prasenjitপ্রসেনজিৎ চক্রবর্তী

গোয়েন্দা কাহিনি নিয়ে তৈরি সিনেমার রিভিউ-তে বেশি কিছু লেখা যায় না। তাই, কেবল এটুকু বলা থাক, দক্ষতার সঙ্গে বাঙালি দর্শকদের অ্যাডাল্ট ডিটেকটিভ সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা যোগান দিয়ে চলেছেন শবর দাশগুপ্ত। কেউ বলতে পারেন, কেন ব্যোমকেশের ফ্র্যানচাইসে-ও তো চলছে রমরম করে। এক জনের জায়গায় দুই পরিচালক বানাচ্ছেন ব্যোমকেশ। কিন্তু তা বললে চলবে না। কারণ ব্যোমকেশের সমাধান করা রহস্যগুলোয় প্রাক স্বাধীনতা এবং স্বাধীনতা পরবর্তী যে সময়ের ছাপ রয়েছে, তার থেকে আজকের নাগরিক রহস্যের চরিত্র অনেকাংশেই আলাদা। তাতে বহুস্তর। এই রহস্যের চরিত্রগুলোর সঙ্গে মাল্টিপ্লেক্সের দর্শককুল নিজেকে অনেক সহজে রিলেট করতে পারেন।

যাক গে, জ্ঞানের কথা ছেড়ে সোজা কথায় বলতে গেলে বলতে হয়, ফিরে এসে ফের মন ভরালেন গোয়েন্দা শবর দাশগুপ্ত। স্রেফ যৌনতা এবং যৌনপ্রেম জনিত অপরাধ ও জটিলতা নিয়ে একটি ঝলমলে সিনেমা উপহার দিয়ে ফের তাক লাগালেন পরিচালক অরিন্দম শীল। গোয়েন্দা কাহিনির যে প্রাথমিক শর্ত অর্থাৎ আনপ্রেডিক্টেবিলিটি বা শেষের চমক, তাও অনেকদূর পর্যন্ত রক্ষিত হয়েছে চিত্রনাট্যে। কাহিনির ধরনটাই এমন যে তাতে গতির চেয়ে বিশ্লেষণ ও কথোপকথন বেশি। তবু চিত্রনাট্য মোটের ওপর টানটান। শুধু সুপারি কিলার জোগাড়ের জায়গাটা খানিক দুর্বল।

কাহিনিতে বাড়তি প্রাপ্তি গোয়েন্দার নিজের অস্তিত্বের সংকট এবং জুন মাল্য-র মত গ্ল্যামারাস মনস্তত্ত্ববিদ।

অভিনয়ে সবাই যথাযথ কিংবা খুব ভাল। শাশ্বত তো আছেনই, সঙ্গে পায়েল সরকার, জয়া এহসান, শুভ্রজিৎ দত্ত কম যান না কেউই। নবাগতরাও প্রত্যেকেই ভাল। চমকে দিয়েছেন মঞ্চের চেনামুখ সিনেমায় নবাগত অনির্বাণ ভট্টাচার্য। বাংলা সিনেমা হয়তো নতুন এক তারার জন্ম দেখল ‘ঈগলের চোখ’-এ। শুধু মনে হল যেন বরুণ ধাওয়ানের ম্যানারিজম প্রভাবিত করছে অনির্বাণ-কে। অনির্বাণের মত শক্তিশালী অভিনেতা এই সমস্যা নিশ্চয় অচিরেই কাটিয়ে উঠবেন।

প্রশ্ন রয়ে গেল একটাই, স্বাধীনতা দিবসের লং উইকএন্ড পেরিয়ে শবরের দর্শকরা যখন ধন্য ধন্য করবেন, তখন পাহাড়ে্ গিয়ে কি নিজের মনের অবচেতনের তল খুঁজে পাবেন অপরাধী খুঁজতে গিয়ে বারবার মানুষের গল্প খুঁজে পাওয়া এই ধূসর সুপার কপ ?  উত্তর জানতে বাঙালি দর্শক নিশ্চয় অধীর অপেক্ষায় থাকবেন আগামী শবর পর্যন্ত।

 

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here