arunava ghosh

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনই ঠিক করে দেবে ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির ভবিষ্যৎ। বিজেপি যদি ২০১৯-এ তৃণমূলের কাছ থেকে ৬-৭টি আসন কেড়ে নিতে না পারে (যার সম্ভাবনা খুবই কম), তা হলে পশিচমবঙ্গে নিকট ভবিষ্যতে বিজেপির ক্ষমতায় আসার দ্বিতীয় কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আর যদি উলটোটা হয়, অর্থাৎ ২০১৯-এ বিজেপি তৃণমূলের কাছ থেকে ৬-৭টি আসন কেড়ে নিতে সক্ষম হয়, তা হলে ২০২১ বিধানসভায় তৃণমূলকে মুখোমুখি হতে হবে বড়োসড়ো বিপর্যয়ের।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া তৃণমূলের দ্বিতীয় কোনো মুখ নেই, যিনি নিজের প্রভাবে বা দলীয় সংগঠনের জোরে নির্বাচন জিতে আসতে পারেন। তৃণমূলের একটি বৃহৎ শক্তিভাণ্ডারের উৎস হল ক্ষমতাকেন্দ্রিক। দল ক্ষমতায় আছে বলে একাংশ তৃণমূলে আছে। যদি কোনো বিপর্যয়ের সম্ভাবনা বিন্দুমাত্র দেখা দেয়, তা হলে তারা দলবদল করতে সময় নেবে না। কিন্তু বর্তমান বাস্তবে (মহেশতলায়) বিজেপির ভোট সর্বাধিক বাড়লেও তা ২৩ শতাংশের উপরে ওঠেনি। সিপিএমের খুব খারাপ বাজার হলেও তাদের ভোট ১৮ শতাংশের নীচে নামেনি। সঙ্গে আছে কংগ্রেসের ৩-৪ শতাংশ ভোট।

সিপিএমের ন্যূনতম ১৮ শতাংশ ভোট আদর্শগত কারণেই বামপন্থাকে ছেড়ে যাবে না। আবার কংগ্রেসের ৪ শতাংশের কাছাকাছি ভোট থেকে যাবে নিছক কংগ্রেসি হওয়ার অভ্যাসের পরিপ্রেক্ষিতে…

অন্য দিকে রাজ্যে মুসলমান ভোটের সংখ্যা প্রায় ২৭ শতাংশ। মুসলমানরা বিজেপির ধর্মযুদ্ধের প্রতিরোধক হিসাবে তৃণমূলকেই সমর্থন করতে চাইবে। ফলে রাজ্যের শাসকদলের বাক্সে ন্যূনতম ২০ শতাংশ মুসলমান ভোট পড়তে পারে। নিম্নবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত বাঙালির ১৬ শতাংশ মানুষ যে দল ক্ষমতায় থাকে তাকেই ভোট দেয়। সেখানে দেওয়া-নেওয়ার প্রভাব কাজ করে। সিপিএম শাসনক্ষমতাকে ৩৪ বছর দীর্ঘায়িত করেছিল সেই দেওয়া-নেওয়ার রাজনীতির উপর ভিত্তি করেই। এখন দেওয়ার ক্ষমতা আছে তৃণমূলের। ফলে ওই ১৬ শতাংশ ভোটও তৃণমূলের পক্ষে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত।

সিপিএমের ন্যূনতম ১৮ শতাংশ ভোট আদর্শগত কারণেই বামপন্থাকে ছেড়ে যাবে না। আবার কংগ্রেসের ৪ শতাংশের কাছাকাছি ভোট থেকে যাবে নিছক কংগ্রেসি হওয়ার অভ্যাসের পরিপ্রেক্ষিতে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, বিজেপি যদি কোনো ম্যাজিক দেখাতে না পারে তা হলে তৃণমূলের আধিপত্য বজায় থাকাটাই স্বাভাবিক। আর ২০১৯-এ যদি বিজেপির আসন সংখ্যা দুয়ের উপর না উঠতে পারে তা হলে হয়তো ওই ২৩ শতাংশ ভোটের মধ্যে থেকে ১৫ শতাংশ ভোট ফের সিপিএমের দিকেই চলে যাবে। মনে রাখা দরকার, বিজেপির ২৩ শতাংশ ভোটের মধ্যে এই ১৫ শতাংশ গিয়েছে বামদের দিক থেকেই। যে ভোটটা তৃণমূলবিরোধী।

তৃণমূল কংগ্রেসকে যে সমানে সমানে টক্কর দিতে পারবে সেই দলেই ভিড় করবে এই ১৫ শতাংশ ভোট। বর্তমানে বিজেপির সম্বল বলতে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং দুর্নীতি। যে কারণে শিক্ষিত মধ্যবিত্তও বিজেপির মতো দলকে সমর্থন করছে। তবে এই সমর্থন বিজেপিকে কতদূর নিয়ে যাবে, সেটাই আগামী দিনে দেখার।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন