চিরঞ্জীব পাল

এক লক্ষ ভোট পেয়ে জিতে গেছে ‘ইন্টারকোর্স শব্দটি। শব্দটি নিয়ে বিচলিত সেন্সর বোর্ডের প্রধান পহলাজ নিহলানি ভোটের আহ্বান জানিয়েছিলেন। অনুষ্কা শর্মা ও শাহরুখ খান অভিনীত ইমতিয়াজ আলির ছবি ‘যব হ্যারি মেট সেজল’-এ এই শব্দটি ব্যবহার করায় প্রবল বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তাই ভোট চেয়েছিলেন। জিতে গেছে ‘ইন্টারকোর্স’।

কালে কালে কী হল! সব খুল্লম-খুল্লা। অথচ তিনি যখন ছবির প্রযোজনা করতেন তখন কি এমনটা ছিল? কত ঢাকা চাপা ব্যাপার। মনে আছে সেই ছবিটার কথা-‘আঁখে’। ১৯৯৩ সালের ছবি। গোবিন্দা আর চ্যাঙ্কি পাণ্ডে। নায়িকা শিল্পা শিরোদকার। তখন আমরা সদ্য বাড়িতে গোঁফ-দাড়ি কাটা অভ্যেস করছি। ছবিটার পরিচালক ছিলেন ডেভিড ধাওয়ান আর প্রযোজক পহলাজ নিহালনি। ছবির সেই গান—‘অঙ্গনা মে বাবা দুয়ারে পে মা’, নিঝুম দুপুর বা তারা ঝলমল একাকি রাতে এখনও কানে বাজে। ভাবুন তো একবার কত কথাই না বলে যায় গানটি, অথচ কোথাও একবার ‘ইন্টারকোর্স’ শব্দ আছে?

গানটির সেই শেষের দিকটা যেখানে শিল্পা শিরোদকার নাচতে নাচতে দরজা বন্ধ করে দিচ্ছেন, আর বলেছেন ‘হাত মেরা মাঙনে কো আযা বালমা’। আহা কী অদ্ভুত, মায়ের কাছে মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেওয়ার ভঙ্গি।

তা না করে ছবির মধ্যে সরাসরি ‘ইন্টারকোর্স’ শব্দ ঢুকিয়েছেন ইমতিয়াজ। কোনো মানে হয়।

আরও পড়ুন: শাহরুখের ছবির ‘ইন্টারকোর্স’ শব্দ ভোটযুদ্ধে হারাল সেন্সর বোর্ড প্রধান পহলাজকে

কিংবা ওই ছবিটা। ১৯৯৪ সালের ‘আন্দাজ’। যে ছবিরও প্রযোজক ছিলেন পহলাজ। ছবিতে অভিনয় করেছিলেন অনিল কাপুর, জুহি চাওলা এবং করিশ্মা কাপুর। ছবিতে একটা গান ছিল ‘ম্যায় মালগাড়ি তু ধাক্কা লাগা’।

ভাবুন একবার কোথাও একবার ‘ইন্টারকোর্স’ শব্দ আছে। অথচ…। ১২ বছরের ছেলেরা কিছু শিখবে এর থেকে!

পহলাজ প্রযোজিত ‘আগ কা গোলা’ ছবির ওই গানটির কথা মনে আছে? ‘শরাব চিজ হ্যায় বুরি শরাব পিনা ছোড় দে’। মদবিরোধী প্রচার কত সুন্দর ভাবে করা হয়েছে গানটিতে।

একটি নিউজ চ্যানেলকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি ইমতিয়াজের ছবিতে ‘ইন্টারকোর্স রাখা নিয়ে ভোট চেয়েছিলেন। এক লক্ষ ভোট পেলে তিনি এই ছবিকে ‘অ্যাডাল্ট’ বলে চিহ্নিত করবেন না। কিন্তু শব্দটা এক লক্ষ কুড়ি হাজার ভোট পেয়েছে। হেরে গিয়ে স্তম্ভিত পহলাজ। কোথায় পৌঁছেছে দুনিয়াটা। সাংবাদিক তাঁর পিছনে তাড়া করে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছেন। প্রতিক্রিয়া দেবেন কী, তিনি তো বাকরুদ্ধ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here