সন্তান বয়ঃসন্ধিতে? কিছুতেই বাগে আনতে না পারলে অবশ্যই এগুলি করে দেখুন

0
relation
প্রতীকী

ওয়েবডেস্ক: কৈশোর এমনই একটি সময় যে সময় ছেলেমেয়েদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন হয়। সঙ্গে থাকে হরমোনাল পরিবর্তনও। ফলে অনেক রকমের ব্যবহারিক ও চারিত্রিক পরিবর্তন তাদের মধ্যে প্রকাশ পেতে থাকে। সেই সময়টা হল বয়ঃসন্ধির সময়। ভালোমন্দ, ঠিক-ভুল ইত্যাদির সম্পর্কে নিজের মতো করে ধারণা তৈরি হওয়ার সময়। এই সময়টাই তাদের ঠিক ভাবে পরিচালনা করা, সঙ্গ দেওয়া অভিভাবকদের বড়ো দায়িত্ব হয়ে ওঠে। এই সময়েই অভিভাবকদের কাছ থেকে ঠিক মতো পরিচর্যা ও ব্যবহার না পেলে তাঁদের সঙ্গে ছেলেমেয়েদের দূরত্ব তৈরি হতে থাকে। আর সেই দূরত্বের সুদূরপ্রসারী ফল থেকে যায় গোটা জীবনভর। তাই এই সময়টাই অভিভাবকদের উচিত অনেক বেশি সহানুভূতিশীল ও সহমর্মী ভাবে সন্তানদের সঙ্গ দেওয়া। তাদের বোঝা ও বোঝানো।

এই সময়টায় ঠিক কী ধরনের ব্যবহার করা উচিত তা বুঝে নিতে হয় খানিকটা নিজেদের কৈশোর বেলার মানসিকতার কথা স্মরণ করে। কারণ সব অভিভাবকই একটা সময় এই টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন। নিজেদের উপলব্ধি ও অভিজ্ঞতার হাত ধরে সহমর্মিতার ব্যাপারটা অনেক সহজেই এসে পড়ে।  

সন্তানরা এই বয়সে এলে ঠিক কী ধরনের ব্যবহার করবেন? এই উত্তরের গোলোক ধাঁধায় অনেক অভিভাবকই হন্যে হয়ে যান। তার কয়েকটি টিপস রইল তাঁদের জন্য।

সন্তানের বিশ্বাস জিততে হবে

যে কোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রেই বিশ্বাস একটি অন্যতম উপাদান। তাই সেই বিশ্বাসের ভিত তৈরি করা দরকার সন্তানের মনেও। যাতে করে তার মনে বাবা মা সম্পর্কে একটি নিশ্চিন্ত ভাবনা তৈরি হয়, যেখানে সে সব কথা মন খুলে নির্দ্বিধায় বলতে পারে তেমন একটি ভরসা পায়।

ধৈর্য রাখতে হবে

অভিভাবক যদি চান সন্তানরা তাঁদের কথা মানুক, শুনুক তা হলে অবশ্যই তাদের প্রতি ধৈর্য রাখতে হবে। কারণ একে-অপরকে শোনা আর বোঝার মধ্যে দিয়েই সম্পর্ক দৃঢ় হয়। তাই সে কোনো কিছু বলতে চাইলে ধৈর্য ধরে শুনতে হবে। তাকে বুঝতে হবে। তবেই সে নিজেকে উন্মুক্ত করতে পারবে বাবামায়ের কাছে। অধৈর্য হয়ে ধমকে দিয়ে কাজ হবে না।

বন্ধুত্বের সম্পর্ক

সন্তানের সঙ্গে কথা শেয়ার করলে তারাও নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। তাদের মধ্যেও দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে। নিজেদের অভিভাবকদের কাছের মনে করে। ভয়ে দূরে সরে থাকে না। তারাও নিজেদের মনের কথা সমস্যা প্রশ্ন ইত্যাদি বাবামায়েদের সঙ্গে শেয়ার করার সাহস পায়। বন্ধু মনে করতে পারে। সম্পর্কটা সহজ ও সুন্দর হয়। এতে করে বয়ঃসন্ধির নানান জটিলতা থেকে বেরিয়ে আসা আর বার করে আনা সহজ হয়।

সহানুভূতিশীল আচরণ

সকলেই একদিন ছোটো থাকে। কৈশোর পেরিয়ে বড়ো হয়। ধাপে ধাপে বাবা-মা হন। অর্থাৎ প্রত্যেক বাবা-মায়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকে কৈশোর, বয়ঃসন্ধি। তাই তাঁরা অতি সহজেই সন্তানের সমস্যা, চাহিদা, টানাপোড়েন উপলব্ধি করতে পারেন। তার জন্য শুধু দরকার, সহানুভূতিশীল মনকে জাগিয়ে তোলা। খালি শাসন নয়, হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে হবে তাদের মনকে।   

ছোটদেরও সম্মান দেওয়া

সম্মান মর্যাদা শ্রদ্ধা ইত্যাদি যে কেবলমাত্র বড়োদের জন্য বরাদ্দ তা কিন্তু নয়। ছোটোদেরও এই শব্দগুলিতে সমানাধিকার আছে। তাই কখনওই সন্তানদের সম্মানহানি করা উচিত নয়। না সকলের সামনে না সকলের আড়ালে। কারণ বাবা-মায়ের কাছ থেকে বারবার অপমানিত হতে থাকলে এক সময় তাদের মন বিদ্রোহ করে উঠবে। তারাও অভিভাবকের প্রতি সম্মান, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা হারাবে। ফলে তারা বিগড়ে যাবে। তাই বোড়োদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করতে তাদেরও সম্মান দিতে হয়ে। তা দিতে হবে উপযুক্ত ভালোবাসার মাধ্যমে।

আস্থা জোগানো

বয়ঃসন্ধির সময়ে সকলের মধ্যে একটা সব পারি, সব জানি, কাউকে লাগবে না গোছের মানসিকতা তৈরি হয়। এর ফলে অনেক সময় অনেক অযাচিত সমস্যায় জড়িয়ে পড়ে তারা। সমস্যা মুক্তির জন্য কারোর সাহায্যও নিতে চায় না তারা। কিন্তু সেই সময় যদি আস্থা দিতে পারা যায় যে সর্বদা যে কোনোও সাহায্যের জন্য তার অভিভাবক পাশে আছে, তা হলে সমস্যায় সে অবশ্যই বাবা-মাকে ভরসা করবে।

সময় দেওয়া

আজকাল বেশির ভাগ বাবা-মা কাজ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে অনেক বেশি ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু সন্তান বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছলে অনেক সময় তারা এই ব্যস্ততার মাঝে নিজেকে একা মনে করে। মনের ওপর অন্য রকম প্রভাব পড়ে। ফলে বারমুখো হয়ে যায় তারা। তাই ছেলেমেয়েকে একাকীত্বের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে তাদের একটু বেশি বেশি করে সময় দিতে হবে। তার জন্য এক সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া, নির্দিষ্ট সময় এক সঙ্গে খাওয়া, গল্পগুজব, হাসিমজা করা, এক সঙ্গে অনেকটা সময় নিয়মিত ব্যয় করা উচিত। সারা দিনে কে কী করলেন তা একে অপরের সঙ্গে একসঙ্গে বসে শেয়ার করা উচিত। সময়টাকে মধুময় করে তোলা উচিত।

পড়ুন – একের পর এক প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে? দেখুন তো এই লক্ষণগুলি আপনার মধ্যে নেই তো?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.