modi and modi
জয়ন্ত মণ্ডল

অভিনন্দন পাঠক – নামটা হয়তো এখনও অনেকে জানেন না। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মতো হুবহু দেখতে এই ব্যক্তিকে নিয়ে ভালো রকমের টানাপোড়েন মোটের উপর বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু দেখতে মোদীর মতো হলেই যে তিনি মোদী হয়ে যাবেন, তেমন কোনো নিশ্চয়তা যেমন নেই, একই ভাবে প্রমাণও নেই।

কারণ, মোদীর মতো হতে হলে স্বামীজির আদর্শে উদ্বুদ্ধ হওয়ার জন্য বিয়ের পর পরিবার ছাড়তে হয়। স্টেশনে চা বেচতে হয়। অন্য দিকে ৫১ বছর বয়সে গুজরাতের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ৬৫ বছর বয়সে দেশের প্রধানমন্ত্রী না হতে পারলে কী ভাবে মোদীর মতো হওয়া যায়। বাকি ফিরিস্তি শেষ করার নয়, তবুও প্রয়োজনে টানা যেতেই পারে। কিন্তু আর যাই হোক, মোদীর মতো দেখতে বলেই যে পাঠকবাবু মোদী হয়ে যাবেন, তা মোটেই সম্ভব নয়।

কে এই অভিনন্দন পাঠক? সর্ব-খিদের চাহিদা মেটানো সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে, বিজেপি-র নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের অন্যতম শরিক দল রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়া (অটোয়ালে)-র উত্তরপ্রদেশ শাখার সহ-সভাপতি ছিলেন অভিনন্দন পাঠক। গত অক্টোবরেই উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের প্রধান তথা অভিনেতা রাজ বব্বরের উপস্থিতিতে কংগ্রেসে শিবিরে নাম লিখিয়েছেন তিনি। ২০১৯ লোকসভা ভোটের আগে দলবদলের কারণ হিসাবে তিনি নিজের যন্ত্রণার কথাও ব্যক্ত করেছেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে কয়েক দিন আগেই তিনি জানান, “মোদীর মতো দেখতে বলে মানুষ আমাকে দেখলেই প্রশ্ন করত, ‘অচ্ছে দিন কোথায়?”

৫১ বছর বয়সে গুজরাতের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ৬৫ বছর বয়সে দেশের প্রধানমন্ত্রী না হতে পারলে কী ভাবে মোদীর মতো হওয়া যায়। বাকি ফিরিস্তি শেষ করার নয়, তবুও প্রয়োজনে টানা যেতেই পারে…

২০১৪ লোকসভা ভোটের আগে মোদী ছিলেন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর গুজরাত শাসনকালে সব থেকে চর্চিত বিষয় ছিল গোধরা-কাণ্ড। পাঠকবাবুকে ‘অচ্ছে দিন’ নিয়ে তপ্ত কটাক্ষের মুখে পড়তে হলেও তখন হয়তো গোধরা প্রসঙ্গে তিনি বাহবাই কুড়িয়েছিলেন। কারণ, তখনও তো তিনি নিশ্চয় মোদীর মতোই দেখতে ছিলেন। তবে এমনটাও হতে পারে সে সময় তাঁর প্রতিবেশীরা মোদীকে চিনতেন না। অভিনন্দন আরও বলেছেন, “ভোটের আগে মোদী নিজেই অচ্ছে দিনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু, সাধারণ মানুষের দুর্দশা দেখে আমার মন খুব খারাপ হয়ে যেত। আর সে জন্যই বিজেপি জোট ছেড়ে আমি কংগ্রেসে যোগ দিয়েছি”।

পাঠকবাবুর কথায় যে কোনো মানুষের যন্ত্রণায় কাতর হওয়ার ব্যথা ঝরে ঝরে পড়ছে। একে তো অচ্ছে দিন মেলেনি, তার উপর তিনি মোদীর মতো দেখতে। লোকে তাঁকে দেখে মজা করে প্ৰশ্ন তো করবেই। কিন্তু সেই প্রশ্নের তীক্ষ্মতা এতটা হতে পারে না যে, তাঁকে নিজের দলবদল করতে হবে। কারণ, দলবদল করলে তো আর পাঠকবাবুর চেহারা বদলে যাবে না।

পাঠকবাবুকে ‘অচ্ছে দিন’ নিয়ে তপ্ত কটাক্ষের মুখে পড়তে হলেও তখন হয়তো গোধরা প্রসঙ্গে তিনি বাহবাই কুড়িয়েছিলেন। কারণ, তখনও তো তিনি নিশ্চয় মোদীর মতোই দেখতে ছিলেন…

আদতে এটাও একটা নিছক রাজনীতি। যা দেখে চোখ সয়ে গিয়েছে ভারতবাসীর। তবে মজা নিতে ছাড়েন না কেউ। প্রতি দিন গাদাগাদা বিজেপি নেতা অন্য দলে যোগ দিচ্ছেন, তাঁরা কিন্তু কেউই মোদীর মতো দেখতে নন।

ছত্তীসগঢ়ের বিধানসভা নির্বাচনে চুটিয়ে প্রচারও করেছেন পাঠকবাবু। কংগ্রেসের ওই নির্বাচনী সভাগুলিতে তিনি মোদীর মতো পোশাক পরে মোদীর গলা নকল করে বক্তব্যও রেখেছেন। তিনি বলছেন, “মিত্র, আমি আপনাদের সত্য কথাটা বলতে এসেছি, অচ্ছে দিন আর আসছে না। এটা একটা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি। দয়া করে কংগ্রেসকে ভোট দিন, উন্নয়ন তাদের হাত ধরেই আসবে”।

লোকে তাঁকে দেখে মজা করে প্ৰশ্ন তো করবেই। কিন্তু সেই প্রশ্নের তীক্ষ্মতা এতটা হতে পারে না যে, তাঁকে নিজের দলবদল করতে হবে। কারণ, দলবদল করলে তো আর পাঠকবাবুর চেহারা বদলে যাবে না…

পাঠকবাবুর কথা কি কেউ বিশ্বাস করবেন? কারণ তিনি তো কংগ্রেসের নকল মোদী! বিজেপির কাছে আছে আসল মোদী। যে মোদী কালো টাকা উদ্ধারের নামে নোট বাতিল করে গোটা দেশকে লাইনে দাঁড় করিয়ে দিয়ে ফের সেই নোটের সমপরিমাণ টাকা বাজারে ফিরিয়ে দেন, তিনিই আসল মোদী। যে মোদী তুতিকোরিনে পুলিশের গুলিতে দেড় ডজন প্রতিবাদীর মৃত্যুর সময় ফরেন কান্ট্রিতে গিয়ে বসে থাকেন, হলফ করে বলা যায় তিনিই আসল মোদী।

ফলে দেখতে যতই মোদীর মতো হন, পাঠকবাবু কখনোই মোদী হতে পারবেন না। তেমনই মোদী হাজার চেষ্টা করলেও অদূর ভবিষ্যতে পাঠকবাবু হতে পারবেন না। কারণ, যা-ই ঘটুক, তিনি তো আর লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেস যোগ দিতে যাচ্ছেন না!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here