ওয়েবডেস্ক: “বিশ্বাস করুন, হ্যাঁ সেই বাবার আমলের ক্যালেন্ডার ঠিকই, কিন্তু অনেক আবেগ আছে, জানেন, ভালোবাসা আছে, আসুন না একটু সমাজকে হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে যাই, যদি ভালোবাসা কী সেটা বোঝাতে পারি?”

ফেসবুকের ওয়াল থেকে এই প্রশ্নটা আপাতত আমাদের সবার দিকে ছুড়ে দিয়েছেন উদ্যোক্তা তানিয়া সিংহরায় এবং অবশ্যই তাঁর দল! তার দরকারও যে ছিল, তা নানা ঘটনা প্রতি নিয়তই প্রায় প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছে! কোথাও ভালোবাসার জন্য চির চেনা পরিবারের আশ্রয় ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হচ্ছে সমলিঙ্গের মানুষদের, কোথাও বা বেছে নিতে হচ্ছে মৃত্যুর নিরাপত্তা! বিচ্ছিন্ন ভাবে তার কিছু উঠে আসছে সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে, কিন্তু বেশির ভাগটাই হারিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারে!

স্পষ্টই বলছেন তাই তানিয়া- এলজিবিটিকিউআই বা সমলিঙ্গের ভালোবাসা সমৃদ্ধ ২০১৯-এর ক্যালেন্ডার তাই জনসচেতনতারই প্রয়াস! কেন না, মনের কোণে সব মানুষই অতি যত্নে লালন করে চলে ভালোবাসা পাওয়ার আশ্বাস! সামাজিক স্বীকৃতি তার একটা বড়ো দিকও বটে! সমাজ যদি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে দেয় প্রতি পদে, তা হলে যে সুখে থাকতে পারে না সমাজবদ্ধ জীব!

ফলে ভালোবাসার সেই সার্বজনীন আকুতিই উঠে আসবে ক্যালেন্ডারে- এটা জানাচ্ছেন তানিয়া! জানাচ্ছেন, তাঁদের এই ক্যালেন্ডারে থাকছে মোট ১৩টি পাতা! একটি প্রচ্ছদ এবং বাকিগুলি মাসের দিন-ক্ষণ নিয়ে ১২টি মাসের পর্যায়সারণি! কিন্তু শুধু সেটুকুতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না এই ক্যালেন্ডার!

এই ক্যালেন্ডার ঠিক একটা বই পড়ার অনুভূতি নিয়ে আসবে, এই খেইটাও ধরিয়ে দিচ্ছেন তিনি। “প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এই ক্যালেন্ডারে একটা গল্প পড়ার আস্বাদ পাওয়া যাবে। তিন কী চার পংক্তির ছোটো বক্তব্য তাই স্থান পেয়েছে প্রতি মাসেই, কোনোটা ছন্দোবদ্ধ, কোনোটা বা নয়! কিন্তু প্রতিটির মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে এক বক্তব্য! যা প্রতিটি দিনের সঙ্গেই খাপ খায়! আর সে জন্যেই সঙ্গের ছবি হিসেবে যা ব্যবহার করা হয়েছে, তা কোনো ফটোশুট নয়! দৈনন্দিন মুহূর্তের ছবিই এ খানে উঠে এসেছে শিল্পসম্মত রূপ নিয়ে”, বলছেন তানিয়া!

সন্দেহ নেই, এ বড়ো অভিনব উদ্যোগ! আর সেই উদ্যোগ যাতে নির্দিষ্ট কোনো গণ্ডির মধ্যে আটকে না থাকে, সে জন্য ক্যালেন্ডারটির গুণমানে সব দিক থেকে সজাগ থেকেছেন তাঁরা! “হাতে নিয়ে দেখলেই বুঝতে পারবেন, কাগজ-ছাপা সব দিক থেকে আমরা একটা যত্নের ছাপ রেখেছি! ইচ্ছে আছে, দামটাও ১০০ টাকার মধ্যেই বেঁধে রাখার! বর্ণময় নামের ফেসবুক পেজে যোগাযোগ করলে আমরা এই ক্যালেন্ডার ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেব”, জানিয়েছেন তিনি!

যদিও প্রশ্ন ওঠে- বড়ো বেশি গতে বাঁধা জীবন কি এই উদ্যোগে সাড়া দেবে? “আপনারা পাশে থাকলে নিশ্চই পারব”, আশাবাদ নিয়েই এগিয়ে চলেছেন তানিয়া এবং তাঁর দল!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here