সোমলেখা

এটা ভেবে আশ্চর্য লাগে যে একটা ঋতু মানুষের চরিত্রে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে। ভালোই গরম চলছে। প্রতি দিনের রোজনামচা এখন বর্ণনাতীত। গ্লুকোন ডি-র এক প্রবল আকাঙ্ক্ষা সবাই বোধ করতেও শুরু করেছে।
যত না মানুষের শরীর থেকে জল বেরিয়ে যাচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি সে বিষয়ে হাপিত্যেশ। রোজ যখন অফিসের পথে বাস ধরে এগোই, তখন মনে হয় মাথাটায় ধোঁয়া ভরে যাচ্ছে। বোধহয় গরমে কিছু ঘিলু ভাজা হয়ে যায়। মায়েরা বাসে করে বাচ্চাদের স্কুলে দিতে বা নিতে আসে, যেন তারা ঝলসে যাচ্ছে। গরমকালে তাদের কোলাহলের মাত্রাও কমে যায়।

‘এক্ষুনি ২৫ টাকা দিয়ে কিনেছিলাম’ বলে মায়ের চোখ-মুখ রক্তবর্ণ হয়ে উঠল। আর ঠাস করে একটা চড় সেই বেচারার গালে। ঘামের নোনতায়, চোখের নোনতায় তার দিনটা ভরে গেল।

এক বৃদ্ধা অনেক ক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেও কেউ উঠে গিয়ে তাঁকে বসতে দেয় না। শহরটা অনেকটা হৃদয়হীনা হয়ে গেল কি? সবার চোখে মুখে একটা ‘আমার কথা কে ভাবে যে আমি অন্যেরটা ভাবব” অভিব্যক্তি ফুটে ওঠে স্পষ্ট। টিনের বাক্সে কয়েকটা নারকেল নাড়ুর মতো আমরা গন্তব্যস্থলের পথে এগোই।
ছোট্টো ছেলেটা হাতে পুরো ডাবটা ধরে খেতে পারছিল না। আর যা হওয়ার তাই হল। হাত ফসকে ডাবখানা মাটিতে ধপ করে পড়ে গেল। ‘এক্ষুনি ২৫ টাকা দিয়ে কিনেছিলাম’ বলে মায়ের চোখ-মুখ রক্তবর্ণ হয়ে উঠল। আর ঠাস করে একটা চড় সেই বেচারার গালে। ঘামের নোনতায়, চোখের নোনতায় তার দিনটা ভরে গেল।
এই সব সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে রাস্তায় হাঁটি। হঠাৎ পায়ের জুতোটা আটকে গেল। গলা পিচে পা পড়েছে। ওহ্‌ সে কী হয়রানি। ঠিক তখনই সামনে দাঁড় করানো একটা রিকশা থেকে চেনা গলা পেলাম, “রিকশায় উঠে এসো, এই গরমে পিচের রাস্তায় আর হাঁটতে হবে না”। মুখ তুলে দেখলাম আমার এক অফিস কলিগ একটা কোল্ড ড্রিঙ্কসের বোতল কিনে অফিসের পথেই যাচ্ছে। তাকে রোজ অফিসে দেখে ততটা খুশি হই না, যতটা তখন হয়েছিলাম। সত্যি বলছি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here