ria-siddhacharyaরিয়া সিদ্ধাচার্য্য

ফরাসি জানুন বা না জানুন ‘তে আমিও -te amo’ শব্দটা সবাই জানে, তার বেশি নয়। বেফিকরে হয়ে যান ছবিটি দেখতে। চিন্তা নেই, কোনো ফরাসি অভিধান নিয়ে যেতে হবে না। যেমন ছবির নায়ক ফ্রান্সে থেকেও ফরাসি বোঝেন না, ঠিক সেরকমই হালকা ভাবে নেওয়া হয়েছে এই ফরাসি ভাষাটাকে।  

আদিত্য চোপড়া ‘দিল’, ‘দিমাগ’ আর ‘রোমান্স’-এর ব্যাপারে গণ্ডগোল করেন না।  আজ থেকে প্রায় ২১ বছর আগে ডেব্যু করেছিলেন, তারপর পথ চলা আর কেউ থামাতে পারেনি।  বেশি ছবি না, দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে আর বেফিকরে-র মধ্যে পরিচালনা করেছেন মাত্র ২টো ছবি -মহব্বতেঁ (২০০০) এবং রব নে বানাদি জোড়ি (২০০৮) . 

সম্পর্ক, আস্থা -ভরসা এবং এবং ক্লাইম্যাক্স সবই ছিল তার ছবিগুলোতে। কিন্তু বেফিকরে এসবের ধার ধারেনি।  তিনি দুটি ভিন্ন পৃথিবীকে একটি নিরপেক্ষ স্থান দিয়েছেন, সেখানে দুজনের কাছে রোমান্স মানে,  ‘দুজন দুজনকে চ্যালেঞ্জ করা’।  চুমু খাওয়াটা কোনো বড়ো ব্যাপার না বোঝানোর জন্য ৩২ বার চুমু খান রণবীর ও বাণী কাপুর। সময় বদলেছে, বদলেছে মানুষের চিন্তাধারাও। নিজের জীবনকে কিছু পাগলামি উপহার দেওয়াকেই ‘বেফিকরে’ নাম দিতে চেয়েছেন পরিচালক। 

প্যারিস – বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর এবং রোমান্টিক শহর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, ফলে বোঝাই যাচ্ছে কেন চোপড়া এই শহর পছন্দ করেছেন। যেখানে স্বপ্ন সত্যি হয়।  

befikre-1

ধরম (রণবীর সিং) এবং শায়রার (বাণী  কাপুর) সম্প্রতি ব্রেক আপ হয়েছে এবং পরস্পরের সঙ্গে দেখা হলেই একটু ইতস্তত বোধ করেই থাকেন কিন্তু না বোঝানোর অভিনয় করে থাকেন। গান-ভরা ফ্ল্যাশব্যাকের সাহায্য নেওয়া ছবিতে দেখা যায় তারা কিভাবে দুজন দুজনের দিকে আকৃষ্ট হয়, কিন্তু সেটাকে প্রেম বলে ভুল করবেন না। পাগলামি তে ভরপুর ছবিটি, কিন্তু বুঝতে পারেন না তারা প্রেমে পড়েছেন, বা যাকে বলে টিপিকাল রোমান্স। একটি লিভ-ইন সম্পর্ক থাকতে শুরু করেন, কিন্তু বোঝেন না শুধু শারীরিক পরিতুষ্টি দিয়ে জীবন চলে না, দরকার পরে একটু বোঝা-পড়া, প্রেম এবং আস্থা। এই বিষয়গুলি থেকে তারা অনেক দূরে, যাকে বলে ‘টোটালি এলিয়েন কনসেপ্ট’। কিন্তু ব্যাতিব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই, রণবীর কাপুরের  ছবি-চরিত্র ‘ধরম’ নিজের ন্যায্যতা প্রতিপাদন করেছে।  

আর একটু জোর, মুখের ভঙ্গিমা বদলালেই ‘শায়রা’ হয়ে উঠতো ছবির আনরিয়েল থেকে বাস্তবের সাধারণ মেয়ে যারা একটু সাহসী, পাগলামি করে এবং ভালোবাসা পেতে চায়।  

এক কথায়, শারীরিক আকর্ষণ থেকে লিভ-ইন তারপর বন্ধুত্ব এবং শেষে বলিউডের বাহবা-সিদ্ধ লাভ স্টোরি হলো বেফিকরে।  দিল্লির ছেলে এবং ফরাসি মেয়ের প্রেম আর তাদের মধ্যে মান-অভিমান পালার গল্পে শায়রার জীবনে আসে তৃতীয় ব্যক্তি, শুরু হয় গোলমাল। বন্ধুত্বের মধ্যে প্রেম লুকিয়ে আছে, এটা সবাই শুনেছে, কিন্তু বুদ্ধি করে সেটাকে ছবিতে তুলে ধরেছেন আদিত্য চোপড়া।

প্রচুর পরিমাণে রকমারি চুমু আছে বলে, ২ ঘণ্টা ১০ মিনিটের ছবিটি দেখতেই হবে – এমন ভাবছেন যারা, তাদের বলি, তেমন কোনো বড়ো ব্যাপার নেই ছবিতে। বরং ‘যাইসা দেশ অওসা বেশ’ মাথায় রেখে দেখতে গেলেই সুবিধা হবে অনেক।

তবে সব মিলিয়ে হাসি-ঠাট্টা, যশরাজ ব্যানারের ‘রোমান্টিক’ পরশ পেতে, যাওয়াই যেতে পারে ‘বেফিকরে’ দেখতে। সঙ্গে তিনটি চমৎকার গান, নাচের তাল আর ফ্রান্সের নিসর্গ তো আছেই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here