BJP win
saibal biswas
শৈবাল বিশ্বাস

গুজরাত ও হিমাচল প্রদেশের নির্বাচনে বিজেপি জেতার পর দেশের ২৯টি রাজ্যের মধ্যে ১৯টিতেই ক্ষমতা দখল করল বিজেপি বা বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। ভারতীয় গণতন্ত্রের পক্ষে এটা খুব একটা ভালো লক্ষণ বলে মনে করছে না রাজনৈতিক মহল। অতীতে কোনো দল এতগুলি রাজ্যে এক সঙ্গে ক্ষমতায় আসেনি বলে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন। ২৪ বছর আগে কংগ্রেস দেশের ১৮টি রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল। তখন অবশ্য দেশে ২৯টি রাজ্য ছিল না। রাজ্যের সংখ্যা ছিল অনেক কম। ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বরে দেশের ২৬টি রাজ্যের মধ্যে ১৫টিতে কংগ্রেস আর একটিতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ছিল। কিন্তু এ বারের মতো পরিস্থিতি কোনো বারই হয়নি।

এ দিকে নরেন্দ্র মোদী আবার খোলাখুলি গোটা দেশে লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে এক সঙ্গে ভোট করানোর পক্ষে সুপারিশ করেছেন। অর্থাৎ কেন্দ্রে একটি রাজনৈতিক দলের প্রাধান্য থাকলে রাজ্যে যাতে সেই দলেরই প্রভাব প্রতিপত্তি বজায় থাকে সে দিকেই নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহর ভাবনা। এই যুক্তিটা অবশ্য ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়। এ রাজ্যের শাসকদলের পক্ষ থেকেও গত পুর নির্বাচনে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, রাজ্যে একটি দল আর পুরসভা বা ওয়ার্ডে অন্য একটি দলের ক্ষমতায় থাকা বাঞ্ছনীয় নয়। তাতে নাকি উন্নয়ন ব্যাহত হয়। বিরোধীদের হাতে থাকা পুরসভা বা পঞ্চায়েত ছিনিয়ে নেওয়ার সময়ও সেই একই যুক্তি খাড়া করা হয়। উন্নয়নের জন্যই নাকি স্বশাসিত সংস্থার ভোল বদল প্রয়োজন। সব মিলিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যে দিকে অগ্রসর হচ্ছে তাতে বহুত্ববাদ শব্দটিই রাজনৈতিক আঙিনা থেকে মুছে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে রাজনীতির ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ বলে কিছু থাকবে না। একটি দল বা জোট অবাধে তাদের মতাদর্শ জনগণের উপর বা রাষ্ট্রের উপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যাবে।

২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের আগেই গুজরাত, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ় ও নাগাল্যান্ডে বিজেপি জয় পেয়েছিল। তাদের শরিক সিকিম ডেমোক্রাটিক ফ্রন্ট জেতে সিকিমে। অন্য শরিক তেলুগু দেশম সরকার গঠন করে অন্ধ্রপ্রদেশে। তেলঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি জেতে তেলঙ্গানায়। মহারাষ্ট্রেও শিবসেনার সঙ্গে জোট সরকার গঠিত হয়, যার চাবিকাঠি বিজেপিরই হাতে। হরিয়ানায় বিজেপি একাই জয়লাভ করতে সমর্থ হয়। ঝাড়খণ্ডে শরিকদের নিয়ে সরকার গড়েছে বিজেপি। জম্মু ও কাশ্মীরে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী দুই রাজনৈতিক শক্তি পিডিপি ও বিজেপি একই মঞ্চে এসে সরকার গঠন করেছে। তবে ২০১৫ সালের নির্বাচনে বিহারে ও দিল্লিতে তাদের ভোট বিপর্যয় হয়েছে। হালে বিপর্যয় হয়েছে পঞ্জাব নির্বাচনেও। ফের চলতি বছরের শুরুতেই উত্তরপ্রদেশ আর উত্তরাখণ্ড বিজেপির আওতায় চলে আসে। অন্য দিকে মণিপুর ও গোয়ায় গরিষ্ঠতা না থাকলেও ছলেবলে কৌশলে বিজেপি সরকার তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী বছর যে সব রাজ্যে ভোট রয়েছে, তা আদৌ হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের আগে কোনো ঝুঁকি না নেওয়ার জন্য এই রাজ্যগুলোর ভোট পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে ভোট রয়েছে ত্রিপুরা, কর্নাটক, মিজোরাম, মেঘালয়, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তীসগঢ়ে। এর মধ্যে ত্রিপুরায় বামেরা ও কর্নাটকে কংগ্রেস সরকার রয়েছে। এই রাজ্যগুলোতে জেতার জন্য বিজেপি মরিয়া হয়ে উঠেছে। তার কারণ এই রাজ্যগুলোতে হেরে গেলে ২০১৯ সালে তাদের ভোটভাগ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বিধানসভার ভোট পিছিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here