moitryমৈত্রী মজুমদার

কী বন্ধুরা, আপনার বাগানের কাজ ঠিকঠাক এগোচ্ছে নিশ্চয়?  আমরা কিন্তু  কথামতো ফিরে এসেছি আপনাকে বাগান সাজানোর কাজে সাহায্য করতে।

গাছ লাগানোর জায়গা আর পাত্র তো হল। এ বার আসা যাক কী কী ধরনের গাছ আপনি লাগাতে পারেন আপনার বারান্দার বাগানে…।

যে হেতু এখন শীতকাল তাই এই সময় মরশুমি ফুলই সব থেকে বেশি ভালো লাগবে। তাই গাঁদা, পিটুনিয়া, জিনিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, সূর্যমুখী — এই ধরনের ফুলের গাছ লাগান।

pb1

এর সঙ্গে বারান্দার এক কোনায় দু-একটা লতানে গাছ যেমন বোগেনভেলিয়া, তরুলতা বা কুন্দ লাগাতে পারেন। এগুলো সারা বছর থাকার গাছ। তাই এই মরশুমেই ফুলের আশা করবেন না।

pb2

কম কষ্টে বেশি ফল লাভ করার সহজ উপায় হল পাতাবাহার। এগুলো খুব ভালো ইন্ডোর প্ল্যান্ট আর এদের যত্নআত্তিও কম দরকার। আর একটি উপযুক্ত গাছ হল ক্যাকটাস। ছোটো ছোটো রঙবাহারি পাত্রে থাকা ক্যাকটাসগুলো আপনার বাগান থেকে স্নানঘর বা ডাইনিং টেবিল থেকে কফি টেবিল… যে কোনও জায়গাকে পলকে পালটে দিতে পারে।

pb3

জানলার উইন্ডোবক্সকে করে তুলুন কিচেন গার্ডেন। এখানে লাগান টমেটো, লঙ্কা, লেটুস, সেলেরির মতো শাকসবজি… ছাদের টবে লাগাতে পারেন রসুন, লেবু, এমনকি পুঁই-পেঁপের মতো গাছও। সময়মতো হাতের কাছেই পেয়ে যাবেন লেবু-লঙ্কার জোগান।

pb4

বাগান সাজানো তো হল। এ বার তা উপভোগ করার পালা। শীতের দুপুরে রোদে পিঠ দিয়ে বসে নিকট কোনও বন্ধুর সঙ্গে নিখাদ আড্ডাই বলুন বা সক্কাল সক্কাল পাখির ডাক আর এক কাপ ধোঁয়া-ওঠা চা-এর সঙ্গে টাটকা খবরের কাগজে চোখ বোলানো বা এক কাপ কফি হাতে আসন্ন গোধূলির পদধ্বনি আর নিজের প্রিয় গান শুনতে শুনতে সন্ধে গড়িয়ে দেওয়ার মধ্যে যে আনন্দ, আজকের যান্ত্রিক যুগেও বোধহয় তার জুড়ি মেলা ভার।

pb5

তবে আর কী, লেগে পড়ুন নিজের সদ্য বানানো বাগানকে এক চিলতে আড্ডা জোনে রূপান্তরিত করতে।

ঘরের কোণে পড়ে থাকা পুরোনো হয়ে যাওয়া যে চেয়ার গুলো আছে, যেগুলো ভাবছিলেন ফেলে দেবেন বা বেচে দেবেন সেগুলোকেই ধুয়ে মুছে সাফ করে অল্প রঙ করে নিন। আর তার ওপর পেতে দিন রঙচঙে কয়েকটি কুশন।

pb6

এ বার চাই চা কফি রাখার জন্য ছোট্টো একটা টেবিলও। বাড়িতে পুরোনো টেবিল থাকলে ভালো, না হলে পুরোনো লোহার ট্রাঙ্ক বা টিনের ছোটো ড্রাম, এ সবও অল্প রঙ করে দিব্যি বানিয়ে নিতে পারবেন সাইড টেবিল। আর তার ওপর রাখুন আপনার সদ্য কিনে আনা দারুন টি-পট বা ফ্লাওয়ার ভাসটি। এ বার মেঝেতে পেতে দিন একটা রঙিন মাদুর বা শতরঞ্চি।

pb7

সিলিং থেকে ঝুলিয়ে দিতে পারেন বিভিন্ন আকারের উইন্ড চাইমস। হালকা বাতাস লেগে এদের মৃদু মৃদু কম্পন আপনার ঘরবাড়িকে সুরেলা করে তুলবে। এ ছাড়াও কিছু কিছু শো-পিস, ক্যানডেল স্ট্যান্ড, ঝোলানো দেওয়াল ঘড়ি – এ রকম নিজের পছন্দের জিনিস দিয়ে সাজিয়ে নিন আনাচকানাচ। স্থানীয় হস্তশিল্পের দোকান বা বিভিন্ন হস্তশিল্প মেলা থেকে এই সব জিনিস খুব ভালো ভাবে সংগ্রহ করতে পারবেন।

বারান্দার এক কোণে মাটির সরা ঝুলিয়ে, পাখি বসার জায়গা করতে পারেন। তাতে নিয়মিত ভাবে জল আর দানা দিলে দেখবেন আপনার ছোট্টো বাগান পাখির কলকাকলিতে ভরে উঠেছে। এই কংক্রিটের শহরে কাক-চড়াইদের মাঝে কখনও কখনও আপনার বাগানের অতিথি হিসেবে পেয়ে যাবেন বুলবুলি, বাবুই, টিয়াদেরও।

pb8

এত কিছুর পর শীতকালে তো আর খোলা আকাশের নীচে আড্ডা দিতে পারবেন না। মাথায় হিম পড়ে অসুখ হবে। তাই লাগিয়ে নিন একটি শামিয়ানা। বাজেট অনুযায়ী অনিং-ও লাগিয়ে নিতেপারেন। এতে বছরের অন্য সময়ের জন্যও সুরাহা হবে। যখন ইচ্ছা গুটিয়েও রাখা যাবে।

pb9

এই বার আলোকিত করার পালা। বারান্দার তথাকথিত আলো বাদেও নিজের মনের মতো করে আলোকিত করে নিন আপনার বাগান। এর জন্য টুনি বালব্‌, পেন্ডেন্ট লাইট, মোমবাতি, প্রদীপ যা খুশি ব্যবহার করতে পারেন। বাইরে যা-ই হোক না হোক, মনের ভিতর দীপাবলি তো চলতেই পারে।

pb10

যাক অবষাদ বিষাদ কালো…দীপান্বিতায় জ্বালাও আলো।

মনের কোণের আলো জালিয়ে দিন।  একটি রঙিন সন্ধেকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য তৈরি আপনার বাগান।

সব শেষে বলি আপনার বাড়িতে জায়গা যতই কম থাকুক কল্পনার ডানা মেলে দিন মনের উন্মুক্ত আকাশে… আর দেখুন আপনার মনের ঘরেতে ভ্রমর কেমন গুনগুনিয়ে আসে।

pb11

(ছবি ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংগৃহীত)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here