কিচেন গার্ডেন করতে চান? রইল টিপস

0
প্রতীকী

ওয়েবডেস্ক : আজকাল অনেকেই নিজেদের স্বল্প পরিসরের মধ্যেই গাছ লাগাচ্ছে। ফুল হোক বা ফল, নিজের হাতে তার যত্ন নিয়ে নির্মল আনন্দ উপভোগ করছে। সেই দিক থেকে দেখতে গেলে গার্ডেনিং বা বাগান করার সখ মানুষকে বেশ আকৃষ্ট করছে।

সে ক্ষেত্রে গাছের ধরন, রোদ আসার পরিমাণ এই সমস্ত কিছুর ওপর নির্ভর করে কী ধরনের গাছের বাগান করা যেতে পারে। তার মধ্যেই নতুন হুজুগ উঠেছে কিচেন গার্ডেন নিয়ে। অর্থাৎ রান্নার শাকসবজি, আনাজপাতির গাছ লাগানোর সখ। অনেকেই নিজের হাতে আনাজ ফলিয়ে তা রান্না করে খাচ্ছে।

এই কিচেন গার্ডেন করতে হলে কী ভাবে তা সম্ভব করা যেতে পারে? রইল তার কিছু সুলুক সন্ধান।

১। প্রথমেই বলে নেওয়া ভালো কিচেন গার্ডেনের জন্য প্রচুর পরিমাণ রোদ দরকার। তাই বাড়ির বা ফ্ল্যাটের যে অংশে কম করে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা টানা রোদ আসে সেখানেই করতে হবে কিচেন গার্ডেন।

২। তবে ছায়ার কথা ভুললে চলবে না। কিচেন গার্ডেন করার জন্য যেমন প্রচুর আলো রোদের দরকার তেমনই দরকার পর্যাপ্ত ছায়ারও।

৩। এর পর জলের কথায় আসা যাক। জলও লাগে পর্যাপ্ত পরিমাণে। সেই জন্যই বাগানের কাছে জলের ব্যবস্থা সঙ্গে অবশ্যই জল নিকাশি ব্যবস্থা রাখতে হবে। তা না হলে দীর্ঘদিন ধরে জল জমে মেঝে খারাপ হয়ে যাবে। জমবে শ্যাওলা। তা মোটেই ঠিক কথা নয়।    

৪। এর পরের ধাপ হল মাটি। কিচেন গার্ডেন করার জন্য মাটি জৈব সারে সমৃদ্ধ হলে ভালো হয়। তাই মাটি তৈরি করতে তার সঙ্গে, জৈব সার, কম্পোস্ট ভালো করে সমান মাপের মিশিয়ে নিতে হবে। তাতে মেশাতে হবে সার। তার মধ্যে নিম খোল, হাড়গুঁড়ো, শিংকুচি, মিশ্র জৈব সার মিশিয়ে মাটি তৈরি করতে হবে। মাঝে মাঝে মাটি খুঁড়ে দিতে হবে, যাতে মাটিতে বাতাস চলাচল করতে পারে।

৫। এই বার টব। কোন গাছের জন্য কত বড়ো টব দরকার এটি একটি জরুরি বিষয়। সাধারণ ভাবে ছোটো, মাঝারি আর বড়ো এই তিন ভাগে যদি ভাবা যায় তা হলে চার থেকে পাঁচ ইঞ্চির টব, আট থেকে দশ ইঞ্চির টব এবং দশ ইঞ্চির থেকে বড়ো টব এই ভাবে ভাগ করা যায়।

৬। গাছ লাগাতে হলে চার থেকে পাঁচ ইঞ্চির টবে ধনে পাতা, বেসিল, পুদিনা পাতা এই ধরনের গাছ হয়। আবার টমেটো, বেগুন, লঙ্কা, ক্যাপসিকাম, লেবু, পার্সলে লাগানো যায়। আবার কম পরিসর থাকলে একটি বড় ধরনের পাত্রে একাধিক গাছ লাগানো যায়। বেগুন গাছ ও বিন গাছ, টমেটো গাছ ও পেঁয়াজ গাছ, গাজর আর স্কোয়াস এক সঙ্গে লাগানো যেতে পারে।  

৭। যে সব গাছের মাচা বা অবলম্বনের দরকার পরে অর্থাৎ লতানে গাছ, তাদের একটু গভীর টবে লাগাতে হয়।

৮। ঘরের বাগানে শশা গাছও করতে পারা যায়। তবে তার জন্য প্রচুর রোদের দরকার। কম করে ছয় ঘণ্টা।

৯। ধনে পাতা গাছের জন্য রোদ কিছুটা কম হলেও চলে।

১০। অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, গাছ লাগানোর পর টবের মাটি যেন শুকিয়ে খটখট না করে। তা হলে কুঁড়ি ঝরে যায়। তাই পর্যাপ্ত জল সব সময়ই টবের মাটিতে থাকতে হবে।

১১। আজকাল সেরামিক, ফাইবার বা প্ল্যাস্টিকের টোবের খুব চল হয়েছে। সাজানোর জন্য এগুলি বেশ আকর্ষণীয়। কিন্তু এই সবের থেকে মাটির টবই হল সবজির গাছের জন্য আদর্শ। তা আর্দ্রতা বজায় রাখতে পারে।    

১২। গাছে ফল বা সবজি ধরার পর তাতে কীটনাশক ব্যবহার না করাই ভালো।  

১৩। মরশুমি শাকসবজির গাছও লাগানো যেতে পারে। তার মধ্যে অবশ্যই রয়েছে পালং শাক, পেঁয়াজ কলি, রসুন বা পেঁয়াজ পাতা, কড়াইশুটি, উচ্ছে, সিম, পুঁই ইত্যাদি গাছ।  

১৪। তবে প্রথম প্রথম কিচেন গার্ডেন করা শুরু করলে কম যত্ন করলেও ভালো থাকে এমন কিছু গাছ বাছাই বাঞ্ছনীয়। কারণ অভ্যাস ও অভিজ্ঞতার অভাব অনেক সময়ই মনের মতো সাফল্য দেয় না। ফলে মন ভেঙে যায়, গাছ করার ধৈর্য হারিয়ে যায়। কিন্তু স্বল্প যত্নের গাছ বুনলে তাতে সাফল্য আসে, আগ্রহও বৃদ্ধি পায়।

১৫। আরও একটি প্রয়োজনীয় কথা হল রোদ, ছায়া, গাছের ধরন সব কিছু ঠিক থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে মর্মাহত হতে হয় জায়গার অপ্রতুলতার জন্য। হয়তো ছোটো বারান্দা বা জানলার ধার। সে ক্ষেত্রে গ্রিলের সঙ্গে ছোলানো টবের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। অথবা গ্রিলের গায়ে লোহার আংটা বা গোল রিং করে তাতে টব বসানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। অথবা, চেরা কাঠ দিয়ে ফাঁক ফাঁক করে হালকা ধরনের ছোটো র‍্যাক বানিয়ে তার ওপরও এক সঙ্গে অনেক টব রাখা যায়।

দেখে নিন – বাড়ির টবে শীতের ফুল গাছ? দেখে নিন কার কী যত্ন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.