সুখী দাম্পত্য জীবন পেতে এই ৪টি পরামর্শে মোটেই কান দেবেন না

0
married
প্রতীকী ছবি

ওয়েভডেস্ক: আজকাল বিয়ের জন্য উপযুক্ত সঙ্গী পাওয়া খুবই কঠিন কথা। তার ওপর বিয়ের অল্প দিনের মধ্যেই বিভিন্ন কারণে বিবাহবিচ্ছেদ চারদিকে এখন জলভাত। তাই অনেকেই একটু আতঙ্কে থাকেন নিজেদের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে। আবার অনেকেই তো বিয়ের পথেই হাঁটতে চান না।

তবে যাঁরা ইতিমধ্যেই বিয়ে করে ফেলেছেন এবং একটি সুন্দর বিবাহিত জীবন কাটাচ্ছেন, তাঁদের জন্য বলি এই সুন্দর জীবনকে দীর্ঘায়ু দিতে অনেকেই অনেক পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এটা করবে, ওটা করবে না। এটি ঠিক, ওটি ভুল -এমন কিছু। তবে অভিজ্ঞতা মানুষের উপকার করলেও, বিয়ে এমনই একটি সংবেদনশীল ব্যাপার যে অনেক সময়ই সামান্য কারণেই তাতে সমস্যা দানা বাঁধে, সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে। তাই চোখবুজে সকলের সব কথা মেনে চলা ঠিক নয়। নিজেদের সম্পর্কের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া ও কাজ করা উচিত।

তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ হল, আত্মীয়-বন্ধুদের এই পরামর্শ বা উপদেশগুলি না মানাই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে উপকারী।

১) এমনই একটি সাংঘাতিক পরামর্শ হল সন্তান এলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু তা কী করে সম্ভব। কারণ সমস্যার মধ্যে সন্তান আনা মানে তাকে একটি অসুস্থ পরিবেশ উপহার দেওয়া। অভিভাবক হিসাবে কখনও তা করা উচিত নয়। তাই ছোটো বা বড়ো যে কোনো সমস্যা আগে সমাধান করে তার পরই সন্তানের জন্ম দেওয়া উচিত।  

সাবধান হন – আপনার দাম্পত্যে এই ৪টি বিষয় মাথাচাড়া দিচ্ছে না তো!

২) একটি বিবাহিত সম্পর্কের মূল উপাদান যেমন সমঝোতা, সহনশীলতা, একে অপরের প্রতি আস্থা বিশ্বাস ও ভালোবাসা। তেমনই আরও একটি বিষয় দাম্পত্য জীবনকে সুখের করে। তার ভিত মজবুত করে। তা হল, শারীরিক সম্পর্ক। যুগ যুগ করে এই সমস্ত কিছুরই ভিত্তিতেই সমাজ এগিয়ে চলেছে। তাই কোনো সম্পর্কে যদি এই বিশেষ উপাদানটি হারিয়ে যায় বা না থাকে তা হলে তার মধ্যে ক্রমশ সমস্যা বাড়ে, আকর্ষণ ও বন্ধন আলগা হয়। তাই কেউ যদি পরামর্শ দিয়ে থাকেন যে, শারীরিক সম্পর্ক না থাকলেও কোনো অসুবিধে নেই। তা হলে তিনি একটি মস্ত ভুল উপদেশ দিয়েছেন। তাই সমস্যা সরিয়ে সম্পর্ককে স্বাভাবিকতা দিন। শারীরিক সম্পর্কেও গুরুত্ব দিন।

৩) দাম্পত্যের মধ্যে জটিলতা যদি ক্রমশ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে এবং সেই জটিলতা যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে বেরিয়ে যায়, তা হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। একমাত্র নিরপেক্ষ তৃতীয় ব্যক্তিই অর্থাৎ এক জন বিশেষজ্ঞই পারেন সমস্যা সমাধানের সঠিক পথ দেখাতে। তাই সাধারণ ভাবে আত্মীয় স্বজনের পরামর্শ যদি এটি হয় যে কাউন্সিলিং করানোর দরকার নেই, তবে ভুল করেও সেই পরামর্শে কর্ণপাত করবেন না। দেরি না করে কাউন্সিলারের কাছে যান।

৪) অনেকেই আবার একটু বেশি চিন্তাশীল। তাঁদের মনে হয় স্বামী-স্ত্রীর প্রতিটি মুহূর্তই অভিনব করে তোলা দরকার। এক সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তই আকর্ষণীয় করতে বার বার নতুনত্বের ছোঁয়া থাকা দরকার। তেমনই পরামর্শ দেন তাঁরা। কিন্তু না। গোটা জীবনে প্রত্যেক মুহূর্তে নতুন নতুন করে সারপ্রাইজ তৈরি করা সম্ভব নয়। তা করা উচিতও নয়। এতে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ, নিজস্বতা বিঘ্নিত হয়। প্রতিটি মুহূর্তকে আকর্ষণীয় করা যেতে পারে নিজের সঙ্গ দানে। তা বলে সারপ্রাইজের ব্যবস্থা করে নয়। সারাক্ষণ তা করা সম্ভব যেমন নয়, তেমনই ওতে স্বাভাবিকতা ক্ষুণ্ণ হয়। তা ছাড়া এতে এক ঘেয়েমি আসে। তাই মাঝে মধ্যে বিশেষ কারণে হঠাৎ চমক বা সারপ্রাইজের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে বরং সম্পর্কের একঘেয়েমি কাটে, আলাদা মাত্রা প্রদান করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.