bahubali
jayanta mondal
জয়ন্ত মণ্ডল

না, এখনও ইতি টানার সময় আসেনি। আগামী ১৪ মে রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচন আদৌ হবে কিনা, তা নিয়ে বিরোধী দলগুলির মনে সংশয় থাকলেও টিম টিম করে আশার প্রদীপ জ্বলছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন এবং শাসক দল তৃণমূলের চোখে।

কলকাতা হাইকোর্ট ১৪ মে-কে প্রস্তাবিত ভোটের দিন আখ্যা দিলেও কমিশনার অমরেন্দ্র সিং এখনও প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নির্ধারিত দিনেই ভোট গ্রহণের। কিন্তু তাঁকে নিয়ে যে ব্যঙ্গবিদ্রুপ গত মাস দেড়েক ধরে সংবাদ মাধ্যম থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, বলার অবকাশ রাখে না সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সেই সমালোচনাও তাঁর যথেষ্ট উদ্বেগ বাড়িয়ে চলেছে। কিন্তু এমনটা তো হওয়ার কথা ছিল না। অন্তত গত ৯ মে বিরোধীদের দাবি মেনে মনোনয়ন পেশের জন্য আরও একটি বাড়তি দিন বরাদ্দ করার পর তো নয়-ই। তখন তো বিরোধী দলের সমর্থকদেরও মনে হয়েছিল, এ বার বোধহয় শিরদাঁড়া সোজা করে উঠে দাঁড়িয়ে তিনি সত্যিই ‘অমরেন্দ্র বাহুবলী’ হয়ে উঠবেন!

৯ মে রাতে জারি করা ওই মনোনয়ন পেশের অতিরিক্ত দিনটি যে এ বারের ভোটের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিন হয়ে উঠতে চলেছে, তা টের পায়নি তৃণমূল কংগ্রেসও। সম্ভবত ভবিষ্যতের জল মাপতে একটু ভুলই করে ফেলেছিলেন তৃণমূলের আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়রা। তা না হলে নির্বাচন কমিশনের জারি করা ওই বিশেষ বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে কেন তাঁরা দৌড়োবেন হাইকোর্টে?

বিশেষ পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র রক্ষার তাগিদে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি তো এ দেশে নতুন নয়। সে কথা বোধহয় স্মৃতির অতলে চলে যাওয়ায় পুনরায় মনে করিয়ে দিল উচ্চ আদালত। সেই তো ২৩ এপ্রিল মনোনয়ন পেশের বাড়তি দিন মেনে নিতে হল। মাঝখান থেকে সবে শিরদাঁড়া শক্ত করতে থাকা নির্বাচন কমিশনের নরম সুষম্নাকাণ্ডে আঘাত করে বসল সন্ত্রাসের রক্ষাকবচ। সেই কবচ যেই ধারণ করুক, শেষমেশ সুফল কিন্ত পেয়ে থাকে তার শত্রুপক্ষ। অনেক দূর হাঁটতে হবে না, বাংলার রাজনৈতিক চৌহদ্দিতেই একটু স্মৃতিচারণ করলে তা স্পষ্ট হয়ে যায়।

সন্ত্রাসের অভিযোগ তো গোটা মনোনয়ন পর্ব জুড়েই ছিল, ১০ মে বাড়তি দিনেও না হয় হজম হয়ে যেত। গণতন্ত্রকে মাথার সর্বোচ্চ চূড়ায় ধারণ করে এমন অনেক সন্ত্রাস গা-সওয়া হয়ে গিয়েছে রাজ্যের মানুষের। কিন্তু অমরেন্দ্র আর বাহুবলিত্বের ঢেকুর তুলতে পারলেন কোথায়!

হাইকোর্ট ভোট নিয়ে যা বলার বলেই দিয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিতে পারলে কমিশন ভোটে যেতে পারে। পাশাপাশি ই-মেলে পাঠানো মনোনয়ন খতিয়ে দেখে স্বীকৃতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। তবুও অমরেন্দ্র অপারগ। তাঁর এই অপারগতার উৎস কোথায়? এখন যা পরিস্থিতি তাতে বোধহয় সব থেকে আগে তিনি খুঁজে দেখুন সেই উৎসস্থল। তা হলেই হয়তো শাপমুক্তি ঘটতে পারে পশ্চিমবঙ্গের গৌরবোজ্জ্বল পঞ্চায়েত নির্বাচনের। আর পদত্যাগের দাবি বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই তিনি পেতে পারেন তাঁর পূর্বসূরি মীরা পাণ্ডের কৃতিত্বের কয়েক কণা!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here