স্নান ঘরের গান – ২

0

moitryমৈত্রী মজুমদার

চারিদিকে যখন ‘স্বচ্ছ-ভারত অভিযান’ নিয়ে এত মাতামাতি তখন নিজের ঘরের প্রতিটা আনাচ-কানাচ সুন্দর স্বচ্ছ করে তোলার জন্য অন্য কোনও বিশেষ উৎসাহের কী দরকার?

ভারতীয় সংস্কৃতিতে স্নান-ঘর বা বাথরুমকে সব সময়ই একটু অচ্ছুত হিসেবে দেখা হয়েছে। তাই বাড়ির এই স্থানটি নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামানোর প্রয়োজনও সে ভাবে অনুভূত হয়নি। তাই আজও অনেক গ্রামে, বাড়িতে শৌচাগার নেই। তবে আজ দিন পালটেছে, বড়ো বড়ো পৈতৃক বাসগৃহ ছেড়ে শহুরে ছোটো ছোটো ফ্ল্যাটবাড়িতে বসবাস করার প্রয়োজনীয়তা আমাদের অন্য ভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে বলা যায়। কিন্তু সব বদল যেমন ঠিক নয়, তেমন সব বদল খারাপও নয়, কী বলুন? বিশেষ করে স্বাস্থ্য-সচেতনতার বিষয়ে। তাই চলুন না আমি আপনি মিলে আমাদের চিন্তাধারা একটু পালটাই আর আমাদের চারপাশ, নিজেদের আর আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুস্থ ভাবে বসবাস যোগ্য করে তুলি।

আগের ব্লগে আমরা আলোচনা করেছিলাম স্নান-ঘরের স্বাস্থ্য সঠিক রাখার উপায় নিয়ে। আজ আলোচনা করব, স্নান-ঘরকে সুন্দর করে তোলার ধাপগুলো নিয়ে। যে ভাবে যে কোনও সুন্দর স্বাস্থ্যের অধিকারী মানুষকে সুন্দর করে সাজানো সহজ ঠিক সে ভাবেই, যে কোনও স্বাস্থ্যকর জায়গা সুন্দর করে তোলাও সহজ কাজ।

নিজের বাড়ির বাথরুমকে আরেকটি রুম বা ঘর বলেই মনে করুন। তা হলে এই স্থানটির দেখাশোনাকে বাড়তি উদ্যোগ বলে মনে হবে না। আর এর সৌন্দর্য বর্ধনের কাজটিও অযথা বলে মনে হবে না। ইংরাজিতে স্নান-ঘরের একটি সমার্থক শব্দ হোল ‘ভ্যানিটি রুম’। অর্থাৎ আপনার বা আপনার বাসগৃহের ভ্যানিটি নির্ভর করছে আপনার স্নান-ঘরের গ্ল্যামারের ওপর। তা হলে আর দেরি কেন? লেগে পড়া যাক আপনার স্বাস্থ্যকর স্নান-ঘরকে গ্ল্যামারাস করে তোলার কাজে।

1-a

প্রথমেই আসা যাক, বাথরুমের সিলিং-এর কথায়। এই স্থানটিকে আমরা খুব একটা নজরে আনি না। থাক যে রকম আছে, বলে ছেড়ে দিই। খুব বেশি হলে অ্যালকোভ হিসেবে কাজে লাগাই, কিন্তু সৌন্দর্য বর্ধন? নৈব নৈব চ। তাই ভাবলাম এখান দিয়েই শুরু করা যাক।

বাথরুমের সিলিংটিকে সুন্দর করে সাজানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের রঙ-এর ব্যবহার করা যায়। বিভিন্ন প্যাটার্ন ব্যবহার করতে পারেন। এমনকি বাজেট বেশি থাকলে মিরর বা কালার গ্লাস ইত্যাদিও ব্যবহার করতে পারেন। দেখবেন তুলির একটি মাত্র স্ট্রোক-এ আপনার চেনাজানা বাথরুম কোনও স্বপ্নরাজ্যের রূপ পাবে।

2

বাথরুমের আয়নাটি একটি খুবই জরুরি জিনিস আবার বাথরুমকে উজ্জ্বল করে তোলার ক্ষেত্রে মিরর বা আয়নার একটি বড় ভুমিকা আছে। তাই বাথরুমে বড়োসড়ো সুন্দর ফ্রেম লাগানো আয়না লাগান। যদি আপনার বাথরুমটি ছোটো হয় তা হলে, উইন্ডো হাইট-এ একটা গোটা দেওয়াল জুড়েও মিরর লাগাতে পারেন। এতে আলো রিফ্লেক্ট করে, বাথরুমকে উজ্জ্বল করে তোলার পাশাপাশি বড়ো দেখাতেও সাহায্য করবে।

3

মিরর-এর সাথে বাথরুমের লাইটিং ফিক্সচারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। বাথরুমে বেশি ওয়াটের লাইট লাগাতে দ্বিধা বোধ করবেন না। দরকারে নতুন প্রজন্মের এলইডি ল্যাম্প লাগান। বিদ্যুৎ বিল-এ সাশ্রয় হবে। কিন্তু আলোর উজ্জ্বলতায় কোনও সমঝোতা নয়। পাশাপাশি ল্যাম্পশেডটিও যদি ফ্যাশনদুরস্ত হয় তা হলে তো কথাই নেই। আপনার ‘ভ্যানিটি রুম’-এর গ্ল্যামার কোশেন্ট চড় চড় করে বেড়ে যাবে।

4

এ বার আসা যাক দেওয়ালের কথায়। সাধারণত বাথরুমের দেওয়ালে সেরামিক টাইলস লাগানোই রেওয়াজ। এবং তা এর উপযোগিতার কথা মাথায় রেখেই। তবে যদি আমরা বাথরুমকে ওয়েট আর ড্রাই এরিয়ায় ভাগ করে নিই, তা হলে ওয়েট এরিয়ার দেওয়ালে ফ্লোর থেকে সিলিং বা দরজার উচ্চতায় টাইলস লাগিয়ে বাকি দেওয়ালগুলোয় কোমর উচ্চতা বা যাকে বলে ‘সিল হাইট’ পর্যন্ত টাইলস লাগিয়ে বাকিটা অন্য ভাবে সাজানো যেতে পারে।

5

এ ক্ষেত্রে বাকি জায়গার দেওয়ালে আপনি রঙ করতে পারেন। এক বা একাধিক রঙের প্রয়োগ এ ক্ষেত্রে নতুনত্ব এনে দেবে। বাথরুম বড় দেখানোর জন্য আড়াআড়ি ভাবে স্ট্রাইপ ডিজাইন করা যেতে পারে। আবার একটা দেওয়াল ফোকাস করার জন্য গাড় রঙ-ও ব্যবহার করা যেতে পারে।

6

বাথরুমের দেওয়ালে নিজের পছন্দের ওয়ালপেপার লাগানো যেতে পারে। ওয়ালপেপার আর বিভিন্ন ফটোফ্রেম-এর সাহায্যে বাথরুমকে যে কোনও থিমেও সাজানো যেতে পারে। ধরুন, আপনার জঙ্গল পছন্দ, সে ক্ষেত্রে দেওয়ালে গাছ, পাতাওয়ালা ওয়ালপেপার লাগান, সাথে পোকামাকড় বা পাখি প্রজাপতির ছবি ফ্রেম করে লাগিয়ে নিন, নানা উচ্চতায়, নানা সাইজে। ব্যাস! আপনার জঙ্গল থিম এর স্নান-ঘর তৈরি, আপনাকে রোজ রোজ জঙ্গলের পরিবেশ উপভোগ করানোর জন্য। এ ক্ষেত্রে সুবিধা হল একঘেয়ে লাগলে খুবই সহজে এবং কম খরচায় পাল্টে ফেলা যাবে আপনার বাথরুমের থিম।

7

যে সময় থেকে আপনি আপনার নিজস্ব স্নান-ঘরটিকে অন্য ঘরের সমান ভাবতে শুরু করবেন, ঠিক তখন থেকেই আপনার কল্পনারা ডানা মেলতে শুরু করবে। আর যে কোনও ঘরকে সাজিয়ে তোলার মতোই তখন আপনার মন বাঁধন খোলা। সেই খোলা হাওয়ায় পাল তুলুক আপনার মন আর আমরা ফিরে আসব পরের ব্লগে আবার আপনার স্নান ঘরের গান শোনার আশায়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here