প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী

কবির হয়ে গেল, এবার হইচই তারপর পদ্মশ্রী সুভাষিণী মিস্ত্রি। দেখা যাচ্ছে প্রথম ছবির পারফরম্যান্স দেখার আগেই পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায়কে চোখে হারাচ্ছেন প্রযোজক দেব। তবে তিনি প্রযোজক পরে, আগে তো নায়ক। সে জন্যই কিনা কে জানে, কবির ছবিতে সৃজিত ও কমলেশ্বরের মতো বাংলার দুই বাঘা পরিচালককে ছোটো ছোটো দৃশ্যে অভিনয় করিয়ে নিয়েছেন দেব। আর নিজেকে দিয়ে বলিয়ে নিয়েছেন, ‘বাংলাটা ভালো বলতে পারি না’।

থাক সেসব কথা। কিন্তু যে কথা না বলে থাকা যাবে না, তা হল- প্রযোজক দেব বিষয় ভাবনার ব্যাপারে সাহসের পরিচয় দিচ্ছেন বারবার, মূল ধারায় থেকেও। চ্যাম্পে বহু ভালো এলিমেন্ট থাকলেও দেবকে লার্জার দ্যান লাইফ বানানোর অভ্যাস না ত্যাগ করার গুনাগার দিতে হয়েছিল রাজ চক্রবর্তীকে। ককপিটে প্রেক্ষাপটে নতুনত্ব থাকলেও (বাংলা ছবির নিরিখে) ফোকাস ছিল অস্পষ্ট। দেবের ভক্তরাও নায়কের শত্রুকে ঠিক রিলেট করতে পারেননি। তৃতীয় ছবিটি কিন্তু মোটের ওপর টানটান। সৌজন্যে নিশ্চয় চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায়।

অন্য ভাবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কথা ছবিতে আনলেও, ভারতে রাজনৈতিক ইসলামের কর্মকাণ্ডকে হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দেখিয়েছেন অনিকেত। সেটা যথার্থ হলেও রাজনৈতিক ইসলামের আন্তর্জাতিক চরিত্রের কথা না বললে সত্যটা খণ্ডিত থেকে যায়। কিন্তু সেটা মাপ করে দিতে হবে। কারণ, সে ক্ষেত্রে এই টানটান চিত্রনাট্যটা তৈরি করা অনেক জটিল হয়ে যেত। এমনকি, কে বলতে পারে, ছবির দুই প্রধান চরিত্রকে ‘মমতা ব্যানার্জির ট্রেন, দুরন্ত’-য় চাপিয়ে মুম্বই থেকে হাওড়া নিয়ে আসার কথাও হয়তো ভাবা যেত না। বলাবাহুল্য, ‘যে ট্রেন কোথাও থামে না’।

ছবির আরও একটা ভালো দিক, অনিকেত রাজনৈতিক ইসলামের সঙ্গে প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের যোগাযোগের ইঙ্গিত দিলেও, কোনো নেতা বা প্রশাসনের কেষ্টবিষ্টুকে কাহিনিতে ঢোকাননি। সেটা তাঁর লক্ষ্যও ছিল না। তাঁর লক্ষ্য ছিল, জেহাদের মতাদর্শকে আক্রমণ করা এবং সেই বহুচর্চিত কথাটি নতুন ভাবে উচ্চারণের। ‘দাঙ্গা করে দাঙ্গাবাজরা’। সুখবর, দক্ষিণ কলকাতায় ভরদুপুরে প্রায় ফাঁকা প্রেক্ষাগৃহেও ওই সংলাপটি উচ্চারিত হতেই হাততালি পড়ল।

এ ছবির রিভিউতে কাহিনির আঁচ দেওয়াটা অপরাধ। তাই নীরব থাকতে হচ্ছে। তবে বলা যায়, চিত্রনাট্য যে ভাবে এগিয়েছে তাতে এমনিতেই দেবের চরিত্র নিয়ে দর্শকদের মনে আগ্রহ তৈরি হওয়ার কথা। খামোকা প্ল্যাটফর্মে কাগজের হাতবদল বা আপার বার্থে জনৈকের জেগে নাক ডাকার দৃশ্য তৈরির প্রয়োজন ছিল না।

এই ধরনের ছবিতে সম্পাদনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। সেটা ভালোই হয়েছে।

অভিনয় নিয়ে তেমন কিছু বলার নেই। দেব তাঁর সাধ্যমতো করেছেন। আর রুক্মিনীর চরিত্রটা তো যতদূর সম্ভব টেইলর মেড হতেই হবে। নইলে আর বয়ফ্রেন্ড প্রযোজক হয়ে লাভ কী হল! এ ভাবেই একদিন বাংলা ছবির দর্শকরা দেব-রুক্মিনী জুটিকে সিরিয়াসলি নিতে শুরু করে দেবেন। হয়তো।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here