প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী

কত কথাই যে বলতে ইচ্ছা হচ্ছে। আমাদের বয়সি যারা, তাদের বেশিরভাগেরই অঞ্জন দত্তর সঙ্গে পরিচয় ‘চরিত্রহীন’ সিরিয়াল থেকে। তখনও তো গৃহযুদ্ধ, খারিজ দেখিনি। তারপরের অভিজ্ঞতাগুলো বাদ থাক। সাম্প্রতিক অতীতে যখন বলিউডে ইরফান খানের অভিনয় দেখেছি, দেখি। খালি মনে হয়- এই ধরনের নেক্সট লেভেলের অভিনয়(সেই সময়ের প্রেক্ষিতে)সেই কবেই তো বাংলার দর্শককে চিনিয়েছেন অঞ্জন। বাংলা সিনেমা তাঁকে কাজে লাগাতে পারেনি, তাতে অঞ্জনের কত ক্ষতি হয়েছে, সে হিসেব অঞ্জনই করুন। আমাদের মতো বাংলা ছবির দর্শকদের কাছে সিনেমার ক্ষতিটাই বেশি চোখে পড়ে।

এত কথা বলার কারণ অনেক। তুলকালাম কিশোর বেলায় হঠাৎ একদিন দেখলাম চরিত্রহীনের লোকটা গানও করে, লেখে, সুর দেয়। চমকে গেলাম আর কয়েকবছর পেরোতে দেখলাম তাঁর পরিচালনায় একের পর এক টেলিফিল্ম। বুঝলাম, চিত্রনাট্য আর সংলাপ লেখায় তেমন দড় নন লোকটা। দু-একটা সিনেমা ভালো লাগলেও মোটের ওপর পরিচালক অঞ্জনকে তেমন গুরুত্ব দেওয়ার কথা মনে হয়নি। কিছু ব্যোমকেশ দেখতেই হয়েছে। কিন্তু ওটুকুই।

যবে থেকে ‘আমি আসবো ফিরে’-র কথা জানলাম। জানলাম মুখ্য ভূমিকায় অঞ্জন নিজে থাকছেন আর ছবিটি মিউজিক্যাল। তবে থেকেই একটা আগ্রহ জন্মেছিল। কেমন হবে সে ফিরে আসা?

একটি ধর্ষণ। আর সেই ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন চরিত্রের যাপন ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ে তৈরি এই ছবি। চরিত্রগুলিকে আমি চিনতে পারিনি। তবে সিনেমা যখন, তখন ওয়ার্ক অফ ফিকশন-কে মেনে নিতেই হয়। কিন্তু সেই চরিত্রগুলিকে ঘিরে একটি চমৎকার কাহিনি ও চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন অঞ্জন দত্ত। সংলাপে পুনাবৃত্তির অসুখও এই ছবিতে অনুপস্থিত। চরিত্রগুলির কাছে আসা-দূরে সরে যাওয়া, তরুণ ধর্ষকের ভবিতব্যের সঙ্গে আশ্চর্য বিষণ্ণতায় জড়াতে পেরেছেন পরিচালক। এ ছবি যেমন একাকিত্ব ও বিষাদের ছবি, তেমনই আশাবাদ ও পূর্ণতারও। যে যাত্রায় চরিত্রগুলির সঙ্গী হয় গান। গান যে উপশমের কাজ করে, করতে পারে- সেই বার্তাই দিতে চেয়েছেন পরিচালক। তারজন্য যে যেভাবে চিত্রনাট্যটি সাজিয়েছেন- তা মনে রেখে দিতে ইচ্ছে করে(দু-একটি দুর্বলতা থাকলেও)। চরিত্রগুলো যতই বায়বীয় হোক, তাঁদের ভালোবাসতে মন চায়। সঙ্গে ‘ছোট্টবেলার প্রেম’ অঞ্জনের অভিনয় তো আছেই। প্রত্যাশিত ভাবেই ভালো অভিনয় করেছেন স্বস্তিকা, অঞ্জনারা।

কিছু গান ভালো। তবে সব গান নয়। ফিরে আসার এই মিউজিক্যালটি তৈরির ক্ষেত্রে আরও উদার হতে পারতেন অঞ্জন। রণজয় তো বলেইছে, গান অন্যের তৈরি হলেও, যে গাইছে তাঁর নিজের হয়ে যেতেই পারে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here