শীতকালে নবজাতকের যত্নে এই জরুরি বিষয়গুলি খেয়াল রাখুন

0
baby
প্রতীকী

ওয়েবডেস্ক: শিশুদের এমনিতেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। তাই শিশু অবস্থায় নিউমোনিয়া, সর্দিকাশি খুব কমন একটি সমস্যা। তার ওপর শীতকাল হলে তো কথাই নেই। সামান্য কিছুতেই মায়ের বোঝার আগেই ঠাণ্ডা লেগে যায়। তার ওপর তাদের ত্বকের কমনীয়তা রক্ষা করতে না পারলে ত্বক শুষ্ক হয়ে তাদের কষ্টের বাড়তি কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই অন্য সব সময়ের মতোই শীতকালে তাদের অতিরিক্ত যত্ন নিতে হয়।

তা হলে এই এক্সট্রা কেয়ারের মধ্যে কী কী পড়ে তা ভালো করে জেনে নেওয়া দরকার।

সুতির কাপড় –

যে কোনো ধরনের কাপড় নয়। শিশুদের জন্য চাই আদর্শ সুতির কাপড়। কারণ সুতির কাপড় তাদের কোমল ত্বকে কোনো রকম ক্ষতি করে না। বরং কোমল ত্বকের পক্ষে খুবই আরামদায়ক। তার সঙ্গে শিশুর শরীরে তাপ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রেও সুতির কাপড় আদর্শ। কারণ এটির ভেতর দিয়ে বাতাস চলাচল করতে পারে। শিশুকে উষ্ণ তাপমাত্রা দেওয়ার জন্যও শীতকালে সুতির কাপড় পরানো ও ব্যবহার করা উপযোগী।

কাঁথা –

সুতির নরম কাপড় দিয়ে তৈরি পাতলা ও মোটা কাঁথা শিশুর জন্য ঋতু ভেদে ব্যবহার করা যায়। হালকা শীতে শিশুকে মোটা কাঁথা জড়িয়ে রাখা যেতে পারে। তাতে তাপমাত্রা আরামদায়ক থাকে। শিশুও তাতে ভালো থাকে। তা ছাড়া সুতি কাপড় শিশুর ত্বকের কোনো ক্ষতি করে না, অ্যালার্জি বা র‍্যাশ ইত্যাদিও হয় না।

ডায়াপারের ব্যবহার

যে কোনো সময়ই শিশুর ডায়পার হওয়া উচিত শুকনো অনুভূতিদায়ক। তা যেন লিক না করে, ভিজে উঠে শিশুর ত্বককে ভিজিয়ে না দেয় সে দিকে সদা সচেতন দৃষ্টি রাখতে হবে। শুধু তাই নয়, বিশেষ করে শীতকালে ডায়াপার ভিজে গেলে বা লিক করলে তার ঠান্ডা লেগে যাওয়ার ভয় থাকে। এ জন্য অবশ্যই বেশি শোষণ ক্ষমতা যুক্ত এবং লিক-প্রুফ ডায়াপার ব্যবহার করা ইচিত। নিয়ম করে কম করে ছয় ঘণ্টা পর পর ডায়পার বদল করে দেওয়া ভালো।

শীতের পোশাক

শীত কালের ঠাণ্ডা হাওয়া যাতে না লাগে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাই বেশি পরিমাণ গরম পোশাক পরাতে হবে এবং প্রয়োজনে তার পরিমাণ বাড়াতে বা কমাতে হবে। অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে অতিরিক্ত গরম হয়ে গিয়ে যেন ঘাম বসে ঠাণ্ডা লেগে উলটো বিপত্তি না হয়।  

শিশুর স্নান

অনেকেই শীতকালে শিশুদের স্নান করাবেন কি করাবেন না তা নিয়ে চিন্তা করেন। কারণ ধারণা থাকে ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। কিন্তু ব্যাপারটি আসলে  পুরোটাই উলটো। শিশুদের শীতকালে অন্য সময়ের থেকে অনেক বেশি করে  বেশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়। কারণ শীতকালে শিশুর শরীরে তেল ক্রিম ইত্যাদি লাগানো হয়। নিয়মিত সঠিক পদ্ধতিতে সেগুলি প্রতিদিন ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা দরকার। তা না হলে তার একটা আলাদা পরত শিশুর ত্বকের ওপর জমে যায়। তার ফলে শিশুর ত্বক নিঃশ্বাস নিতে পারে না। তার সঙ্গে শিশুর জন্য শীতকালে উপযোগী সাবান ব্যবহার করতে হবে।

আরও একটি বিষয় মনে রাখতে হবে স্নানের জলের বিশেষত্ব। সেটা হল এক দম ঠাণ্ডা জল যেমন নয়, তেমনই আবার খুব গরম জলও নয়। জল হতে হবে হালকা গরম, আরামদায়ক। শিশুর গায়ে সে জল দেওয়ার আগে নিজেকে হাত দিয়ে সেই উষ্ণতা যাচাই করে নিতে হবে। স্নানের পর নরম তোয়ালে দিয়ে খুব দ্রুত মাথা আর গা মুছিয়ে গরম পোশাক পরাতে হবে। খেয়াল করতে হবে গা বা মাথায় যেন একটুও জল না থাকে। স্নানের পর রোদে কিছুক্ষণ রাখতে পারলে ভালো তবে সে ক্ষেত্রে ঠাণ্ডা হাওয়া যাতে না লাগে, সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।  

সাবধান হন – নিউমোনিয়ায় প্রতি ৩৯ সেকেন্ডে একজন করে শিশুর প্রাণ গিয়েছে: স্বাস্থ্য সংস্থা

শিশুর ক্রিম

শীতকালে শিশুর ত্বককে সব সময় ময়শ্চারাইজারে আর্দ্র রাখতে হবে। শিশুর স্নানের পরই উপযুক্ত অলিভ ওয়েল, বেবি বডি লোশন, বেবি স্কিন ক্রিম ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে।

খাবার নির্বাচন –

শীতের সময় সকলেরই খাবার বেছে খাওয়া উচিত। কারণ গরম কাপড়, গরম জলে স্নান ইত্যাদির কারণে শরীর পেট গরম হয়েও থাকে। তাই হজমে কিছু সময়ে সমস্যা তৈরি হয়। সেই সমস্যা শিশুদের ক্ষেত্রেও হয়। তাই খাবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। ভালো করে সেদ্ধ করা খাবার খাওয়াতে হবে। তা ছাড়া এই সময় বেশ কিছু ফল পাওয়া যায় যেগুলিতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি থাকে। এই সময়টা শরীর গঠনের সময়। তাই মরশুমের এই সমস্ত ফল যেমন কমলা লেবু, আমলকী ইত্যাদি সব কিছুই খাওয়ানো উচিত। চিবিয়ে খাওয়ার বয়স না হলে রস করেও এই ফলগুলি খাওয়ানো দরকার।    

ঠাণ্ডা লেগে গেলে কী করবেন?

যদি নাক দিয়ে জল পড়ে, বুকে ঘড়ঘড় শব্দ হয়, নিঃশ্বাস নিতে গেলে বুকের ছাতি বসে যায় তা হলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে নাকের ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজনে মধুও খাওয়ানো যেতে পারে।  

অন্যান্য বিষয় –

শিশুর ঘর সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। প্রচুর পরিমাণে আলো-বাতাস খেলতে পারছে কিনা, সেটা খেয়াল রাখতে হবে। শিশুকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দিতে মায়ের উচিত তাকে বেশি করে বুকের দুধ খাওয়ানো। চেষ্টা করা উচিত শিশুকে নিজের কাছে নিয়ে শোওয়া।

দেখুন – সন্তান বয়ঃসন্ধিতে? কিছুতেই বাগে আনতে না পারলে অবশ্যই এগুলি করে দেখুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.