এএফসি কাপের গ্রুপপর্বের অভিযান শুরুতে আখেরে আই লিগের অঙ্ক মোহনবাগানে

1
172

সানি চক্রবর্তী:

একই মাঠ, একই প্রতিপক্ষ, শুধু মঞ্চটা আলাদা। তিন দিন আগে কান্তিরাভাতে ঘটে যাওয়া মোহনবাগান বনাম বেঙ্গালুরু ম্যচের রিপ্লে। শুধু আই লিগের মঞ্চটা বদলে এএফসি কাপ। আর তাতেই কতটা পার্থক্য! দুই দলের কাছেই নতুন শুরু। এক দিকে বেঙ্গালুরু এফসি গত বারের এএফসি কাপের রানার্স, তাদের কাছে এই প্রতিযোগিতা রীতিমতো সম্মানের লড়াই। এ বারের আই লিগে এক দমই ছন্দে না থাকা সুনীল-বিনীতদের কাছে তাই নতুন উদ্যমে শুরু করার লড়াই। অন্য দিকে, এশিয়ার মঞ্চে বেঙ্গালুরুর পাওয়া ঈর্ষণীয় সাফল্যকে তাড়া করার খাতির মোহনবাগানের। মরশুমের শুরু থেকেই সনি-সঞ্জয়রা এশিয়ান মঞ্চে নিজেদের দলের জাত চেনাতে মরিয়া ছিলেন। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। আই লিগের খেতাবি দৌড়ে টিকে থাকতে নিজেদের সর্বস্ব নিয়ে ঝাঁপাতে চাইছে সবুজ-মেরুন শিবির। সেই দিক থেকে দেখলে কিছুটা ব্যাকসিটে এএফসি কাপের গুরুত্ব। ক্লাবের কর্তারা বুঝে গিয়েছেন সমর্থকদের কাছে আই লিগের গুরুত্ব রয়েছে, এএফসি-র সম্মানে তারা এখনও সে ভাবে মোহিত নন। পাশাপাশি এমনিতেই এএফসি কাপের লিগ পর্যায়ের জন্য ৩১ মে পর্যন্ত দল ধরে রাখতে হচ্ছে তাদের। কিন্তু তার পর? মোহনবাগান গ্রুপপর্বের বাধা টপকালে নক-আউট পর্যায়ে খেলার জন্য দল কি আদৌ ধরে রাখা যাবে? উত্তরটা অবশ্যই নেতিবাচক। নক-আউট পর্বের খেলা হলে তা হবে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ। আবার অক্টোবরে যুব বিশ্বকাপের পরেই শুরু হয়ে যাবে আইএসএল। সে ক্ষেত্রে পূর্ণশক্তির দল খেলাতে হলে, আইএসএলের দলে না ছেড়ে ফুটবলারদের চুক্তির অর্থ দিয়ে ধরে রাখতে হবে ক্লাবকে। স্পনসরহীন মোহনবাগান যে সে রাস্তায় হাঁটবে না, তার প্রমাণ গত বছরেই পাওয়া গিয়েছিল। তাই এ বছরও গোটা ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে অবাক হওয়ার মতো কিছু থাকবে না।

এএফসি কাপের ম্যাচের পরেই রয়েছে দুই সপ্তাহের আন্তর্জাতিক বিরতি। তাই যতটা সম্ভব শক্তিশালী দল নামানোর সুযোগটা পাবেন সঞ্জয় সেন। টানা ম্যাচ খেলার পাশাপাশি আগের দিন দশ জনে খেলার ধকল রয়েছে। তাই ফিট খেলোয়াড়দেরই দলে রাখতে চাইছেন বাগান কোচ। সন্ধের অনুশীলনে হালকা চোটে পেয়েছেন ডাফি। তাই দলের এক নম্বর স্ট্রাইকারের খেলা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। অনুশীলনের আগে কোচের সঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলনে যদিও এসেছিলেন স্কটিশ স্ট্রাইকারটিই। সঞ্জয় যদিও অঙ্ক কষেই জানিয়েছেন, “গ্রুপের প্রথম ম্যাচ তিন পয়েন্টের লক্ষ্যেই নামব। তবে এক পয়েন্ট হলেও ক্ষতি নেই। হাতে এর পরেও পাঁচটা ম্যাচ রয়েছে। তাই এক বা দুটো ম্যাচ ফ্যাক্টর খুব বেশি হবে না।” সাত-পাঁচ না ভেবে এই ম্যাচে মাপা ফুটবলই খেলাতে চাইছেন সঞ্জয়। তার পরে হাতে থাকা সময়ে বাকিটা ভাবতে চান। আসলে এই ম্যাচের গুরুত্ব অন্য জায়গায়। এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচের ফলাফল তো রয়েইছে, সঙ্গে থাকছে জিতে মানসিক অ্যাডভান্টেজ তৈরির সুযোগ। কারণ, বিরতির পরে আই লিগের শুরুতেই ফের বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধেই নামবে মোহনবাগান। ১ এপ্রিল রবীন্দ্র সরোবরে হোম ম্যাচের আগে তাই এটা শেষ স্টেজ রিহার্সাল। জিততে পারলে, মানসিক ভাবে তরতাজা হয়ে ছুটিতে যাওয়া যাবে। সঙ্গে জোগাড় করে নেওয়া যাবে আই লিগের দৌড়ের অক্সিজেন। কারণ, আই লিগে ফিরতি বেঙ্গালুরু ম্যাচের পরেই ৯ এপ্রিল শিলিগুড়িতে ডার্বি। তাই লিগে দু’টো ম্যাচে ড্র করে হাঁসফাঁস করতে থাকা দলের কাছে অক্সিজেন সিলিন্ডার হয়ে উঠতে পারে এএফসি কাপের বেঙ্গালুরু ম্যাচটি।

বেঙ্গালুরু এফসি বনাম মোহনবাগান

কান্তিরাভা স্টেডিয়াম, সন্ধে ৭ টা।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here