ওয়েবডেস্ক: স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের উপর যৌন হেনস্থার একের পর এক ঘটনা ঘটতে থাকলেও তেমন কোনো নজিরবিহীন শাস্তির দৃষ্টান্ত নজরে পড়েনি। এ রাজ্য তো বটেই, সারা দেশ জুড়েই অভিভাবক-অভিভাবিকাদের কাছে স্কুল-টাইমটা উৎকণ্ঠার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কী সরকারি, কী বেসরকারি – সর্বত্র যৌন-লাঞ্ছনার বিষয়টি ক্রমাগত থাবা প্রসারিত করে চলেছে। এক দিকে সরকারি উদাসীনতা, অন্য দিকে প্রশাসনিক ঢিলেমি। দুয়ে মিলে বহু ঘটনার কিনারা হচ্ছে না অথবা প্রকৃত অপরাধীদের সঠিক ভাবে চিহ্নিত করে শাস্তিও দেওয়া হচ্ছে না। তা হলে কি এ ভাবেই মনভর্তি উৎকণ্ঠাকে সঙ্গী করেই বাবা-মা নিজের সন্তানকে ‘মানুষ’ করে তোলার জন্য পাঠাতে বাধ্য হবে স্কুলে ?

এমন প্রশ্নের উত্তর দেবে কে? দেশপ্রিয় পার্কের কাছে কারমেল প্রাইমারি স্কুলের একটি মর্মান্তিক ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে আবার স্কুলপড়ুয়াদের নিরাপত্তার দিকটি নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছে। সপ্তাহ খানেক আগে দিল্লির একটি স্কুলের বাথরুমে নবম শ্রেণির এক ছাত্রের মৃতদেহ পাওয়া যায়। সহপাঠীদের সঙ্গে মারামারির ফুটেজ পাওয়া যায় সিসিটিভি -তে। তারও মাস কয়েক আগে হরিয়ানার রায়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে খুদে পড়ুয়া প্রদ্যুম্নের হত্যাকাণ্ড নিয়ে এতটাই সাড়া পড়ে গিয়েছিল যে ওই ঘটনার তদন্তে দেশের সর্বোচ্চ তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে দায়িত্ব নিতে হয়েছে।

এ ভাবেই যদি পিছনে ফিরে তাকানো যায়, তা হলে দেখা যাবে প্রতি দিনই এমন কিছু দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা স্কুলগণ্ডির মধ্যে ঘটে চলেছে এবং তা এক ভয়ংকর ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে আগামী প্রজন্মকে। এই ঘটনার স্বপক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি রিপোর্টের অতি-ক্ষুদ্র একটি অংশে দৃষ্টি নিক্ষেপ করা যেতেই পারে।

আরও পড়ুন:  জিডি বিড়লার পর কারমেল, ফের যৌন নিগ্রহের শিকার শিশু, বিক্ষোভ অভিভাবকদের, ধৃত শিক্ষক

ওই রিপোর্ট বলছে, গত ২০১৫ সালের ১৫-১৮ মার্চ, চার দিনে চারটি এমন অপরাধের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে যার প্রতিটিতেই যৌন হেনস্থার শিকার স্কুলপড়ুয়ারা। ১৫ মার্চ হায়দরাবাদের একটি স্কুলের পদার্থবিদ্যার এক শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়। যে নিয়মিত এক ১৩ বছরের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীর উপর পাশবিক ক্রিয়া চালাত। মুখ খুললে স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হতো।

১৬ মার্চ, ওড়িশার এক উপজাতি গ্রামে ১২-১৬ বছর বয়সি পাঁচ পড়ুয়াকে পাওয়া যায় যারা স্কুল থেকে গর্ভবতী হয়েছে। স্কুলের শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীদের গ্রেফতার করলে জানা যায়, সেখানে ধর্ষণ করা হয়েছে আরো ১২ জনকে। সব মিলিয়ে ৫৯ জনকে যৌন-লালসার শিকার হতে হয়েছে।

১৭ মার্চ, উত্তরপ্রদেশের কল্যাণপুরায় এক ১৩ বছরের ছাত্রী বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে। কারণ ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রীটি শিক্ষকের আদিমতার শিকার হয়ে মুখ খুলতে পারেনি কারও কাছে।

১৮ মার্চ জানা গেল, বোকারোর এক সরকারি স্কুলের ছাত্রী ১০ মাস ঘরের ভিতর বসে গুমরে কেঁদে চলেছে। কারণ তার বিজ্ঞানের শিক্ষক দিনের পর দিন তার উপর যৌন উৎপীড়ন চালিয়ে এসেছে।

পুরোনো হলেও বৃহদাকার রিপোর্ট থেকে এই অংশটি উল্লেখ করার উদ্দেশ্য, বাস্তব যে কী কঠিন একটি আবহের মধ্যে দিয়ে চলেছে, তা অনুমান করা। হাওয়া বদলাবে কবে ?

মনোবিদরা বলেছেন :

  • স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি এবং আপদকালীন সহায়তা কমিটি নিয়মিত অভিভাবকদের সঙ্গে মিটিংয়ে বসুক। সেখানে প্রয়োজন নেই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের।

  • স্কুলের শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীদের নিয়ে আলাদা করে এ বিষয়ে মিটিংয়ে বসুক কমিটি।

  • ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার যাবতীয় দিক নিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক।

  • এ বিষয়ে বাইরে থেকে পেশাদার বিশেষজ্ঞদের মাসিক বেতনে নিয়োগ করা হোক।

  • স্কুলের বদনাম হওয়ার ভয় নয়, অপরাধ দমনে হাত বাড়িয়ে দিন বেসরকারি স্কুলের মালিকরা।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন