rabindra goyenka
রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা

রাত পোহালেই বিশ্বকর্মা পুজো। সকাল হলেই শুরু হয়ে যাবে ঘুড়ি উৎসব। পেটকাটি, চাঁদিয়াল, মোমবাতি, বগ্‌গা নিয়ে ময়দানে নেমে পড়বে খুদের দল। সেই সঙ্গে চলবে ঘুড়ির লড়াই। বিপক্ষের ফিতে কাটতে পারলেই হল, ভোকাট্টা।

আজ রাত থেকেই মাঞ্জা দেওয়া শুরু হয়ে যাবে। কচিকাঁচাদের এখন প্রার্থনা, আজ রাতটা যেন কোনো ভাবেই বৃষ্টি না হয়। বৃষ্টি হলেই তো মাঞ্জা দেওয়ার সব পরিশ্রম যাবে মাটি হয়। না, বৃষ্টি হওয়ার সে রকম কোনো পূর্বাভাস আজ নেই। কিন্তু কাল কী হবে। শুধু বৃষ্টিহীন আবহাওয়া হলেই চলবে না, সেই সঙ্গে ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য দরকার ভালো হাওয়াও। রবিবার কেমন আবহাওয়া থাকবে একবার বিশ্লেষণ করা যাক।

প্রথমেই বলে রাখি রবিবার একদম সকালের আবহাওয়া কিন্তু ঘুড়ি ওড়ানোর অনুকূল নয়। কারণ রবিবার সকাল ন’টা পর্যন্ত হাওয়ার গতিবেগ খুব কম থাকবে। ঘণ্টায় মাত্র পাঁচ থেকে আট কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইবে। সেই সঙ্গে বাতাসে থাকবে মাত্রাছাড়া আর্দ্রতা। সকাল ন’টা পর্যন্ত ঘুড়ি ওড়াতে হলে ‘টেনে খেলা’ই সব থেকে ভালো উপায়।

সকাল ন’টার পর থেকে অবশ্য আবহাওয়া ক্রমশ ঘুড়ি ওড়ানোর পক্ষে অনুকূল হয়ে উঠবে। হাওয়ার গতিবেগ বাড়বে। ঘণ্টায় ৮ থেকে ১৬ কিমি বেগে বইতে পারে হাওয়া। সেই সঙ্গে আর্দ্রতার মাত্রাও কমে আসবে। এই সময়ে ‘ছেড়ে খেলা’তেই ভরসা রাখা যেতে পারে। তবে বেলা যত গড়াবে বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে। দুপুরের দিকে বিক্ষিপ্ত ভাবে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে বিভিন্ন জায়গায়। আমার মতে কাল ঘুড়ি ওড়ানোর সব থেকে ভালো সময় সকাল ন’টা থেকে দুপুর ১টা, এবং বিকেল সাড়ে তিনটে থেকে সাড়ে পাঁচটা।

তবে রোদের ছড়ি ঘোরানোর কোনো বিরাম থাকবে না। দুপুরের দিকে বৃষ্টি হলেও, সকালের দিকে আকাশ মোটামুটি মেঘমুক্ত থাকবে। সুতরাং আর দেরি কীসে, সবাই তৈরি হয়ে যাও ঘুড়ি নিয়ে, আর জোরে বল ‘ভোকাট্টা’।

(লেখক বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার)

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন