GangaSagar

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, গঙ্গাসাগর: সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর এক বার। এখন সে কথা অতীত। গঙ্গাসাগরের আমূল পরিবর্তনে এখন চেনাই যাচ্ছে না কয়েক বছর আগের গঙ্গাসাগরকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য্যের হাত ধরে এখানে গঠন করা হয়েছে, গঙ্গাসাগর-বকখালি উন্নয়ন পর্ষদ। এই পর্ষদের তত্ত্বাবধানেই উন্নয়নের কাজ চলছে জোরকদমে।

গত বছর গঙ্গাসাগর পরিদর্শনে এসে সাগর সঙ্গমে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, গঙ্গাসাগরকে পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা আছে তাঁর। সমুদ্রতটে ২৭ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকায় সৌন্দর্যায়ণের নির্দেশও দিয়েছিলেন। তার পর জেলাশাসকের তৎপরতায় আমূল বদলে দিয়েছে গঙ্গাসাগর। পালটে যাচ্ছে গঙ্গাসাগরের অর্থনীতি, জনজীবনও।

আরও পড়ুন : মকর সংক্রান্তি মানে পৌষ পার্বণ, তাই শিখে নিন নবান্ন তৈরির পদ্ধতি

প্রাক্তন বিদ্যুৎমন্ত্রী মনীষ গুপ্তের হাত ধরে সাগরের রুদ্রনগরে বিদ্যুতের সাব স্টেশন তৈরি হয়েছে। সাগরবাসী এখন ২৪ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ পরিষেবা পাচ্ছে। বর্তমানে এই পরিষেবার আরও অগ্রগতি হয়েছে।

তৈরি হয়েছে বেশ কিছু স্থায়ী আবাসন। মুখ্যমন্ত্রীর চোখ দিয়ে গঙ্গাসাগর এখন বিশ্বমাঝে একটি পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়েছে। কচুবেড়িয়া থেকে সাগরদ্বীপ পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার রাস্তাকে (দু’লেনের) ঝাঁ চকচকে করে চওড়া পিচের রাস্তা করা হয়েছে। প্রচুর গাড়ি চলাচল করছে। রাস্তার দু’পাশে বসানো হয়েছে ত্রিফলা বাতিস্তম্ভ।

কপিলমুনির আশ্রম আলোকসজ্জায় সেজে উঠেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন এখানে। মেলাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে বসানো হয়েছে ড্রাম, ড্রাম্পিং গ্রাউন্ড। নদী তীরবর্তী এলাকায় বসানো হয়েছে ওয়াচটাওয়ার।

আরও পড়ুন : মকরসংক্রান্তি তে বানান ক্ষীর নারকেলের পাটি সাপটা

কপিলমুনির মন্দিরে জ্ঞানদাস মহান্ত জানালেন, এ বছর মকর সংক্রান্তির পূণ্যস্নান ১৪ জানুয়ারি সকাল ৯টা ১৫ থেকে পরের দিন ১৫ জানুয়ারি সকাল ১০ পর্যন্ত করা যাবে। গত ৭ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক ভাবে মেলার উদ্বোধন করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র। মেলা চলাকালীন বেশ কয়েক জন মন্ত্রী গঙ্গাসাগরে থাকছেন।

GangaSagar

এ বছর তীর্থসাথী নামে মেগাকন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। বাবুঘাট থেকে শুরু করে গঙ্গাসাগর অবধি ১০০টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। যার গতিবিধি ৪৪টি প্যানেলের মাধ্যমে তীর্থসাথী মেগাকন্ট্রোল রুমের মনিটরে ফুটে উঠবে। এবং তার ফুটেজ সরাসরি নবান্নে চলে যাবে বলে জানালেন, তীর্থসাথীর কাজের সঙ্গে যুক্ত অভিষেক মাইতি। এ বছর থেকে মেলায় আসা তীর্থযাত্রীদের বিমার ব্যবস্থা করেছে সরকার। এ বছর বাজেট ১০০ কোটি টাকা।

সব মিলিয়ে বার বার যেতে ইচ্ছা করবে গঙ্গাসাগরে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here