অন্দরসজ্জা: ঘরেতে ভ্রমর যদি আসে

0

মৈত্রী মজুমদার

ছোটোবেলায় পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে থেকেই ছুটির দিন গোনা শুরু হয়ে যেত। কারণ একটাই, পরীক্ষা শেষ হলেই মামাবাড়ি, মাসিবাড়ি, জেঠুরবাড়ি বেড়াতে যাওয়া। আর তখন বেড়ানো মানেই দেদার মজা, অবাধ স্বাধীনতা মাঠেঘাটে, পুকুরে, বনেবাদাড়ে ঘুরে বেড়ানোর। চৈত্র–বৈশাখে আম কুড়নো আর পৌষ-মাঘে খেজুরের রস।দুপুরে রাতে সার দিয়ে পংক্তি ভোজন, সন্ধে বেলা চপ-মুড়ি সহযোগে হ্যারিকেনের আলোয় গল্প-গানে মেতে ওঠা আর শোওয়ার জন্য দালানের ঢালা বিছানা।এভাবেই তুতো ভাইবোনদের সঙ্গে হইহই করে কেটে যেত কত না দুপুর বিকেল।

আজ আর সেই দিন নেই। না, শুধু যে আমার সে বেলা গেছে তাই নয়। আজকের যুগে এতটা নির্ভেজাল ছুটি, দালানের বিছানা, হ্যারিকেনের আলো সবই  আধুনিকতার গর্ভে নিমজ্জিত। ভালো খারাপের প্রশ্ন অবান্তর। সময় তো এগিয়ে চলবেই কালের নিয়মে। আর আমাদেরও নিজেদের জীবনযাত্রায় গড়াভাঙ্গা চলতে থাকবে ডারউইনের তত্ত্ব মেনে।

আরও পড়ুন: অন্দরসজ্জা: পড়ার ঘর বা হোম অফিস

স্মৃতি থেকে ফিরে আসা যাক কাজের কথায়। আজকের দিনে ঢালা বিছানা বা পংক্তি ভোজন না থাকলেও, অতিথি তো আসেই। কখনও বা সেই অতিথি আত্মীয়র গণ্ডি পেরিয়ে বন্ধু বা নিতান্তই কর্মস্থান সংক্রান্ত ফর্মাল অতিথিও হতে পারে। তাই আজকের দিনে অতিথিদের জন্য আলাদা করে ঘর সাজানো অতিশয় দরকারি একটি দিক। আজ তাই থাকল অতিথিশালা সাজানোর কয়েকটি টিপস।

আপনার বাড়ির কম প্রয়োজনীয় ঘরটিই সাধারণত অতিথিদের জন্য থাকে, তাই একটা স্বাভাবিক ঝোঁক দেখা যায় এই ঘরটিতে কম দরকারি বা অদরকারি জিনিস ভরে রাখার। কিন্তু না, এটি কখনওই করবেন না। অতিথিশালা কখনওই স্টোর রুম নয়।তাই একে যত্নে সাজান।

গেস্ট রুমে বিভিন্ন রুচির মানুষ এসে থাকবেন এর রঙ বাছাইয়ের সময় যতটা সম্ভব নিউট্রাল রঙ ব্যবহার করা উচিৎ। যেমন সাদা, ঘিয়ে, বাদামি, খয়েরি ইত্যাদি। এতে মোটামুটি সবার রুচিতেই মানানসই হবে।

গেস্ট রুমকে অন্য জিনিসের পাশাপাশি অব্যবহৃত আসবাবের ও ডাম্পিং গ্রাউন্ড করে তুলবেন না। আসবাবের ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট নকসা মেনে চলুন। যাতে পুরো ঘরটিতে একটি সামঞ্জস্য থাকে।

আপনার গেস্ট রুমটিতে একটি ডাবল খাট বা দুটি সিঙ্গল খাট রাখতে পারেন আপনার সুবিধা অনুযায়ী। কিন্তু লক্ষ রাখবেন বিছানা, চাদর, বালিশ এসব যেন একে অন্যের সঙ্গে বেমানান না হয়।

ঘরটির কোনো একটি জায়গায় কিছু বিশেষত্ব যোগ করুন। যেমন ধরুন, বড়োসড়ো হেডবোর্ড অথবা ডিজাইনার মিরর বা একটি গাঢ় রঙের দেওয়াল। কিছু একটা ফোকাল পয়েন্ট যা ঘরে অন্য মাত্রা যোগ করবে।

ঘরের মধ্যে এমন কিছু রাখুন, যা আপনার অতিথিদের কাছে উপভোগ্য হয়ে উঠবে। যেমন ধরুন খুবই আরামদায়াক বিছানা বা ডিজাইনার বালিশের কভার, তাদের পছন্দের ম্যাগাজিন বা বিছানার পাশে ছোটোখাটো খাওয়ার জিনিস, সুন্দর বয়ামে সাজানো।

আপনার পছন্দের বইয়ের সংগ্রহ রাখতে পারেন এই ঘরে। এতে ভালো বই পড়তে পারার পাশাপাশি আপনার সম্পর্কেও অতিথিদের একটি ধারণা গড়ে উঠবে। আবার আতিথি না থাকার সময়ে ঘরটি আপনার লাইব্রেরি বা স্টাডি হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

সবশেষে বলি এই ঘরে আলোর ব্যবহার ভেবেচিন্তে করুন। নরম আলোর ব্যবহারই এক্ষেত্রে উপযোগী। জায়গা বিশেষে ফোকাস করে আলো দেওয়া যেতে পারে।

বাৎসরিক সব পরীক্ষার সময় শেষের পথে, এইবার আসবে ছুটির পালা। সঙ্গে চৈত্র শেষের সেল। আর দেরি কেন, কেনাকাটা শুরু করে দিন তবে। অতিথি দ্বারে এসে উপস্থিত হওয়ার আগে অতিথির ঘর প্রস্তুত থাকা চাইই চাই।

ছবি: ইন্টারনেট থেকে

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন