝা যাবে তা নকল। মধুতে জল মেশানো আছে।

৯। একটি মজার বিষয় হল মধু আসল না নকল তা চিনিয়ে দেবে পিঁপড়েরাও। পিঁপড়া যদি মধু খেতে না আসে তবে তা বুঝতে হবে খাঁটি মধু। কিন্তু যদি পিঁপড়ে ধরে মধুতে, তা হলে বুঝতে হবে ভেজাল মেশানো আছে ওই মধুতে।

১০। ভিনিগার দিয়ে পরীক্ষা করা যায় মধু আসল না নকল। এই পরীক্ষার জন্য এক চামচ মধু নিতে হবে। তাতে সামান্য জল মেশাতে হবে। সঙ্গে দিতে হবে দুই তিন ফোঁটা ভিনিগার। এই ভিনিগার দেওয়া মাত্রই যদি মিশ্রণে ফেনা ওঠে তা হলে বুঝতে হবে এতে ভেজাল, অন্য কোনো দ্রব্য মেশানো আছে।  

১১। মধুর আসল নকল বিচার করা যায়, তাপমাত্রার সাহায্যেও। মধুতে তাপ দিলে ক্যারামেলের মতো হয়ে ফেটে যায়। কিন্তু এটি যদি নকল হয় তা বুদবুদের মতো হয়ে যাবে। ফেনা উঠবে।

১২। মধু আসল কি নকল তা জানার জন্য আরও একটি মজার আর সহজ উপায় আছে। তা হল দেশলাই কাঠির পরীক্ষা। ওই মধুর মধ্যে একটি দেশলাই কাঠি ডুবিয়ে তা দেশলাই বাক্সের বারুদের গায়ে ঘষে সাধারণ ভাবে ওই কাঠিটি জ্বালানোর চেষ্টা করলে তা যদি জ্বলে যায় তা হলে মধুটি খাঁটি, না জ্বললে মধুটি নকল বুঝতে হবে।

মধুর প্যাক দিয়ে দূর করুন চোখের নীচের বলিরেখা

সূত্র – ইন্টারনেট

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.