মহিলাদের ৭টি চরম গোপনীয়তা, যা তাঁরা নিজের স্বামীকে বলতে পারেন না

0
women marriage

এমন সাতটি বিষয়, যা নিজের স্বামীর কাছে গোপনীয়তার চাদরে মুড়ে রাখতে হয় মহিলাদের!

ওয়েবডেস্ক: বিয়ের পর সবারই জীবন বদলে যায়। স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই একই ছাদের নীচে বাস করেন, কার্যত নিজেদের জীবন একে অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেন তাঁরা। নিজেদের পছন্দ-অপছন্দ, অভ্যাস অথবা উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো নিয়ে কৌতূহল মিটিয়ে নেওয়ার পালা চলতেই থাকে। তবে এমন কিছু বিষয় থাকে, যা সবসময়ই গোপনীয়তার চাদরে মুড়ে রাখতে হয়।

নিজেদের এমন কিছু অতীত ঘটনা বা বিষয় থাকে, যা একে অপরের কাছে প্রকাশ করতে দ্বিধা-সংকোচ এসে কড়া নাড়ে। মহিলাদের উপর এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে তেমনই সাতটি অন্যতম বিষয়, যা তাঁরা নিজের স্বামীর কাছে প্রকাশ করতে পারেন না।

১. ফেলে আসা সম্পর্ক

বিয়ের আগে প্রেমে পড়েছিলেন কি না, স্বামীর এমন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়ে একটা বড়ো অংশের মহিলাকে। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে স্বামী এই গোপনীয়তার পরদা উন্মোচন করতে চান স্ত্রীর মুখ থেকে। উলটো দিকে স্ত্রী বরাবরই এমন প্রশ্নে পাশ কাটিয়ে চলার চেষ্টা করেন। বিয়ের পর বেশ কয়েক বছর ধরেই এই বিষয়টি স্বামী-স্ত্রীর আলোচনায় উঠে আসতে পারে। কিন্তু একে অপরের প্রতি নিজেদের ভালোবাসার ঝাঁপি ক্রমশ উজাড় করে দিতে থাকেন, তখন বিষয়টা হালকা হতে শুরু করে। এক মহিলা জানান, “আমার অতীত কখনোই আমার বর্তমানকে প্রভাবিত করতে পারে না”। এ ধরনের ভাবনা বড়ো অংশের মহিলার মধ্যেই দেখা যায়।

২. প্রাক্তনের জন্য বেদনা

স্বামীর প্রতি ভালোবাসা উজাড় করে দেওয়ার পরেও কিছু ক্ষেত্রে প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে তাঁর তুলনা টানার বিষয়টাও সংসারের ঝক্কি সামলে মনের দরজায় কড়া নাড়তেই পারে। এটা বৈবাহিক সম্পর্কের জন্য মোটেই সুখকর নয়। কিন্তু বিয়ের বেশ কয়েক মাস পর্যন্ত অতীতের ভালোবাসা বেদনা দিতেই পারে। তবে তা মুখ ফুটে বলার নয়।

৩. শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি ভালোবাসা

নতুন সংসারে আসা, তাও আবার নিজের মা-বাবাকে ছেড়ে। শ্বশুর-শাশুড়ির আচরণ নিয়ে নববধূর মনে খেদ থাকতেই পারে। কিন্তু সে সবকে তোয়াক্কা করছে আর কে? ফলে কতটা শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, টান রয়েছে, সে সব শিকেয় তুলেও অনেক সময় স্বামীর মা-বাবাকে ভালোবাসার ভান করতে হয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে। অনেক বউমাই মনে করেন, শ্বশুর-শাশুড়ি তাঁকে নিজের মেয়ের মতো ভাবলেও মেয়ে ভাবতে পারেন না। আবার উলটো ঘটনাও ঘটে। শ্বশুর-শাশুড়ির আক্ষেপ, বউমা কখনোই নিজের মেয়ে হয়ে উঠতে পারেন না।

৪. নিজের কেরিয়ার বিসর্জনের আক্ষেপ

সন্তানের লালনপালন আর সংসারকে সহজ ভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে নিজের কেরিয়ার জলাঞ্জলি দিতে হয় অনেককেই। স্বামী নিয়মিত দেরি করে অফিস থেকে ফেরেন, স্ত্রীকে সংসারের কাজে সাহায্য করার সময় থাকে না তাঁর। অনেক স্ত্রী আবার এটা ভাবতেও পারেন না। একটা অংশের মহিলারা আক্ষেপ করেন, সংসারের জন্য যে কঠোর পরিশ্রম তাঁরা করেন, তার কিছুটা অংশ যদি নিজের কেরিয়ারের জন্য খরচ করতে পারতেন! কিন্তু আক্ষেপ থাকুক ভিতরে, বাইরে নয়।

৫. যেখানে শাশুড়ির সঙ্গে সম্পর্ক সুখকর নয়

যে সব ক্ষেত্রে শাশুড়ির সঙ্গে বউমার সম্পর্ক মোটের উপর ভালো নয়, সেখানে স্বামীর বিরুদ্ধে বড়োসড়ো অভিযোগ তুলতে দেখা যায় স্ত্রীকে। একাংশের মহিলার অভিযোগ, স্বামীর বরাবরই নিজের মায়ের পক্ষ নিয়ে একতরফা কথা বলেন। শাশুড়ি যদি সম্পূর্ণ ভুল তথ্যও দেন, সেটাকে যাচাই না করেই বিশ্বাস করেন স্বামী। স্ত্রী গোপনে কান্নাকাটি করেন। অনেকেই সরব হন। যার পরিণতিতে পারিবারিক বিবাদ ডালপালা ছড়ায়।

৬. পরিবার এবং বন্ধুদের সম্পর্কে গুজব

সদ্য বিয়ের পর নিজের পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সম্পর্কিত বিষয়গুলো স্বামীর সঙ্গে ভাগ করে নিতে দ্বিধা বোধ করেন অনেকেই। পিছনে আতঙ্ক, স্বামী যদি নিজের মা-কে সে সব কথা বলে দেন। কারণ, সে সব কথা শাশুড়ির কানে গেলে বউমার নিকটাত্মীয়দের নিয়ে চুলচেরা বিচার-বিশ্লেষণ শুরু হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৭. শারীরিক চাহিদা

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের একটা অন্যতম অঙ্গ শারীরিক মিলন। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও যদি স্ত্রী কোনো খামিত অনুভব করেন, মুখ বুজে মেনে নেওয়া ছাড়া গত্যন্তর থাকে না অনেকের। যৌনতা যে শুধু স্বামীর আনন্দের জন্যই নয়, তার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন স্ত্রীও, সেটা বলার সুযোগ কোথায়?

আরও পড়তে পারেন: লকডাউনে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে অবনতি? দেখুন বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন