moitryমৈত্রী মজুমদার

শীত প্রায় শেষের মুখে, ইংরাজি নববর্ষও  কিছুটা পুরোনো ঘটনা এই মুহূর্তে। সব ধরনের উৎসব তাই এখন যাইযাই রব ধরেছে। হাতে বাকি বলতে শুধু সরস্বতী পূজা। নাহ!শুধু তাই বললে কি হবে? কলকাতা বইমেলা, সেও কি কম  উৎসব  হল বাঙালির কাছে ? শেষ শীতের রোদে গা মজিয়ে, কাঁধে ঝোলা ব্যাগ নিয়ে, অথবা সরস্বতী পুজোর দিন স্কুল-কলেজের বন্ধুদের সঙ্গে প্রথম শাড়ি বা নতুন পাঞ্জাবি পরার মাদকতা নিয়ে বইমেলায় ঘুরে বেড়ানো। সে যে না গেছে তাকে বোঝান, ও স্বয়ং ব্রহ্মারও সাধ্য নেই। 

কিন্তু শুধু উৎসবে মাতলেই কি হবে ? মা সরস্বতীর হাত ধরে যে বচ্ছরকার   পরীক্ষাগুলো একে একে এসে হাজির হবে, তাদের মোকাবিলা  করাও তো  জরুরি। তার মধ্যেই দেখতে না দেখতে এসে যাবে  মার্চের আর্থিক বছর শেষের  কাজের চাপ, তখন অফিস বাড়ি সর্বত্রই কাজ করতে হতে পারে সময় বুঝে।   আর যারা গৃহকর্ত্রী তাদের ওপর তো চাপের আর অন্ত থাকবে না। 

 তাই বলি কি, সময় থাকতে থাকতে নিজের বাড়ির পড়ার বা কাজের জায়গাগুলো একটু গুছিয়ে নিন। কে না জানে কাজের জায়গা যদি সাজানো  গোছানো আর পরিপাটি থাকে তাহলে কাজের ইচ্ছা আর উৎসাহ দুই তিনগুন  বেড়ে যায়। আর খবর অনলাইনের ঘরদোর বিভাগ যখন আপনার পাশে আছে  তখন সাজানোর উপায় নিয়ে আপনার দুশ্চিন্তার কোনো কারণই নেই।

সবার বাড়িতে হয়তো আলাদা করে স্টাডি  থাকে না, কিন্তু বাড়ির প্রত্যেক সদস্যের জন্য তাদের কাজের চাহিদা অনুযায়ী জায়গা করে দেওয়া খুবই জরুরি। আপনার কিশোর বা তরুণ বয়সের সন্তানদের জন্য পড়ার জায়গা তাদের  নিজস্ব ঘরে হওয়াই সবচেয়ে উপযুক্ত। সেখানে ঘরের এক ধারে বিছানা আর  অন্য ধারে পড়ার টেবিল, সঙ্গে  বই খাতা রাখার কেবিনেট। এটাই উপযুক্ত  ব্যবস্থা। খেয়াল রাখবেন পড়ার টেবিলে যাতে দিনে এবং রাতে যথেষ্ট হাওয়া  বাতাস খেলা করে।

1 যদি ঘর ছোটো হয় তাহলে একটু বুদ্ধি খাটিয়ে ব্যবস্থা করতে হবে। সেক্ষেত্রে  হয়তো টেবিলের আয়তন ছোটো হবে, তবে আলাদা টেবিল যাতে থাকে তার  ব্যবস্থা করা জরুরি।

2

এক্ষেত্রে হয়তো দেওয়ালে ক্যাবিনেটের বদলে খোলা তাক লাগিয়ে বই রাখার  ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু সুন্দর ভাবে সাজালে সেটিও বেশ ভালই দেখতে  লাগবে। এসব ক্ষেত্রে মনে রাখবেন পড়ার ঘরটি বা পড়ার টেবিলটি বাড়ির বা ঘরের পূর্ব দিকে হলে ভাল, কারণ সকালের প্রথম নরম আলো মনকে শান্ত হতে আর মনোসংযোগে সাহায্য করবে।

3

সবসময় মাথায় রাখবেন যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপনার বাচ্চারা বড়ো হবে আর  আলাদা কাজের বা পড়ার জায়গার চাহিদাও বাড়তে থাকবে কমবে না। তাই খুব  স্থানাভাব থাকলে দেওয়ালে ঝুলন্ত কাজের জায়গা বানান। যা কিনা কাজের  শেষে গুটিয়ে রাখা যাবে। কিন্তু কাজের জন্য আলাদা চেয়ার টেবিল, খুবই  প্রয়োজনীয়। 

interior

এছাড়া আপনার বা আপনার জীবনসঙ্গীর অফিসের কাজের চাপও আজকাল  বেশিরভাগ সময় বাড়িতে কাজ বয়ে আনতে বাধ্য করে। তাই বাড়িতে একটা  অফিস থাকা আজকাল জরুরি হয়ে যাচ্ছে। যাদের স্টাডি আছে তাদের অসুবিধে  নেই।

5

কিন্তু যাদের নেই তারা চেষ্টা করতে পারেন বেডরুমের একপাশে, জানলার  ধারে, কোনা করে স্টাডি বানিয়ে নিতে। কাজের সময় কাজ করুন অন্য সময়  দুজনে বসে চা খেতে খেতে নিজেদের মধ্যে গল্প করুন। দেখবেন নিজেদের মধ্যে  সম্পর্কটাও ভাল থাকবে।

6

বাড়িতে গেস্টরুম থাকলে সেটার এক কোনায়ও সাজিয়ে নিতে পারেন আপনার  স্টাডি বা কাজের জায়গা।

7

সুস্থ ভাবে জীবন কাটাতে হলে দিনের কিছুটা সময় নিজের সঙ্গে কাটানোও খুবই  জরুরি আর তা যদি কাটে নিজের পছন্দের কাজ করতে করতে তাহলে তো  কথাই নেই। ভাল বই পড়া এ ধরনেরই একটা কাজ। তাই নিজে বই পড়ুন  আর বাড়ির ছোটোদেরও পাঠ্যপুস্তকের বাইরে অন্য বই পড়তে উৎসাহ দিন।   আজকের ইলেক্ট্রনিক আর  ডিজিটাল যুগে বই পড়ার মানসিকতা বা উৎসাহ  দুটোই পিছনের সারিতে চলে গেছে। তাই ইচ্ছে হলেও অনেক সময় ব্যবস্থার  অভাবে বই পড়া হয়ে ওঠে না। সেক্ষেত্রে হাতের কাছে মনের মতো করে  সাজিয়ে রাখলে অল্প সময়কেও চট করে কাজে লাগানো যেতে পারে। বাড়িতে  স্টাডি বা অফিস রুমে, বইয়ের বা ফাইলের তাক, কম্পিউটার টেবিল তৈরির  পাশাপাশি যদি জায়গা থাকে তাহলে আরাম করে বসে বই পড়ার মতো একটা  জায়গাও বানিয়ে নিতে পারেন।

8

বাড়ির সবাই কাজে বেরিয়ে যাওয়ার পর ঘরের কাজ সেরে আপনার হাতে  হয়তো কিছুটা সময় থেকে যায় বই পড়ার জন্য। কিন্তু বিছানায় শুলে ঘুম এসে  যায় আর চেয়ারে বসলে রেস্ট হয় না। চিন্তা নেই, নিজের জন্য জানলার পাশে  বানিয়ে নিন নিজস্ব বই পড়ার জায়গা। দেখবেন আপনার অবসর সময় কেমন  ফুরফুরে আর রঙিন করে তুলবে আপনার বাকি দিনটা।

9

কোনো এক বিদেশি বই থেকে জানলাম স্নানঘরও নাকি হয়ে উঠতে পারে বই  পড়ার মোক্ষম জায়গা। এতে শরীর মন একসঙ্গে চাঙ্গা হয়ে উঠবে।

10

ভারতীয় জীবনে এই রকম দিন কবে আসবে জানি না, তবে বিষয়টা মন্দ লাগলো না। আপনারা কী বলেন?

(ছবি ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংগৃহীত)

1 মন্তব্য

  1. আপনার পোষ্টটি পড়লাম অনেক সুন্দর একটা পোষ্ট ভালো লেগেছে। এই রকম পোষ্ট পরে অনেক কিছু জানতে পারলাম।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here