ভিটামিন ই তেল এইভাবে ব্যবহার করলে বয়স দশ বছর কম দেখায়

0
tips
প্রতীকী ছবি

স্মিতা দাস: ভিটামিন ই ক্যাপসুল নিয়ে অনেকেই অনেক কিছু শুনেছেন, আবার অনেকে জানেনও অনেকটাই। তবে ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি কী সেটি বুঝতে না পারার দরুণ রূপচর্চায় এর ব্যবহার করতে গিয়েও অনেকে করতে পারেন না।

তবে অনেকেরই ধারণা, ভিটামিন ই অয়েল ব্যবহার করলে চুল পড়া কমে যায়। নতুন চুল গজায়। আবার কেউ মনে করেন এর ব্যবহারে ত্বকের উজ্জ্বলতা বেড়ে যায়। তবে একটা কথা, শুধু এই দু’টি উপকারিতাই নয়, ভিটামিন ই ক্যাপসুল বা অয়েলের ব্যবহার ঠিক পদ্ধতিতে করতে পারলে এর উপকারিতা অনেক।

প্রথমেই দেখে নেওয়া যাক ভিটামিন ই ব্যবহার করার কারণগুলি ঠিক কী?

১। ভিটামিন ই ক্যাপসুল বা তেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

২। তা ছাড়া এটি যে হেতু ভিটামিন ই তাই এর সহজাত গুণাবলি তো আছেই। যার ফলে ত্বক ও চুলের প্রাণ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। সঙ্গে রয়েছে আরও অনেক সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাও।

ঠিক কী কী সমস্যায় ভিটামিন ক্যাপসুল বা তেল ব্যবহার করা যেতে পারে?

১। ত্বক শুষ্ক ও ম্যাড়ম্যাড়ে হয়ে গেলে।

২। ত্বকের উজ্জ্বলতা ও স্বাস্থ্য ধরে রাখতে।

৩। ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুর পুনর্গঠন করতে।

৪। পোড়া দাগ, পক্সের দাগ ও ব্রনর জন্য হওয়া কালো দাগ বা ছোপ দূর করতে।

৫। ত্বকের কালচে দাগ বা মেছেতার দাগ বা ছোপ দূর করতে।

৬। শুষ্ক ত্বকে জেল্লা আনতে।

৭। চোখের তলার কালো দাগ বা ব্ল্যাক সার্কেলস দূর করতে।

৮। ঘাড় ও কোমড়ের খাঁজে জমে থাকা কালো চামড়া পরিষ্কার করতে বা কালো দাগ দূর করতে।

৯। কনুই হাঁটুর কালো ছোপ দূর করতে।

১০। চোখের নীচের কুঁচকে যাওয়া চামড়া টানটান করতে।

১১। চোখের পাশের বলিরেখা দূর করতে।

১২। হাত ও পায়ের কুঁচকে যাওয়া চামড়া মসৃণ ও টানটান করতে।

১৩। চুলের নব যৌবন ফিরিয়ে আনতে।

১৪। চুল স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও চকচকে করতে।

১৫। চুলের খসখসে ভাব দূর করে মসৃণ বা সিল্কি করতে।

১৬। চুল ঝরে মাথা ফাঁকা হয়ে গেলে, নতুন চুল গজাতে।     

১৭। সুন্দর কোমল গোলাপি ঠোঁট পেতে।

এর ব্যবহার করবেন কী ভাবে

১। নাইটক্রিম: এখন চটজলদি বাজারে সকলেই সহজে বাজি মাত করতে পছন্দ করেন। তাই অনেকেরই পছন্দ থাকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সামগ্রী। সে ক্ষেত্রে অনেকেই কোনো না কোনো ডে ক্রিম ও নাইট ক্রিম ব্যবহার করেন। ভিটামিন ই অয়েল তা হলে মাখবেন কখন? তবুও মাখার সুব্যবস্থা আছে। তা হল নিজের ব্যবহারের ক্রিমের সঙ্গেই ভিটামিন ই অয়েল মিশিয়ে নিয়ে অনায়াসেই ব্যবহার করা যেতে পারে। অথবা অ্যালোভেরা পাতা ছেঁচে জেল বার করে তাতে ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে একটি প্রাকৃতিক ক্রিম বানিয়ে নিয়েও ব্যবহার করা যায়। বাজারচলতি ক্রিমের ক্ষেত্রে ক্রিমটি মাখার সময় হাতে পরিমাণমতো নিয়ে তাতে একটা ভিটামিন ই ক্যাপসুল অল্প করে কেটে কয়েক ফোঁটা তাতে মিশিয়ে নিতে হবে। তার পর দু’টি ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে মুখে লাগিয়ে নিতে হবে। তার পর তা সারা রাতের জন্য মুখে রেখে দিতে হবে। পরের দিন সকালে উঠে তা পরিষ্কার জলে অথবা হালকা গরম জলে ধুয়ে নিতে হবে।

২। বডি লোশন : বডি লোশনের সঙ্গেও একই ভাবে ভিটামিন ই ক্যাপসুল ব্যবহার করা যায়। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনে একটি গোটা ক্যাপসুলের তেলই লোশনের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে। তা সারা রাত মেখে থাকতে হবে। পরের দিন তা ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে।

৩। ক্লিনজার : ভিটামিন ই ক্যাপসুল খুব ভালো ক্লিনজার হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তার জন্য সব শেষে রাতে শোয়ার আগে একটি তুলোর বল নিয়ে তাতে নামমাত্র গোলাপ জল নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে তুলোর বলটি যেন পুরোটা ভিজে না যায়। তার পর ভিটামিন ই ক্যাপসুলের তেলটা খানিকটা তার ওপর নিতে হবে। এবং তা দিয়ে মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এতে করে দেখা যাবে মুখে আটকে থাকা অনেক ময়লা উঠে এসেছে।

৪। সিরাম : ভিটামিন ই ক্যাপসুল আবার স্কিন সিরাম হিসাবেও ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে তা সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করার আগে নিজের ত্বকের ধরনের ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ শুষ্ক ত্বকের জন্য যে পরিমাণ এই তেল প্রয়োজন, তৈলাক্ত ত্বকের জন্য তার থেকে অনেক কম পরিমাণ প্রয়োজোন। তাই শুষ্ক ত্বকের মানুষ একটি গোটা ক্যাপসুলের তেল ব্যবহার করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তৈলাক্ত ত্বকের মানুষদের মাত্র কয়েক ফোঁটাই যথেষ্ট। লাগানোর নিয়ম হিসাবে বলা যায়, হাতের তালুতে পরিমাণমতো নিয়ে সারা মুখে ভালো করে মাখিয়ে দিয়ে হবে। এর পর তা সারা রাত রেখে নিতে হবে। অথবা তৈলাক্ত ত্বক হলে সামান্য পরিমাণ নিয়ে হাতের তালুতে ভালো করে মেখে নিতে হবে। এর পর তা মুখের ওপর চেপে চেপে বসাতে হবে। কোনো রকম ঘষাঘষির জায়গা নেই। এর পর দুই ক্ষেত্রেই হালকা হাতে মুখটি ম্যাসাজ করতে হবে।

৫। অ্যান্টি এজিং ক্রিম : ভিটামিন ই খুব ভালো অ্যান্টি এজিং ক্রিম হিসাবে ব্যবহার করা যায়। অনেকেই অনেক কিছু বলিরেখা দূর করার জন্য ব্যবহার করেন। সে ক্ষেত্রে যদি অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে ভিটামিন ই তেলের কিছুটা পরিমাণ নিয়ে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়।

৬। আই ক্রিম : চোখের চার পাশে গোল করে লাগিয়ে ব্যবহার করা যায় তা হলে অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই সুফল পেতে বাধ্য। সে ক্ষেত্রে চোখের নীচের কালো দাগ ছোপ যেমন দূর হবে, বলিরেখাও দূর হবে। সঙ্গে সঙ্গে চোখের নীচের কোঁচকানো চামড়াও টানটান হবে। তবে এটি লাগিয়ে রেখে ঘুমিয়ে পড়ার আগে লাগানোর পর হালকা হাতে ম্যাসাজ করতে পারলে উপকার বেশি হবে। এই ক্ষেত্রে শুধু ভিটামিন ই ক্যাপসুল যেমন ব্যবহার করা যেতে পারে, তা ছাড়া এর সঙ্গেও অ্যালো জেল ব্যবহার করা যেতে পারে।

৭। হেয়ার সিরাম : শুধু ত্বক নয় চুলের যত্নেও ভিটামিন ই-র তুলনা হয় না। চুল পড়ে যাওয়া, নতুন চুল গজানো ইত্যাদিতে এর ব্যবহার করা যায়। এই জন্য নারকেল তেল বা পছন্দের মাথায় মাখার তেলের সঙ্গে ভিটামিন ই ক্যাপসুল কেটে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। এর পরিমাণ হল এক চামচ তেলে এক অথবা দুটি ক্যাপসুল। এর পর তেলটি স্ক্যাল্পে ভালো করে লেপে লেপে ম্যাসাজ করতে হবে। লম্বা চুলেও ওই তেল দেওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে তেল দেওয়ার পর চুলের অল্প অল্প অংশ ধরে নিয়ে লম্বা চুলটা একটু টেনে টেনে দিতে হবে। এতে চুল ভালো পুষ্টি পারে। এই ভাবে তেল লাগানোর পর এক দিন অন্তত রেখে দিতে হবে। পরের দিন তা জলেও ধুয়ে নেওয়া যায়। আবার বেশি চটচটে মনে হলে শ্যাম্পুও করে নেওয়া যেতে পারে।

৮। কনুই হাঁটুর ব্ল্যাকস্পট : অনেকেই হাটু আর কনুইয়ে কালো দাগের জন্য নাজেহাল হয়ে যান। অনেক কিছু করেও কোনো ফল পান না। দাগ যেমনকার তেমন। সে ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে ভিটামিন ই। বডি লোশনের সঙ্গে অথবা শুধুও এই ক্যাপসুলের তেল কনুই আর হাঁটুতে লাগিয়ে পাঁচ মিনিট ধরে ম্যাসাজ করতে হবে। এই ভাবে যদি মাস খানেক করা যায় চোখে পড়ার মতো ফল পাওয়া যাবে।

৯। ঘাড়-কোমর-বগলে সাদাকালো দাগ : অনেক মোটা মানুষেরই এই সমস্যা থাকে। কোমর আর ঘাড়ের খাঁজে বা অনেকের ক্ষেত্রে বগলেও কালো কালো ছোপ থাকে। সেই দাগও দূর করতে পারে এই ভিটামিন ই। তার জন্যও যে কোনো পছন্দের ময়শ্চারাইজারের সঙ্গে দু’টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে ম্যাসাজ করতে হবে। মাস খানেক ব্যবহারের পর সুফল চোখে পড়বে।

১০। পোড়া দাগ, ব্রন বা পক্সের দাগ : এই ধরনের জেদি দাগ দূর করতেও ভিটামিন ই ব্যবহার করা যায়। এই দাগের ওপর নিয়ম করে শুধু ভিটামিন ই ক্যাপসুলের অয়েল লাগাতে হবে। তা হলে সামান্য হলেও গাঢ় দাগ হালকা হবে।

পড়ুন – শীতের আগে গোড়ালির যত্নে অব্যর্থ ঘরোয়া টিপস

১১। লিপ বাম : শীত বলে নয়, সারা বছরই সুন্দর কোমল মসৃণ ও গোলাপি রঙের ঠোঁট পেতে হলে ব্যবহার করা যায় ভিটামিন ই। সে ক্ষেত্রে রোজের ব্যবহারের জন্য যে ভাবে ভিটামিন ই ক্রিম লোশনে মিশিয়ে নিতে হয়েছিল সেই ভাবেই পেট্রোলিয়াম জেলি বা ভেসলিন বা অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে একে মিশিয়ে লিপ বাম তৈরি করে রাখা যাতে পারে। তা ঠোঁটে সারা বছর ব্যবহার করা যায়। এতে ঠোঁটের শক্ত চামড়া নরম হবে, ফাটা বন্ধ হবে, কালো দাগ কমে যাবে ও ঠোঁটের রঙ প্রাকৃতিক ভাবে গোলাপি রং লাভ করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.