মে দিবস

ওয়েবডেস্ক: পরিসংখ্যানটা দেখে চমকে উঠতে হয় বই-কি। যেখানে বলা হচ্ছে, এ দেশের ৯৪ শতাংশ শ্রমিকই অসংগঠিত ক্ষেত্রের। বাকি মাত্র ৬ শতাংশ সংগঠিত।

অসংগঠিত ক্ষেত্র বলতে কী বোঝায়, তা নিয়ে হাজারো সংজ্ঞার অবতারণা হয়েছে ইতিমধ্যেই। তাই সে সব নিয়ে বিশদ আলোচনা তোলা থাক। তবে এটুকু বলা যায়, যাঁদের বাঁধাধরা কোনো কর্মক্ষেত্র নেই, আবার নেই কোনো নির্দিষ্ট মজুরি (সরকারি খাতার বাইরে) তাঁরাই অংসগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক। তিনি হতে পারেন মে দিবসের দিন চাকা গড়ানো বাস-অটোর চালক-কন্ডাক্টর। হতে পারেন কালকের ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাওয়া ফসলের দেখভালে মন দেওয়া কোনো কৃষক, আবার হতেই পারেন পাড়ার এক প্রান্তে ঘটাং ঘটাং আওয়াজ তোলা কোনো লেদ-ক্যাপস্ট্যান কারখানায় কর্মরত কেউ।

একটু এগিয়ে দেখুন না, আশেপাশে কোনো কনস্ট্রাকশনের কাজ হচ্ছে কি না। মানে, মনে যদি সন্দেহ থাকে। নির্মাণকর্মীরা সেখানে দিব্যি কাজ করে চলেছেন। সমাজের এই বৃহদাংশ শ্রমিকরাই আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে ছুটি কাটাচ্ছেন না। না, আমি-আপনি কেউ বাধ্য করেনি ওঁদের। তবে দায়ও আমাদের নেই। কিন্তু সকালের খবরের কাগজে সরকারি টাকায় মে দিবসের বিজ্ঞাপনটা আর ওঁদের ঘাম ঝরানোর ছবি কেমন যেন বেমানান ঠেকে না!

may day 2

তবে ছুটির জন্যে তাঁরা হা-পিত্যেশ করে মোটেই বসেই নেই। কারণ ছুটি মানেই রুটিতে টান। কাজ করলে তবেই তো মজুরি। কিন্তু কাজের ন্যূনতম পরিবেশ থেকেও বঞ্চিত হতে হচ্ছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে। শ্রমিকের মর্যাদা দিয়ে সেটুকু অন্তত যদি পাওয়া যেত, বললেন দুর্গাপুরে ধুঁকতে থাকা একটি স্পঞ্জ আয়রন কারখানার শ্রমিক। “এক দিকে কাজের নিরাপত্তা নেই, অন্য দিকে নেই বেতনের নিশ্চয়তা। তারই মাঝে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। প্রতিবাদের ‘প’ নেই এখানে। আমি কাজ ছাড়লে আমার জায়গায় অন্য কেউ করবে”।

একই অবস্থা ইটভাটা বা বীরভূমের পাথর খাদানের কর্মীদেরও। হ্যাঁ, কোথাও কোথাও ইউনিয়নের ঝান্ডা আছে। তবে সেটা ‘ফোঁড়ার’ মতোই। তাজা রক্তের থেকে পুঁজের পরিমাণই বেশি। একটি সিমেন্ট উৎপাদনকারী সংস্থায় নিযুক্ত ঠিকাদার ওই সংস্থা নির্ধারিত শ্রমিকের মজুরি তুললেও তার অর্ধেক টাকা নিজেই আত্মসাৎ করেন। সেখানেও ইউনিয়ন আছে। কিন্তু ঠিকাদারের অধীনেও কাজ পেতে গেলে সেখানে ইউনিয়নের মর্জিমতোই চলতে হয়। নইলে ছাঁটাই – ইউনিয়ন থেকেও, কাজ থেকেও।

তবে আশার কথা, অবস্থা ধীরগতিতে হলেও বদলাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এ রাজ্যের অসংগঠিত শিল্প শ্রমিকদের জন্য বিশেষ প্রকল্প নিয়েছে। এসএএসপিএফইউডবলইউ নামের ওই প্রকল্পে সুবিধা বেশ শ্রমিক পাচ্ছেন। কিন্তু সেটা যে সিন্ধুতে বিন্দু, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রাজ্যের শ্রম দফতর হোক বা কেন্দ্রের শ্রম মন্ত্রক যে শুধু মাত্র সংগঠিতদের জন্য নয়, এমন মনোভাব কাটিয়ে উঠতে না জানি আরও কত যুগ সময় লাগবে!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here