ওয়েবডেস্ক: রাস্তায় পা দিতে কি দিশেহারা লাগে? মনে হয়, এই একের পর এক যাওয়া-আসা গাড়ির ভিড় কাটিয়ে আজও সময়মতো পৌঁছোনো হবে না গন্তব্যে?

মনে হলে আর দোষ কী! সত্যিই তো, ভিড়ে ভিড়াক্কার রাজপথে-গলিপথে আজকাল গাড়ির দাপটে নাভিশ্বাস ওঠারই মতো অবস্থা হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে মুক্তির দিশা বলতে মাথার উপর জেগে থাকে কেবল নীল আকাশ।

আর সেই আকাশেই এ বার মুক্তি! ট্রাফিকের চোখরাঙানি থেকে। ২০১৯ সালেই বাজারে চলে আসছে প্রথম উড়ন্ত গাড়ি। তৈরি করবে বিখ্যাত আন্তর্জাতিক সংস্থা তেরাফুজিয়া। এই কথা সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে খোলসা করে জানিয়ে দিয়েছে জেজিয়াং জিলি। বর্তমানে ভলভো, লিংক অ্যান্ড কো তো বটেই, সেই সঙ্গে জিলি অ্যান্ড লোটাস ব্র্যান্ডের সব গাড়ির মালিকানাও যে সংস্থার!

এ হেন সংস্থাই সেই ২০০৬ সাল থেকে শুরু করেছিল উড়ন্ত মার্কিন গাড়ি তৈরির পরিকল্পনা। এর আগে জাপানও যে এমন পরিকল্পনা নেয়নি, তা নয়। কিন্তু জাপানকে এ ব্যাপারে শেষমেশ টেক্কা দিল বস্টন। সেখানকার কারখানাতেই তৈরি হয়ে উড়ন্ত গাড়ি প্রায় বাজারে আসার পথে।

তেরাফুজিয়া তাদের এই নয়া গাড়ির নাম দিয়েছে ট্রানজিশন। জানা গিয়েছে, আপাতত দু’জন বসার মতো জায়গা নিয়ে উড়ানের পরিকল্পনা করেছে এই গাড়ি। সঙ্গে থাকছে সহজেই গুটিয়ে নেওয়া যায় এমন ডানা। সংস্থা জানিয়েছে, দরকার মতো স্রেফ একটা বোতাম টিপে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গুটিয়ে নেওয়া যাবে ডানা।

Transition Flying Car

সংস্থা আরও জানিয়েছে, আপাতত ৪০০ মাইল ফ্লাইং রেঞ্জের মধ্যেই উড়তে পারবে এই গাড়ি। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০০ মাইল উড়ানের ক্ষমতা রাখবে ট্রানজিশন। অসুবিধা বলতে কেবল একটাই- আপাতত এই উড়ুক্কু গাড়ির ওঠা-নামার জন্য বিমানের মতোই একটা রানওয়ের দরকার হবে। মাটিতে নামার পর ডানা গুটিয়ে নিলেই অন্য গাড়ির সঙ্গে তার তফাত করা যাবে না। ট্রানজিশনের আপাতত দাম ধার্য করা হয়েছে ১০,০০০ ইউরো।

এই ট্রানজিশন ছাড়াও আরও একটি উড়ন্ত গাড়ি বাজারে নিয়ে আসছে তেরাফুজিয়া। সেই গাড়িটির তারা নাম রেখেছে ট্রানজিশন টিএফ-এক্স। এই গাড়িটির আকাশে ওঠা-নামার জন্য রানওয়ের দরকার হবে না। দরকারমতো এবড়ো-খেবড়ো পথেও দিব্যি ওঠা-নামা করবে গাড়িটি। এর দাম ধার্য করা হয়েছে ২ লক্ষ ৭৯ হাজার ইউরো।

তেরাফুজিয়ার এই অগ্রগতিতে কিছুটা মুষড়ে পড়লেও একেবারে নিশ্চেষ্ট হয়ে নেই অন্য সংস্থাগুলিও। জাপানের টয়োটো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে গেলেও যত দ্রুত সম্ভব কাজ মেটানোর পরিকল্পনা করেছে বলে খবর। পাশাপাশি উড়ন্ত গাড়ি তৈরির এই এক লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে মার্সিডিজ বেঞ্জ, তারা গাঁটছড়া বেঁধেছে জার্মান উড়ন্ত ট্যাক্সি-সংস্থা ভোলোকপ্টারের সঙ্গে। অন্য দিকে উবের নিজস্ব উড়ন্ত তৈরির জন্য হাত মিলিয়েছে নাসা-র সঙ্গে। প্রথম হাসিটা যদিও লেগে রইল তেরাফুজিয়ার ঠোঁটেই! বিশ্বাস না হলে দেখে নিন নীচের ভিডিওয়!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here