মৈত্রী মজুমদার

আমরা যারা ঘর সাজাতে ভালবাসি, তাদের মধ্যে অন্দর সজ্জার দেশি বিদেশি ম্যাগাজিন পড়া আর তার থেকে ছবি সংগ্রহ করা খুবই পরিচিত ঘটনা। মাঝে মাঝেই মনে হয় আহা রে, এমন ঘর যদি আমার হত। কখনও কখনও হয়তো চেষ্টাও করি । সে চেষ্টা কখনও ফলপ্রসূ হয় কখনও বা হয় না।

কিন্তু এমন যদি করা যায় যে সব সময়ই আপনার বাড়ির অন্দরসজ্জা দেখে মনে হয় যেন বই-এর পাতা থেকে উঠে আসা… আজ তারই কিছু টিপস রইল শুধুমাত্র আপনাদের জন্য।

প্রথমেই আসি বসার ঘরের কথায়,

বসার ঘরের দেওয়ালে থাকা টিভি-র  পেছনের দেওয়ালটিতে গাঢ় রঙ লাগান । যাতে টিভি-টি তার সঙ্গে ব্লেন্ড হয়ে যায় । আর যতটা পারবেন দেওয়ালের বাকি অংশ ফাঁকা রাখুন ।

ঘরের একটা দেওয়ালকে ডিসপ্লে দেওয়াল হিসেবে ব্যবহার করুন । যাবতীয় দেওয়ালে ঝোলানোর জিনিস যেমন ছবির ফ্রেম ইত্যাদি এক সঙ্গে মিলিয়ে মিশিয়ে ঝোলান । তবে শুধু যা বাঁধাচ্ছেন তার দিকে দৃষ্টি দিলেই হবে না বরং ফ্রেম-এর সৌন্দর্য আর সামঞ্জস্যের প্রতি বেশি দৃষ্টি দিন ।

ঘরের মধ্যে মেটালিক ফিনিশের কিছু যেমন সোনালি বা রুপালি ফ্রেম, ট্রলি, র‍্যাক ইত্যাদি ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করুন । সুন্দর ফ্রেমের আয়না এক্ষেত্রে খুব ভালো কাজ করবে । একই সঙ্গে বেশি জায়গার অনুভূতি দেবে আবার সস্তার মধ্যে একটি স্টাইল স্টেটমেন্ট আর সফেস্টিকেশন এনে দেবে ।

কুশন সাজানোর সময় বেশি করে ম্যাচিং-এর দিকে দৃষ্টি দেবেন না । তা সে সাইজই হোক বা আকার । চৌকোর সঙ্গে গোল বা গোলের সঙ্গে চৌকো, আবার প্রিন্টেড-এর সঙ্গে এক রঙা সব মিলিয়ে মিশিয়ে সাজান । অন্দর সজ্জায় রেটরো  লুক আনতে প্রিন্টেড পরদা বা কুশন এর জুড়ি মেলা ভার ।

ঘরে দুই বা তিন থাক থাকা টেবিল বা ট্রলি থাকলে সব কটি  থাকের সজ্জার ওপরই দৃষ্টি দিন । শুধুমাত্র ওপরটা সাজালেই চলবে না। পুরো টেবিলটার মধ্যে একটা সামঞ্জস্য থাকা চাই।

আলোর ব্যবহার অন্দরসজ্জার খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিক। তবে সব সময়ই যে সেটা টেবিল ল্যাম্প বা ফ্লোর ল্যাম্প হতে হবে তার কোনো মানে নেই। বিভিন্ন ধরনের আকারের, স্টাইলের ল্যাম্প শেড  বাজারে পাওয়া যায় তাই নিজের কল্পনা শক্তি কাজে লাগিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে আলো ব্যবহার করুন।

টিভির  রিমোট  ইত্যাদি সারা ঘরে ছড়িয়ে রাখবেন না । কফি টেবিলের ওপর সুন্দর করে ট্রে-তে  সাজিয়ে রাখতে পারেন । সজ্জা আর সুবিধা দুইই একসঙ্গে হবে ।

বিভিন্ন জায়গা থেকে  সংগ্রহ করে আনা জিনিস কীভাবে সাজাবেন বুঝতে পারছেন না । তাহলে সেগুলো একসঙ্গে কোনো একটি নির্দিষ্ট জায়গায় কাঁচের বা অ্যাক্রেলিকের বাক্সে রাখতে পারেন। তবে যে কোনো জিনিস সংগ্রহ করার আগে ভেবে নেবেন আপনার ঘরের সঙ্গে তা মানানসই কি না।  মনে রাখবেন আপনার ঘর আপনার মননের পরিচায়ক, একজিবিশন সেন্টার নয়।

এবার আসি শোওয়ার ঘরের কথায় ।

শোওয়ার ঘরে জায়গা থাকলে আলাদা করে বসার জায়গা রাখুন। এতে ঘর বড়ো দেখাবে আর অন্য এক মাত্রা যোগ করবে । একে কেন্দ্র করে আলো, ফুলদানি, কার্পেট ইত্যাদিও সাজাতে  পারেন যা একটি স্বাতন্ত্র্য  এনে দেবে পরিবেশে।

ফুলের ভাস, মোম দানি, মোম বাতি, লাইট ফিটিংস, এই ধরনের ডেকরেটিং আইটেম-এর সঙ্গে মিতালি পাতান । যাতে যখন তখন এদের স্থান এবং অবস্থান পরিবর্তন করে সজ্জার পরিবর্তন করতে পারেন।

সাধারণত যে সব জিনিস ঘরের লুকোনো জায়গায় থাকে তাদের কখনো সখনো বাইরে এনে ডিসপ্লে করতে পারেন। যেমন ধরুন স্টোর রুমে থাকা ছোট মইটাকে ঘরের একপাশে রেখে, কম্বল বা চাদরের মত জিনিস ট্রাঙ্ক  থেকে বের করে ডিসপ্লে করে রাখলেন ।

খুব কি অ্যাডভেঞ্চারাস হল? করেই দেখুন না কিছুদিন।

হোটেল রুমের মতো স্নান ঘর  পেতে, বেসিনের কাউন্টার সাফ করে তার ওপর একধারে  পরিচ্ছন্ন তোয়ালে আর অন্য দিকে সুগন্ধি দ্রব্য, ফুল ইত্যাদি সাজিয়ে রাখুন ।

এই সব তত্ত্ব মেনে এদিক ওদিক করে নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে ঘর সাজাতে থাকুন । কে বলতে পারে আপনার ঘরের ছবি কোনোদিন ম্যাগাজিন-এর প্রচ্ছদ হয়ে উঠবে না?

ছবি: ইন্টারনেটের মাধ্যমে

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here