nilanjan-duttaনীলাঞ্জন দত্ত

কাশ্মীর থেকে খালি হাতে ফিরতে হল সংসদের সর্বদলীয় প্রতিনিধিদের। কারণ, হুরিয়ত কনফারেন্সভুক্ত কোনও দলের নেতাই তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। অনেকেই বলছেন, যেভাবে এই ‘শান্তি প্রক্রিয়া’ শুরু করা হয়েছে, তাতে সাফল্য আসাটাই আশ্চর্য ছিল।

যে সময় দিল্লি থেকে এই প্রতিনিধিরা অবশেষে শ্রীনগর গিয়ে পৌঁছলেন, সেই সময়ের মধ্যে এই ‘ভূস্বর্গের’ উপত্যকায় অনেক রক্ত গড়িয়ে গেছে। প্রায় টানা দু’মাস গণবিক্ষোভ চলার সুবাদে কারফিউ দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাণ দিতে হয়েছে দু’জন পুলিশকর্মী-সহ ৭১ জন মানুষকে। বিক্ষোভকারীদের ঢিলের জবাবে জওয়ানদের ছররা গুলিতে চোখ নষ্ট হয়ে হাসপাতালে ভর্তি কয়েক ডজন কিশোর-কিশোরী। জেলে বন্দি কয়েক হাজার।

all-party-deligation

এমন পরিস্থিতিতে বসল সর্বদল বৈঠক। এই ধরনের বৈঠক সাধারণত হয় রাজনৈতিক দলগুলি যখন কোনও একটা বিষয়ে একমত হতে পারছে না, তখন তাদের মধ্যে মতৈক্য আনার  জন্য। কাশ্মীরের বর্তমান অবস্থায় আলোচনাটা হবে কার সঙ্গে? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতরের রিপোর্টই বলেছে, এই আন্দোলনের নেতৃত্ব কার হাতে, তা স্পষ্ট নয়। ওই দফতর ৪০০ জনের একটা তালিকা তৈরি করেছিল, যাঁদের নেতা বলে মনে হচ্ছে। তাঁদের সকলকে জেলে পোরা হয়েছে। কিন্তু ৪০০ জনের সঙ্গে কী ভাবে আলোচনা করা যায়? কে-ই বা তাঁদের প্রতিনিধি? আর এঁরাই যদি নেতা হন, তাহলে তাঁরা সক্কলে জেলে যাওয়ার পরেও আন্দোলনটা চলছে কী করে? তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসার পর আরও ৪০০ জন নেতা বেরোবে না তো? এমন ধাঁধার সমাধান করতে রাষ্ট্রের কর্তারা অপারগ। কারণ তাঁরা ‘পার্টি’, ‘নেতা’, এঁদেরই চেনেন, এঁদের সঙ্গেই আদানপ্রদান করতে অভ্যস্ত। ‘জনগণ’ যেন তাঁদের কাছে কোনও অচেনা প্রাণী, যার গতিপ্রকৃতি তাঁদের অজানা।

syed-ali-geelani

তাহলে হাতে রইল হুরিয়ত। এই সম্মেলনের ছত্রছায়ায় এমন কিছু দল ও নেতা রয়েছেন, যাঁরা কাশ্মীরে আগেকার বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনগুলি থেকে উঠে আসা পরিচিত মুখ, যদিও বর্তমান আন্দোলনের রাশ কতটা তাঁদের হাতে আছে তা বিতর্কের বিষয়। তবুও অনেকে বলেছিলেন, হুরিয়ত হয়তো আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের একটা রাস্তা খুলে দিতে পারবে। অটলবিহারী বাজপেয়ীর সরকার তাঁদের সঙ্গে কথা বলে ভালো ফল পেয়েছিল। কিন্তু বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার এ ব্যাপারে এক অদ্ভুত নীতি নিল। গৃহবন্দি হুরিয়ত নেতাদের সঙ্গে কথা বলার কোনও সরকারি উদ্যোগ হল না। সিপিএম, সিপিআই, জেডিইউ এবং আরজেডি সাংসদরা ‘নিজস্ব উদ্যোগে’ তাঁদের বাড়ি বাড়ি গেলেন। এবং তাঁরা কোনও কথা বললেন না। তার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁদের সমালোচনায় ফেটে পড়লেন। একের পর এক ‘সরকারী সূত্র’ থেকে জানানো হতে লাগল, বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা সাংসদদের সঙ্গে দেখা না করায় সরকার কতটা রেগে গেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে ইত্যাদি।

যাই হোক, এখন আবার শোনা যাচ্ছে, কাশ্মীরে কোনও সমঝোতা নয়, কড়া ব্যবস্থাই নেওয়া হবে। তাহলে আবার শূন্য থেকে শুরু? তার চেয়ে ‘জনগণ’ প্রাণীটার মনমেজাজ একটু বোঝার চেষ্টা করলে হয় না?

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here