স্নান ঘরের গান-৩

0
মৈত্রী মজুমদার

অন্দরসজ্জার জগতে, বাড়ি সাজিয়ে তোলার ক্ষেত্রে যে যে জায়গাগুলোতে সব চেয়ে বেশি খরচ করার সুযোগ থাকে সেগুলোর মধ্যে স্নান-ঘর বা বাথরুম অন্যতম। কি অবাক হচ্ছেন? না, অবাক হওয়ার যেমন কারণ নেই, তেমন হতাশ হওয়ারও কারণ নেই।

বেশি খরচা হলেই যে বেশি সুন্দর হবে তার কোনও মানে নেই। সৌন্দর্য যেমন দর্শনকারীর চোখের ওপর নির্ভরশীল, ঠিক সে ভাবেই ব্যবহারকারীর হৃদয়ের ওপরও সমান ভাবে নির্ভর করে। তাই নিজের মনের মতো করে নিজের স্নান-ঘর সাজান আর উপভোগ করুন সেই স্নান-ঘরের উষ্ণতা।

আরও পড়ুন; স্নান ঘরের গান – ২

মৌলিক বিষয়গুলো ঠিক রেখে, যে কোনও ভাবেই সাজাতে পারেন বাথরুম। এ ক্ষেত্রে কোনও চেনা ছক মেনে চলারও দরকার নেই।

bathroom decoration

নানা রকম উজ্জ্বল রং, রঙিন টাইলস, পুরানো ভাঙা টাইলসের টুকরো এ সব ব্যবহার করেও আপনার পুরোনো বাথরুমকে নতুন করে তুলতে পারেন আপনি। চাই শুধু একটু কল্পনা শক্তি আর অনেকখানি উৎসাহ।

হয়তো আপনার নিজস্ব ছিমছাম করে রাখা স্নান-ঘরটি পুরোনো দিনের সাদা সেরামিক টাইলস-এ মোড়া, আর তা এই মুহূর্তে বদলানোরও কোনও দরকার নেই। তা বলে কি একে নব কলেবর দেওয়া সম্ভব নয়? নিশ্চয়ই সম্ভব। জানলায় রঙিন পর্দা, বা রঙিন শিকলি ঝুলিয়ে দিন। দেওয়ালে লাগাল রঙিন ফটোফ্রেম, বেসিনের ওপর আর আয়নার আশ-পাশ সাজিয়ে নিন মানিপ্ল্যান্ট বা তাজা ফুল আর ছোটো ছোটো রকমারি জিনিসে। মেঝেতে বিছিয়ে নিন রঙিন ম্যাট, স্নানের জায়গা আলাদা করার জন্য  ব্যবহার করুন রকমারি শাওয়ার কার্টেন। রঙিন লন্ড্রি ব্যাগ, রঙিন বিন, ব্যাস, রেডি আপনার  পুরোনো স্নান-ঘরের নতুন রূপ। 

bathroom10

এর সাথেই আরও একটা কথা বলি। তাজা ফুল বা সবুজ পাতাওয়ালা গাছ যেমন বাড়ির যে কোনও জায়গাকেই সতেজতায় ভরে দেয়, ঠিক সে ভাবেই স্নান-ঘরের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব সমান। তাই স্নান-ঘর সাজানোর সময় তাজা ফুল বা গাছ যোগ করার চেষ্টা করুন। ফুল হয়তো সব সময় রাখা সম্ভব নয় কিন্তু যে রকমই বাথরুম হোক না কেন সবুজ পাতাওয়ালা গাছ রাখা সম্ভব। স্থানাভাবে পুরোনো কাচের বোতলে জল দিয়ে মানিপ্ল্যান্ট জাতীয় গাছ বাথরুমের জানলায় রাখুন। এতে বাথরুমের এনার্জি সার্কুলেশন পজিটিভ হবে।

bathroom11

বাথরুমের পরিবেশ স্বচ্ছ্ব রাখার জন্য, অ্যারোম্যাটিক মোমবাতি বা অ্যারোম্যাটিক ড্রাই ফ্লাওয়ার ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া গতানুগতিক রুম ফ্রেশনার বা ন্যাপথালিন বল ইত্যাদিও ব্যবহার করা যেতে পারে।

bathroom12

বাথরুমের সজ্জা তো রেডি, কিন্তু একই সাথে এর উপযোগিতা বৃদ্ধির দিকটিতেও সমান ভাবে নজর দেওয়া জরুরি।

বাথরুমের ওয়াশবেসিনটি খুবই জরুরি। এটির সাথে যদি একটি কাউন্টার যোগ করা যায়, আর এর নীচে একটি ছোটোখাটো ক্যাবিনেট, তা হলে এই একই স্থান মুখহাত ধোওয়ার পাশাপাশি ড্রেসিং-এর কাজেও লাগতে পারে।

bathroom13

একটি কেতাদুরস্ত স্নান-ঘরকে ঠিকঠাক কাজে লাগানোর জন্য তাওয়াল, ফ্লোর ম্যাট, ডাস্টবিন, রুম ফ্রেশনার এ সবের ব্যবহার হাত খুলে করা উচিত। আজকাল বাজারে এত ধরনের জিনিস পাওয়া যায় যে সেগুলো কিনে ফেলার লোভ সামলানো মুখের কথা নয়। নিজের মনের মতো জিনিস, আপনার বাথরুমের থিমের সাথে মিলিয়ে কিনে ফেলুন আর ব্যবহার করে চমকে দিন অতিথি অভ্যাগতদের।

কিন্তু কিনলেই তো হল না, ব্যবহারের উপযোগী করে হাতের নাগালে রাখতেও হবে। তাই এগুলো রাখার জন্য স্টোরেজ স্পেস তৈরি করাও জরুরি। বাথরুমের কোনায় তাক লাগিয়ে বা ছোটোখাটো ক্যাবিনেট এই কাজে ব্যবহার করতে পারেন। আবার পুরোনো হয়ে যাওয়া আলমারিও একটু রিপেয়ার আর রঙ করে এই কাজে লাগাতে পারেন।

bathroom15

বাথরুমের আয়তন যতই ছোটো হোক আপনার ইচ্ছেডানায় হাওয়া লাগলে তার গ্ল্যামারাস হয়ে ওঠা আটকায়, এমন সাধ্য কার?

bathroom16

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.