relation
প্রতীকী

ওয়েবডেস্ক : প্রেম মানুষের জীবনে যেমন আনন্দের জোয়ার আনে তেমনই ভুল পথে পা বাড়ালে ভবিষ্যতের জন্য বড়োসড়ো বিপদের পুর্বাভাসও বয়ে আনে। তা ঠিক সময়ে উপলব্ধি করতে না পারলেই জীবনের বিশাল ঝড় উঠতে বাধ্য বিয়ের পরে। তাই প্রেমে পড়লে ‘এনজয়’ তো করতেই হবে। কিন্তু তার পাশাপাশি হতে হবে বিচক্ষণও। কারণ বিচক্ষণতাই পথ বাতলাবে, যে এই পথ ঠিক, না ভুল।

তার জন্য সর্ব প্রথম মাথাটাকে পরিষ্কার রাখতে হবে। বেশির ভাগ মানুষই এই সময়ই ভুল করে বসে। তালজ্ঞান লোপ পায়। নিজের মনের মানুষটির সব কথাই তখন অমৃত বচন মনে হয়। বাকি কোনো কিছুই তলিয়ে দেখার বা ভাবার মতো মানসিকতাই থাকে না। অন্য একটা স্বপ্নের জগৎ। অবশেষে যখন ঘুম ভাঙে তখন বাস্তবের কঠিন পাথরে মুখ থুবড়ে পড়তে হয়। তাই স্বপ্ন দেখা বা কল্পনায় ভেসে যাওয়ার আগেই নিজের সঙ্গে বোঝাপড়াটা সেরে ফেলতে হয়।  সে ক্ষেত্রে নিজের কাছে এবং পরিস্থিতির কাছে কয়েকটি প্রশ্ন করা দরকার। শুধু প্রশ্ন করলেই তো হবে না। তার উত্তরটাও নিজেকেই খুঁজে বের করতে হবে। তবেই ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তটা সঠিক হবে।

Loading videos...

প্রথমেই যে প্রশ্নটি আসে তা হল স্থায়ী সম্পর্কে জন্য প্রস্তুত কি না ?

অনেকেরই ক্ষেত্রে এমন হয় যে, কাউকে প্রাথমিক পর্যায়ে ভীষণ ভালো লাগে। তার সঙ্গে সময় কাটাতে গল্প করতেও খুব ভালো লাগে। কিন্তু একা থাকার সময় কেমন যেন একাকীত্বটাই বেশি ভালো লাগে। স্বাধীন চেতা মানসিকতাটা বেশি বড়ো হয়ে দেখা যায়। তখন সঙ্গে কাউকে ভাবলে বা কারোর কাছে বশ্যতা স্বীকার করে নেওয়ার ব্যাপারটা মানতে খুবই অসুবিধে হয়। মন, মাথা কোনোটাই সেই পরাধীনতা যেন মেনে নিতে পারে না। সে ক্ষেত্রে বুঝতে হবে মন তখনও বৈবাহিক সম্পর্কের মতো স্থায়ী সম্পর্কে বাঁধা পড়ার জন্য প্রস্তুত হয়নি। তাই মনকে আরও কিছু দিন সময় দিয়ে সেই ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে। তাতে যদি পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় তা হলে অবশ্যই এগিয়ে যাওয়া উচিত। আর যদি তখনও মনের অবস্থান না বদলায় একই থাকে তা হলে এই সম্পর্ককে বেশি দূর টেনে না চলাই ভালো। কারণ, বিবাহের পর চাওয়া হোক বা না চাওয়া হোক একটা বোঝাপড়া, আনুগত্য বা বশ্যতা বা পরাধীনতার ভাব তো এসেই পড়ে। সে ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হয়। এবং সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব ও অশান্তি তৈরি হতে থাকে।

মানুষটিকে নিয়ে ঘর বাঁধতে মন প্রস্তুত তো?

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে অনেকেই ভালো লাগা-কে ভালোবাসা বলে ভুল করে ফেলে। কোনো একজনকে দেখে ভালো লাগলে তাকে নিয়ে আকাশ-পাতাল অনেক চিন্তা চলে আসে। তার সঙ্গে কথা বলতে সময় কাটাতে ভালো লাগতে থাকে। কিন্তু কেন বোঝা যায় না, মনের মধ্যে বৈবাহিক জীবনের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ছবিটা ঠিক মতো আঁকা যায় না। এ ক্ষেত্রে নিজেকে প্রশ্ন করতে হয়, এই মানুষটির সঙ্গেই কি বাকি জীবনটা কাটাতে মন চায়? উত্তরটা যদি কোনো রকম প্রশ্ন বা ভনিতা ছাড়াই এক বাক্যে ‘হ্যাঁ’ হয় তা হলে অবশ্যই এগিয়ে যাওয়া উচিত। কিন্তু যদি কোনও রকম সংশয়, ভয়, প্রশ্ন থাকে তা হলে নতুন করে চিন্তা করে দেখা উচিত।

যৌন জীবন কি সুখের হবে?

আজকাল বৈবাহিক সম্পর্কে যাওয়ার আগেও অনেকেই যৌন জীবন নিয়ে চিন্তিত থাকেন। এটা কোনো ভুল বা অপরাধের নয়। কারণ বিশেষজ্ঞদের মতে একটি বৌবাহিক সম্পর্কের সুস্থতার ক্ষেত্রে মানসিক বোঝাপড়া, টান, অন্তরের উষ্ণতা, ভালোবাসা যেমন জরুরি তেমনই জরুরি একটি বিষয় হল যৌন জীবনও। সে ক্ষেত্রে এই বিষয়টিও ঠিক মতো না এগোলে সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ফলে বৈবাহিক সম্পর্কে এগোনোর আগে ভেবে দেখা উচিত এই বিষয়েও মন উলটো দিকের মানুষটিকে মনে মনে মেনে নিতে পারছে কি? না কি অস্বস্তি আছে। অথবা ভেবে দেখা উচিত, দু’জনের ব্যক্তিগত আলোচনার সময় এই প্রসঙ্গে কথা উঠলে কোনো রকম উৎসাহ বোধ করছেন কি না। উত্তর যদি ‘হ্যাঁ’ হয় তা হলে নির্দ্বিধায় এগিয়ে যাওয়া যেতে পারে। কিন্তু উত্তর যদি ‘না’ হয়, তবে অবশ্যই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা ও ভেবে দেখা দরকার।  

এই সম্পর্কটা কি ব্যক্তিত্বের বিকাশে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে?

যে কোনো সম্পর্কই হোক না কেন তা যেন ব্যক্তিত্বের পরিপন্থী না হয়, সে দিকে লক্ষ্য করতে হবে। তাই এই একই কথা খাটে ভালোবাসা বা প্রেমের সম্পর্কের ক্ষেত্রে। কারণ এই সম্পর্কি ধীরে ধীরে বৈবাহিকসম্পর্কের দিকে মোড় নেয়। তাই খেয়াল করে দেখা উচিত, স্বাধীনভাবে নিজের মতপ্রকাশ করতে কি কোনও রকম সমস্যা হচ্ছে, জোড় করে কোনো কিছু মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন? অথবা নিজের মত প্রকাশ করতে দ্বিধাবোধ করছেন?

অর্থাৎ ব্যক্তিত্বের সঙ্গে কি এই সম্পর্কটি খাপ খাচ্ছে না? এই সকল প্রশ্নের উত্তরের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যাবে তৈরি হতে চলা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ। যদি এমন হয় যে এক জনের মতামতই বারবার  প্রতিষ্ঠা পায় আর অন্য জনের মতামত বারংবার ধামাচাপা পড়ে যায়, তা হলে এমন সম্পর্কে দীর্ঘদিন থাকা দুষ্কর হয়ে যাবে। এই দম বন্ধ করা সম্পর্ক কখনও সুস্থ হতে পারে না। তাই একে মানিয়ে নিয়ে বাঁচার চেষ্টা না করাই ভালো। নিজের ব্যক্তিত্বকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। তাতে যদি সংঘাত সৃষ্টি হয়, তা হলে সেই সম্পর্ক ছিন্ন করা উচিত। তাতেই জীবনে শান্তি পাওয়া যায়।

একে অপরকে বিশ্বাস ও মতাদর্শকে সম্মান করেন তো?

অনেক সময়ই বিশ্বাস ও মতাদর্শ, নীতি ইত্যাদির মধ্যে পার্থক্য থাকে। তবে সাধারণ ভাবে যে সব নিয়ে অনেকেই বেশি মাথা ঘামায় না। এই সব প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে ‘মানিয়ে নিতে পারব’ এমন একটি মানসিকতায় ভর করে এগিয়ে যায়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড়ো সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে এই পার্থক্য। র্ধমবিশ্বাস, রাজনৈতিক মতাদর্শ, জীবনশৈলীর পার্থক্য, খাদ্যাভ্যাসের ধরন ইত্যাদির বহু রকমের পার্থক্যের মধ্যে লুকিয়ে থাকে সম্পর্ক ভাঙার কারণ।  তাই প্রথম থেকেই এই সব বিষয় নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের। তা সে নিজেদের পরিবর্তন করেই হোক বা অন্যের মতকে অসম্মান না করে তাকে সম্মান দিয়েই হোক। একে অপরকে সম্মান করে চলতে না পারলে, এই সম্পর্কে না এগোনোই ভালো।

নতুন পরিবারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারা কি সম্ভব?

বিয়ে এমন একটি সম্পর্ক যেখানে দুইটি পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শুধু দুইটি মানুষেই সীমাবদ্ধ নয়। তাই নতুন পরিবারের সকলের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে চলার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপুর্ণ। খেয়াল করে দেখা দরকার, সঙ্গীর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। তার জন্য যথেষ্ট সময় দিতে হবে।  তার জন্য নিয়ম করে দেখা করা, বেশি করে মেলামেশা করা, বেড়াতে যাওয়া, এক সঙ্গে সময় কাটানো দরকার। কিন্তু তা সত্বেও যদি তাদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব না হয়,  তা হলে সঙ্গীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা জরুরি।

দেখে নিন – বিয়ের আগে প্রি-ম্যারেজ কাউন্সেলরের পরামর্শ নেওয়া দরকার এই কারণে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.