অন্দরসজ্জা: বৈঠকি বৈশাখ

0

মৈত্রী মজুমদার

বাঙালির জীবনে বৈশাখের একটা আলাদা রোম্যান্টিকতা আছে। বৈশাখ শব্দটি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে মনের ভিতর কী রকম উদাস ভাললাগা কাজ করে। বৈশাখ মানেই নববর্ষ, বৈশাখ মানেই রবি ঠাকুর, বৈশাখ মানেই কালবৈশাখি, শিল টুপটুপ, আম টুপটাপ অমৃতধারা। এক ঝলক ঠান্ডা হাওয়া।

বছরের বেশির ভাগ সময়টা প্যাচপ্যাচে গরমে কাটানো বাঙালি জীবনে বৈশাখ এক দমকা খুশির বার্তা।

সেই যে গানের দুকলি—- ‘এক বৈশাখে দেখা হল দুজনার / আর জ্যৈষ্ঠতে হল পরিচয়’

এরকম গা শিরশির অনুভূতি দিয়ে হৃদয়ের দোরে কড়া নাড়াতে বৈশাখের জুড়ি মেলা ভার। আর যেটা বৈশাখের সঙ্গে ওতপ্রোত জড়িয়ে, তা হল বঙ্গ জীবনের অঙ্গ- বৈঠক বা সোজা কথায় আড্ডা।

এই সমস্ত রকম মন কেমন করা মুহূর্তগুলো নিয়ে, প্রিয় বন্ধুর সাথে বৈঠকি আলাপচারিতা না হলে ‘প্রাণে খুশির তুফান’ উঠবে কী করে ????

বৈশাখ ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে, তাই বৈশাখি আমেজ জাগিয়ে তুলতে নিজের বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন বৈঠকি পরিবেশ। উপায় খুবই সহজ।

১। প্রথমে বাড়ির ঠিক কোন জায়গাটিতে আপনি এই বৈঠকি বা আড্ডা- জোনটি বানাবেন তা নির্দিষ্ট করে নিন। হতে পারে তা আপনার বৈঠকখানাটি। যদি তাই হয় সেক্ষেত্রে, সোফার ধার ঘেঁষে একটি সুন্দর কার্পেট বা শতরঞ্চি পেতে নিন। সেন্টার টেবিল ছাড়াও আরও কিছু টুল বা ছোট টেবিল জড়ো করে নিন। এগুলি অতিথিদের চা- জলখাবার দিতে কাজে আসবে। এরই সঙ্গে কিছু তাজা ফুল বা গাছের টব দিয়ে জায়গাটি সাজিয়ে নিন।

২। হতে পারে জায়গাটি আপনার ছাদের একাংশ। তাহলে আগে থাকতেই জায়গাটি পরিষ্কার করে নিন। তারপর সেখানে মাদুর বিছিয়ে বসার জন্য মোড়া, সোফা, চেয়ার ইত্যাদি সাজিয়ে নিন। ব্যাকড্রপে থাকলো আপনার ছাদের বাগান। মনে রাখবেন ছাদে আড্ডা মারার জন্য একটি গার্ডেন আমব্রেলা নিশ্চয়ই লাগাবেন।

আরও পড়ুন: অন্দরসজ্জা: বাচ্চাদের ঘর

৩। ঠিক ছাদে না করে, সিঁড়ি ঘরে যদি জায়গা থাকে তাহলে এই জায়গাটি অতি উত্তম হতে পারে আড্ডার জন্য। সেক্ষেত্রে ছাদের বাগানের দৃশ্যপট আর মাথার ওপর ছায়া দুটোই  এক সঙ্গে পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে মাদুরের বদলে মেঝেতে শতরঞ্চি পেতে তার ওপর বেড কভার পেতে নিতে পারেন। বাড়িতে অতিরিক্ত তোষক থাকলে তো কথাই নেই, সেটাকেও ব্যবহার করতে পারেন বেশি আরামের জন্য। তার ওপর কুশন, বালিশ সাজিয়ে জমিয়ে তুলুন মজলিশি ম্যাজিক।

৪। আপনার বাড়িতে যদি বাগান থাকে তাহলে লা জবাব। বাগানের গাছের ছায়া হয়ে উঠতে পারে আপনার আড্ডা স্থল। ছায়া ঘেরা জায়গাটি পরিষ্কার করিয়ে সোফা চেয়ার সাজিয়ে নিন। এ ক্ষেত্রে বেতের আসবাবপত্র খুবই উপযোগী। অল্প ফুলের টব আশে পাশে সাজিয়ে নিন, অল্প স্বল্প ডেকরেটিভ জিনিস, যেমন উইন্ড-চাইম, ক্যান্ডেল স্ট্যান্ড এসবও রাখতে পারেন। মৃদু মন্দ দখিনা বাতাস আর পাখির কাকলি সহযোগে জমে  যাবে আপনার আড্ডা।

৫। আপনি যদি ফ্ল্যাটে থাকেন তাতেও কুছ পরোয়া নেহি। আপনার ডাইনিং টেবিলের আশে পাশে কিছু রঙিন চেয়ার, রঙিন কুশন আর রঙ বাহারি ফুলের টব দিয়ে সাজিয়ে নিন আপনার আড্ডা মারার জায়গা।

আরও পড়ুন: অন্দরসজ্জা: পড়ার ঘর বা হোম অফিস

৬। আপনার অতিথিরা যদি খুবই ঘনিষ্ঠ হয় তাহলে আপনি শোওয়ার ঘরেও আড্ডা মারতে পারেন। সেক্ষেত্রে বিছানার ওপর একটি মোটা বিছানার চাদর বা শতরঞ্চি বিছিয়ে নিন। যাতে বিছানার ওপর খাবার দাবারের অবশিষ্ট পড়ে নোংরা না হয়। গরমের দুপুরে এয়ার কন্ডিশনারের আরামে মনের কথা আদানপ্রদান… আহা ।

৭। আপনি যদি ভাড়া বাড়িতেও থাকেন তাহলেও আড্ডা জোন তৈরি করতে পারেন, মেঝেতে গদি আর চাদর বিছিয়ে। ঘরের কোনার টেবিল ল্যাম্প আর ছোটো টুলের ওপর সাজিয়ে নেওয়া কিছু নিজস্ব জিনিস, যেমন ফোটো-ফ্রেম, মেমেন্টো জায়গাটিতে আলাদা আকর্ষণ যোগ করবে।

আরও পড়ুন: অন্দরসজ্জা: বল তো আরশি

৮। আড্ডা মারার জন্য কিন্তু একটা ব্যাপার খুবই জরুরি, তা হোল আরাম।। তাই আপনার আর আপনার বন্ধুদের আরামের ব্যাবস্থা করার জন্য আড্ডা জোনে অনেক কুশন থাকা জরুরি। নানা রঙের থ্র- কুশন দিয়ে সাজানো আড্ডা জোন আরামের সঙ্গে সঙ্গে খুবই  ইনভাইটিং ও উৎসবময় করে তুলবে পরিবেশটি।

৯। অতিথি আপ্যায়নের ক্ষেত্রে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে। গরমের আড্ডা তো, তাই খাবারের সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা শরবতের ব্যবস্থাও জরুরি। নানা রঙের ঠান্ডা পানীয়, রকমারি গ্লাস, মনের সঙ্গে চোখেরও তৃপ্তি এনে দেবে।

আর যেটা মনে রাখা জরুরি তা হল, যেকোনও অন্দরসজ্জাকে প্রাণবন্ত করে তোলার ক্ষেত্রে তাজা ফুল, গাছের টব, বিভিন্ন ধরনের আলো ইত্যাদির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই এগুলোকে কখনওই ভুলবেন না।

১০। গান-বাজনা ছাড়া কি বাঙালির আড্ডা জমে ? তাই আপনার আড্ডার ফাঁকে যেকোনো মুহূর্তে সুরের মূর্ছনায় ডুবে যাওয়ার জন্য আপনার প্রিয় বাদ্য-যন্ত্রটি হাতের কাছেই রাখুন।

আরও পড়ুন: স্নান ঘরের গান -১

(ছবি ইন্টারনেটের মাধ্যমে)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here