sanbhu senশম্ভু সেন
ডবল ডেকার বাস শক্তিদাকে (কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়) একেবারে বাড়ির দরজায় পৌঁছে দিয়েছিল। না, আমাদের ক্ষেত্রে অতটা হয়নি। তবে যতটুকু হল, তা-ই বা কম কী ? কলকাতা শহরে সরকারি বাসে এ রকম ঘটনা বিরলতম।
একটু খোলসা করে বলা যাক। সে দিন আমরা দু’টি পরিবারের পাঁচ জন পারিবারিক কাজে খড়গপুর গিয়েছিলাম। হাওড়া স্টেশনে ফিরতে ফিরতে রাত পৌনে ৯টা হয়ে গেল। পাটুলি যাওয়ার বাস ধরার জন্য সাবওয়ে দিয়ে বেরিয়ে বাসস্ট্যান্ডে এলাম। দেখলাম বাসের চ্যানেলে একটা ‘এসি ২৪’ দাঁড়িয়ে আছে। এটি হাওড়া-পাটুলি রুটের বাস। কিন্তু এখন সে যাবে ‘রুবি’ পর্যন্ত। পাশেই দাঁড়ানো বাসচালক জানতে চাইলেন কোথায় যাব। আমাদের গন্তব্য জানাতে তিনি বললেন, এটিই তাঁর শেষ ট্রিপ। যাত্রীদের ‘রুবি’ নামিয়ে দিয়ে কসবা ডিপোতে গ্যারেজ করবেন।
আমরা দ্বিধাগ্রস্ত। কী করব। ‘রুবি’ পর্যন্ত যেতে যেতেই পৌনে ১০টা বাজবে। তার পর আবার পাটুলির বাস ধরা। কত রাত হবে ! এক বার ওই বাসে উঠে আবার নেমে গেলাম। ভগ্নীপতি বললেন, “মিনি ধরে এসপ্ল্যানেড যাওয়া যাক। ওখান থেকে মেট্রো ধরে ‘শহিদ ক্ষুদিরাম’ চলে যাব।” সকলেই সায় দিলাম। এতে সময় কম লাগবে এবং কষ্টও কম হবে।
বাসের চ্যানেল থেকে বেরিয়ে এসে হাঁটা লাগালাম। মিনিবাস ধরার জন্য আমরা যখন প্রায় মূল রাস্তায় এসে পড়েছি, তখন মনে হল ‘দাদা’, ‘দাদা’ বলে পিছন থেকে কে ডাকছেন। ঘুরে দেখি ‘এসি ২৪’ বাসের সেই চালক ছুটতে ছুটতে আসছেন। কাছে এসেই বললেন, “চলুন, আপনারা পাটুলি যাবেন তো ?”
“কিন্তু আপনি তো রুবি যাবেন ?”
“স্যারকে বললাম আপনাদের কথা। উনি বললেন, আপনাদের পাটুলি নামিয়ে দিয়ে আসতে।”
আমরা হতবাক, বিস্মিত। ওঁকে পাশ কাটিয়ে প্রায় ছুটতে ছুটতে বাসে এসে উঠলাম। তখনও ৫টা সিট, ঠিক ৫টা সিটই দখলদার-শুন্য।
বাস তখুনি ছাড়ল, ঝড়ের গতিতে ছুটল, পাটুলি পৌঁছে দিল পৌনে ১০টায়।
নামার সময় চালকসাহেব ও তাঁর সহকর্মী পরিচালককে অসংখ্য ধন্যবাদ জানালাম।
চালকসাহেব বললেন, “এটা করা তো ওঁদের কর্তব্য। যাত্রীদের জন্য এটুকু তো করা উচিত। এবং আমরা করতেই পারি। করি না। আর করি না বলেই আমাদের, সরকারি কর্মচারীদের, এত দুর্নাম।”
সত্যিই আমরা আপ্লুত, অভিভূত।

4 মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here