এক টুকরো বারান্দা কী ভাবে সাজিয়ে তুলবেন বনসাই-এ, জানাচ্ছেন উদ্যানপালন বিশেষজ্ঞরা

0
বনসাই।

খবরঅনলাইন ডেস্ক: বাড়ির সামনে জায়গা জুড়ে বাগান, এমন ছবি আজকাল দেখাই যায় না। এমনকি বাড়ির ছাদে টবের বাহারও এখন আর নেই। শহরে এখন ফ্ল্যাটবাড়ির দৌরাত্ম্য। ফলে চাইলেও বাগান করা এখন মানুষের পক্ষে অসম্ভব। তাই ফ্ল্যাটের বারান্দাই সম্বল। সেখানেই দিব্যি তৈরি করতে পারেন বাগান। ঘর যদি গাছ দিয়ে সাজান, কী সুন্দর দেখতে লাগে বলুন তো। শুধুই যে শোভাবৃদ্ধি হয় তা-ই নয়, তার পাশাপাশি অক্সিজেনের সরবরাহও বাড়ে। আর গাছের যত্ন নেওয়ার জন্য খুব বেশি পরিশ্রম করতে হয় না আপনাকে।

ছোটো ফুলগাছ বসাতে চাইলে প্লাস্টিকের বোতল, রান্নার তেলের ক্যান বা প্লাস্টিকের কৌটো ব্যবহার করতে পারেন। বাজার থেকে টব না কিনে এগুলো দিয়ে টব বানান। টাকাও বাঁচবে, জিনিসগুলোর ব্যবহারও হবে। আর যদি সম্ভব হয় এর বাইরে কোনো কারুকাজ করতে পারেন। হাতে আঁকতেও পারেন। 

কেউ কেউ আবার বাড়ির ছাদে বনসাই করতে চান। কী ভাবে মনের মতো বনসাই করা যাবে, বনসাই করার ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলিতে খেয়াল রাখতে হবে, তা নিয়েই টিপস দিয়েছেন উদ্যানপালন বিশেষজ্ঞরা। চার পাশে যে সব বনসাই দেখা যায়, তার মধ্যে সুন্দর পাতাযুক্ত বনসাই ও ফুলগাছের বনসাই সব চেয়ে জনপ্রিয়। বিভিন্ন প্রকৃতির বনসাই রয়েছে।

বনসাই গাছ ঘরের ভিতরে হোক বা বাইরে হোক, কিংবা লিভিং রুমের মাঝে হোক, যে কোনোও জায়গাতেই বসাতে পারেন। একটা টবে খুবই সহজেই ফিট হয়ে যায় বনসাই। অন্য কোনো রকম জায়গার ব্যবস্থা আপনাকে করতে হবে না।

Shyamsundar

বনসাই গাছ নির্বাচনের ক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে, একটু শক্ত প্রকৃতির, প্রতিকূল অবস্থা সহনশীল গাছ, যা কাণ্ড ও শিকড় ছাঁটা বা কাটা সহ্য করতে পারে, এমনই গাছ বনসাইয়ের উপযুক্ত। এ জন্য পরিচিত গাছগুলি হল, বটলব্রাশ, বট, সপ্তপর্ণী, ডালিম, নিম, আম, লেবু, অশ্বত্থ, বাবলা, টগর, কুল, তেঁতুল, দেবদারু, রঙ্গন, কামিনী প্রভৃতি।

বনসাই খুব সহজেই বড়ো করে তোলা যায়। প্রচুর পরিমাণে যত্নের প্রয়োজন হয় না। অল্প পরিমাণ সূর্যের আলো, অল্প জল এবং পরিমাণমতো সার দিলেই আপনার গাছ থাকবে খুশি ও স্বাস্থ্যকর। এর পরিবর্তে বনসাই আরও সুন্দর ভাবে বেড়ে উঠবে। আপনার ঘর আরও সুন্দর দেখাবে।

বনসাই গাছ দশকের পর দশক ধরে বেঁচে থাকতে পারে। অনেক বনসাই তো শোনা যায় একশো বছরও বাঁচে। বিশ্বাস করা হয়, সব থেকে পুরোনো বনসাই গাছের বয়স ৮০০ বছরেরও বেশি। তাই বছরের পর বছর ধরেই আপনার সঙ্গে থাকতে পারে এই গাছ। হয়তো আপনার পরিবারেরই একজন হয়ে উঠতে পারে। আর এই গাছের সৌন্দর্য্যে আপনার বাড়ি আরও সুন্দর দেখায়।

কী ভাবে বনসাই করতে হবে  

এক বা একাধিক ছিদ্রযুক্ত পছন্দমাফিক অগভীর টবে প্রথমে দোঁয়াশ মাটি ভরে নিতে হবে। নদীর বালি ও পাতাপচা সার দিতে হবে। মাটি যেন খুব বেশি সার বা উদ্ভিদ খাদ্যোৎপাদন-সমৃদ্ধ না হয়। টবের ঠিক মাঝে গাছ লাগাতে হবে। এর পর ছায়ায় ৭-৮ দিন রেখে দিতে হবে। যে সব গাছ খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়, সেই গাছগুলির টব প্রতি বছর পরিবর্তন করতে হবে। ধীরে বৃদ্ধি পায়, এমন গাছের ক্ষেত্রে ২-৩ বছর পর টব পরিবর্তন করা যেতে পারে।

টব পরিবর্তনের সময় ধীরে ধীরে গাছটিকে তুলে শিকড়ের সঙ্গে লেগে থাকা মাটি ছাড়িয়ে দিতে হবে। এমন ভাবে শিকড় কাটতে হবে যেন নতুন টবের দেওয়াল ও গাছের শিকড়ের মধ্যে যেন ২-৩ সেমি জায়গা থাকে।

টব পরিবর্তনের ৬ মাস পর পর্যন্ত কোনো ডাল ছাঁটাই বা কাটার কাজ করা চলবে না। বনসাইয়ের নির্দিষ্ট আকার দিতে হলে ছাঁটাই বা কাটাইয়ের থেকে নির্ভরযোগ্য উপাদান প্রয়োজন। তামার তার ব্যবহার করে হেলান বা ঠেকা দেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোনো একটি ডাল বা শাখাকে নির্দিষ্ট দিকে বাঁকাতে হলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বাঁধন না দিয়ে তামার তারটিকে প্রথমে কুণ্ডলির মতো গাছের নির্দিষ্ট অংশে বাঁধতে হবে। তার পর খুঁটি বা অবলম্বনের সঙ্গে বাঁধতে হবে।

মনে রাখতে হবে, এ জন্য গাছের বিশ্রামের প্রয়োজন। সে কারণে এই কাজের পর বনসাইটিকে ছায়ায় রাখতে হবে। গাছের বৃদ্ধি রোধের জন্য পাতা বা শাখা ছাঁটা জরুরি। এর ফলে গাছের বৃদ্ধি কম হবে। পাতা ছাঁটা বা মুকুল ভেঙে দেওয়ার পর কম পরিমাণে জল দিতে হবে। সূর্যের আলোয় রাখার প্রয়োজন। গরমের দিনে এক বার হালকা জল দিতে হবে। শীতকালে সপ্তাহে এক বার জল দিলেই চলবে। বেশি মাত্রায় জল প্রয়োগ করা ক্ষতিকর। 

আরও পড়তে পারেন

রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় এই ৮টি প্রোডাক্ট আপনার কাজকে অনেক সহজ করে দেবে

কোন ঘরে কেমন পর্দা থাকা উচিত, জেনে নিন

ঘর, ব্যালকনি বা বাগান – সাজিয়ে তুলুন এই সব গাছে

সবুজের শুভ্রতায় সাজিয়ে তুলুন আপনার সাধের বারান্দাকে

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন