শিশুর মধ্যে কী কী সমস্যা দেখা দিলে বুঝবেন তার মানসিক স্বাস্থ্য বিঘ্নিত হচ্ছে?

0
শিশুমন
প্রতীকী

ওয়েবডেস্ক : শিশুর মনের ওপরে সর্বাধিক কাজ করে শিশুর পারিবারিক পরিবেশ। এমনটাই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাই অভিভাবকদের উচিত শিশুর সামনে কখনও অকারণ অশান্তিতে লিপ্ত না হওয়া। কিন্তু আজকালকার দিনে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যে বাবা-মায়ের সম্পর্ক, পারিবারিক অশান্তি শিশু মনকে দীর্ণ করছে। তার ফলে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ হচ্ছে। তারা বদ মেজাজি, হিংসুটে বা খুবই চুপচাপ হয়ে যাচ্ছে।

কী ভাবে বোঝা যাবে শিশুর মানসিক সুস্থতা বা অসুস্থতার দিকটি?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সমস্যা বোঝার কয়েকটি লক্ষণ আছে। সেগুলি বেশ কয়েক দিন ধরে লক্ষ করলেই বোঝা যাবে সমস্যা আদৌ দানা বেঁধেছে কি না। যদি

১। শিশুরা বাবা-মায়ের আদেশ নির্দেশ বা কোনো কথাই শুনতে না চায়।

২। বড়োদের সম্মান ও ছোটোদের স্নেহ না করে।

৩। ঠিক মতো খাওয়া-দাওয়া না করে।

৪। রাতে ঠিক মতো না ঘুমায়।

৫। খেতে গেলেই বমি করে।

৬। স্কুলে যেতে পড়াশোনা করতে না চায়।

৭। সকলের গায়ে হাত তোলা, মারপিট করার প্রবণতা তৈরি হয়।

৮। জেদি একগুয়ে মনোভাব হয়।

৯। সারাক্ষণ অন্য মনস্ক থাকে।

১০। কারো সঙ্গে কথা না বলে, চুপচাপ হয়ে যায়।

১১। যে শিশুরা বিছানায় প্রস্রাব করা ছেড়ে দিয়েছে, তাদের মধ্যে হঠাৎ করে আবার বিছানায় প্রস্রাব করা শুরু হয়।

১২। অন্যদের কারণে অকারণে ভেংচি কাটা।

১৩। গৃহকর্মীদের সম্মান না করা।

১৪। মিথ্যা কথা বলা।

১৫। হঠাৎ হঠাৎ রেগে উঠে জিনিসপত্র ভাঙচুর করা।

১৬। টাকা-পয়সা চুরি করা। বন্ধুদের জিনিসপত্র চুরি করা।

১৭। একটু বড়োদের ক্ষেত্রে সঙ্গ দোষে খারাপ হয়ে যাওয়া, যেমন – মাদক দ্রব্য সেবন করা অন্যান্য কিছু কু-অভ্যাসে জড়িয়ে পড়া।

১৮। সারাক্ষণ বিষণ্ণতা বা অবসাদে ভোগা।

এই সব লক্ষ করা যায় তা হলে বুঝতে হবে পরিস্থিতি জটিল হতে শুরু করেছে। সে ক্ষেত্রে শুরুতেই হাল ধরতে হবে। তা না হলে সন্তান হাতের বাইরে বেরিয়ে যাবে, যা কারোর জন্যই সুখকর হবে না।

এই সমস্যার সম্মুখীন হলে করণীয় কী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এহেন অবস্থায় শিশুর ওপর যেমন নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়া যাবে না, তেমনই তাদের সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছাতেও চলতে দেওয়া যাবে না। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই বাবা-মায়ের, শিশুর প্রতি উচ্চাকাঙ্খাও শিশুদের মানসিক বৈকল্য তৈরি করে।  

নিজেদের মধ্যে অর্থাৎ পরিবারের ভেতর একটি সুস্থ সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। একে অপরের প্রতি আস্থা ও সম্মানের আবহ গড়ে তুলতে হবে। নিজেদের সম্পর্ককে আদর্শ হিসাবে শিশুর সামনে তুলে ধরতে হবে।

বাইরের লোকের থেকে যেমন শিশুর নিরাপত্তার স্বার্থেই দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, তেমনই এক্কেবারে সবাইকেই সন্দেহের চোখে দেখলে চলবে না। শিশুকে কিছু কিছু সময় বাইরের মানুষের সঙ্গে মিশতে দিতে হবে। তবে সে ক্ষেত্রে নিজেদের চোখ-কানও খোলা রাখতে হবে।

শিশুকে তার মনের বিকাশে সাহায্য করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাকে তার ইচ্ছা মতো পছন্দ মতো সখের বিষয় বেছে নিতে দিতে হবে। তাকে পছন্দ মতো ভাবে শিক্ষাগ্রহণ আর কাজ করতে দিতে হবে। পাশাপাশি ভালো-মন্দ চিনতেও শেখাতে হবে। যাতে তারা চলার পথে বিপদে বা অসুবিধেয় না পড়ে।

দেখুন – সন্তান বয়ঃসন্ধিতে? কিছুতেই বাগে আনতে না পারলে অবশ্যই এগুলি করে দেখুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.