সাংবাদিক ভিলেন, না হওয়া সম্পর্কের স্বীকৃতি- প্রজাপতির মতো উড়ে বোলতার মতো হুল ফোটালেন ঘাটালের সাংসদ

0
2416
প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী

নায়কের প্রযোজনায় ছবি। সে তো আজকাল সকলেই করছেন। বলিউডে তো সেই কবে থেকেই। নজর কেড়েছিল অন্য একটা বিষয়। কাহিনি ও বিষয় ভাবনাও তাঁরই। তার ওপর বাংলা ছবির অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক স্পোর্টস ফিল্ম করছেন। বান্ধবীকে নায়িকার ভূমিকায় লঞ্চ করছেন। আগের প্রজন্মের পর্দা কাঁপানো নায়ক, এই প্রজন্মের নায়কের কোচের ভূমিকায়(ডিস্কো ড্যান্সারের মিঠুন-রাজেশ খন্না যেন)। চ্যাম্প দেখার একগাদা কারণ তৈরি হয়েইছিল। অতএব প্রথম দিন, প্রথম শো।

সিনেমার গল্প রিভিউতে বলতে নেই, তার ওপর যে রিভিউ রিলিজের দিনই লেখা হয়, তাতে তো নয়ই। তাই প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে চিরঞ্জিতের জহুরির চোখ কীভাবে দেবকে তুলে এনে নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে বক্সার বানাল, সে কথা লিখছি না। লিখছি না, তারপর সেই বক্সার কী ভাবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চড়াই-উতরাইময় রিঙে লড়ে চলল গোটা ছবি জুড়ে। কিন্তু স্বপ্নপূরণের গল্পে কীভাবে সাফল্যের সিঁড়ি নায়কের চরিত্রে মানবিক দোষগুণের রং ধরাল, তার উল্লেখ না করলে অন্যায় হবে। এবং সেই দোদূল্যমানতার মানসিক টানাপোড়েনই যে গল্পের মোড় বদলাল, সেটা না বললেও নয়। কারণ মূলধারার বাণিজ্যিক ছবিতে এমন ধরনের আধুনিকতার ছোঁয়া নতুন তো বটেই। বিশেষত ছবির সঙ্গে জড়িত কেউ কোথাও দাবি করেননি, তাঁদের ছবি ‘আর্ট এবং কমার্শিয়াল’ সব ধরনের দর্শকদের মাতিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

প্রশংসার পালা চলছে যখন, তখন বলে নেওয়া যাক ছবিতে বক্সিং ম্যাচের দৃশ্যগুলি যে পেশাদারিত্বের সঙ্গে তৈরি করা হয়েছে, তা নিশ্চয় বাংলা ছবির সম্পদ হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে(জানি না বক্সিং বিশারদরা কী ত্রুটি বের করবেন)।

সমালোচনা? হ্যাঁ, তা তো আছেই, যেমন থাকে। দ্বিতীয়ার্ধটা আরেকটু ছোটো হলে ভাল হত। সম্পাদনা আরেকটু গতিশীল হতে পারত, তা সে গল্পের মোড় যতই পাল্টাক। ওই সময় কিছুটা বোর হয়েছেন দর্শকরা। টানাটান প্রথমার্ধ সত্ত্বেও ছবির বাণিজ্যিক সাফল্য তাতে কিছুটা ধাক্কা খেতেও পারে। এছাড়া, প্রতিভা খুঁজে বের করার পক্ষে পূর্ণবয়স্ক দেব বেশ কিছুটা বাড়াবাড়ি হয়ে গিয়েছে।

এসবই বলার জন্য বলা। যেমন বলতেই হবে, প্রথম ছবি হিসেবে বেশ ভালো অভিনয় করেছেন রুক্মিনী মৈত্র। প্রিয়াঙ্কা সরকার তো বরাবরই ভালো অভিনেত্রী, বলার কিছুই নেই। চিরঞ্জিতও আশানুরূপ। অনেকদিন পর বড়ো পর্দায় বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়কে দেখলাম। ভালো লাগারই কথা।

কিন্তু এসবই বাড়তি কথা। আসল কথা হল, নিজের কাহিনি নিজের প্রযোজনায় ছবি করতে গিয়ে স্টেটমেন্টে ভরিয়ে দিয়েছেন দেব। পদ্মনাভ দাশগুপ্তর চিত্রনাট্য এবং রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় তা চমৎকার সূক্ষ্ণতায় প্রাণও পেয়েছে। বাংলা ছবিতে সম্ভবত এই প্রথম কোনো দৈনিক পত্রিকার বিভাগীয় সম্পাদককে প্রায় ভিলেন বানানো হয়েছে। তাঁর সবজান্তা পণ্ডিতি এবং ইগো ও প্রতিশোধস্পৃহা কীভাবে পারফরমারের ক্ষতি করতে পারে, তা জোরালো ভাবে জানিয়েছেন দেব। সাংবাদিকদের ওপর এত রাগ কী করে হল ঘাটালের সাংসদের! চরিত্রটিকে যথাযথ ভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টায় খামতি রাখেননি কমলেশ্বর মুখার্জিও।

এবং না হওয়া সম্পর্ক! নায়িকা হতে চাওয়া প্রিয়াঙ্কা, দেবকে ভালোবাসতেন। চ্যাম্পিয়ন বক্সারের গড়ে ওঠায় ভূমিকাও ছিল তাঁর। অথচ সাফল্য শিবাজিকে নিয়ে গেল জয়ার(রুক্মিনী) কাছে। বক্সারের যাত্রাপথ দেখানোর ফাঁকে খুব কম দৃশ্যে প্রিয়াঙ্কার নায়িকা হয়ে ওঠাও দেখানো হয়েছে ছবিতে এবং পরিচালকের বান্ধবী/ঘরণী হয়ে ওঠাও। এবং কি আশ্চর্য সেই পরিচালকের অতিথি ভূমিকায় অভিনয় করেছেন এই ছবির পরিচালক রাজ নিজে। অরিজিত সিং তো গেয়েই দিয়েছেন, “ঘুম আসে না/ঘুম ভাঙে না/ জাহাজের খোলা মাস্তুল…”।

শেষে দেব। তিনি যে দুর্দান্ত অভিনেতা নন, তা তো আমরা সকলেই জানি। তা বলে স্বীকার করতে অসুবিধা নেই যে এই ছবিতে তিনি প্রাণ ঢেলে দিয়েছেন। তাঁর সমস্ত সীমাবদ্ধতা নিয়েই। সেই প্রয়াসকে কুর্নিশ করতে কেন যেন ইচ্ছেই করছে।

‘চ্যাম্প’-এ এক ঢিলে অনেক পাখি মারার চেষ্টা করেছেন দেব। তাঁর অভিনীত চ্যাম্পিয়ন বক্সারটি অবশ্য গোটা ছবিতে মাত্র একবারই বলেছে, “খেলার নাম বাবাজি, ক্যালানির নাম শিবাজি”। এমনতর জনপ্রিয় হওয়ার উপাদান সমৃদ্ধ ডায়লগ যে গোটা ছবিতে মাত্র একবারই ব্যবহার হয়েছে, তাঁর কৃতিত্ব কাকে দেব ? জানিনা।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here