ওয়েবডেস্ক: এখন ‘অবসাদ’ বা ‘ডিপ্রেশন’ এই শব্দটি বাজারে আর পাঁচটি চলতি শব্দের মধ্যে একটা। এখন প্রায় বেশির ভাগ মানুষই মানসিক অবসাদের শিকার। কিন্তু অনেকেই ভাবেন, এই রোগের শিকার যে একবার হয়েছে তার পক্ষে ভালো হওয়া খুব কঠিন।

অনেক সময় ‘মানসিক অবসাদ’ বা ‘ডিপ্রেশন’ এমন চরম পর্যায়ে পৌঁছোয় তখন অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

প্রত্যেকেরই জানা উচিত মানসিক অবসাদও আর পাঁচটি রোগের মতো একই। মানসিক অবসাদ নিয়ে মানুষের মনে যে ভ্রান্ত ধারণা জন্মেছে সেই ভুল ধারণাকে একেবারে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিতে হবে।

আসুন জেনে নেওয়া যাক তিনটি ভ্রান্ত ও সঠিক ধারণা সম্বন্ধে-

 

ভ্রান্ত ধারণা
           সঠিক ধারণা
১। অবসাদ সর্বদাই জীবনের কোনো প্রতিকূল ঘটনার ফলে হয়। ১। অবসাদ কিছু শারীর বৃত্তীয় কারণে হয়। তার সঙ্গে কোনো প্রতিকূল ঘটনা জড়িত থাকতেও পারে, নাও পারে।
২। পরিবেশের পরিবর্তন ঘটালে অবসাদ নিজের থেকেই সেরে যায়। ২। পরিবেশের পরিবর্তন হলে সাময়িক ভাবে অবসাদ একটু কমতে পারে, কিন্তু স্থায়ী ভাবে কমে না। স্থায়ী ভাবে কমাতে গেলে চিকিৎসার প্রয়োজন।
৩। অবসাদের ওষুধ একবার খেলে সারা জীবন খেয়ে যেতে হয়। ৩। যাদের বার বার অবসাদ আসছে, তাঁদের ক্ষেত্রে কখনও কখনও সারা জীবন চিকিৎসা করার প্রয়োজন হলেও সবার জন্য এই প্রয়োজন হয় না। প্রথম বার অবসাদ এলে ছয় থেকে আট মাস ওষুধ খেলেই সাধারণত সেরে যায়।

 

অবসাদ সংক্রান্ত কিছু পরিসংখ্যান-

পৃথিবীর ১৫ শতাংশ মানুষ কখনও কখনও অবসাদে ভোগেন, মহিলাদের ক্ষেত্রে এর হার আরও বেশি, প্রায় ২৫ শতাংশ।

(ভারতবর্ষে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অঞ্চলভেদে এক এক রকম। তবে মোটামুটি ভারতের মোট জনসংখ্যার ১৫-২০ শতাংশ কখনও না কখনও অবসাদগ্রস্ত হয়েছেন।)

মেয়েদের ক্ষেত্রে অবসাদের সম্ভাবনা ছেলেদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

অবসাদ শুরু হওয়ার গড় বয়স ৪০ বছর। যদিও যে কোনো বয়সেই অবসাদ আসতে পারে।

অবিবাহিত বা বিবাহ বিচ্ছিন্নদের মধ্যে অবসাদের সম্ভাবনা বেশি। বর্তমানে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে অবসাদের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান।

অবসাদগ্রস্ত মানুষের দুই তৃতীয়াংশ আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকেন এবং ১০-১৫  শতাংশ আত্মহত্যায় সফল হয়ে থাকেন।

সূত্র: মানব সংবেদ

আরও পড়ুন : নিজের কাছের মানুষটা কি অচেনা হয়ে উঠছে? সমস্যার শিকড়ে পৌঁছোবেন কী ভাবে?

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন