prasenjitপ্রসেনজিৎ চক্রবর্তী

কিন্তু হৃদয়, সে তো মস্তিষ্কের অংশ ছাড়া কিছু নয়। তাই, পরিচয়-অপরিচয়-আত্মপরিচয় এবং বিকল্পের যে আশ্চর্য জাদু ২০১২ সালের কাহানিতে ছড়িয়ে ছিল, সেটাকে কাহানি টু-তেও দিব্যি তরতর করে এগিয়ে নিয়ে গেছেন সুজয় ঘোষ। ২০১২ সালে যখন কাহানি রিলিজ করেছিল,  তখন রাজ্যে প্রথম তৃণমূল সরকারের এক বছর পূর্ণ হয়নি। বিদ্যা বাগচির আশ্চর্য উড়ান শেষে ক্রেডিট টাইটেলে দর্শক বিগ বি-র কণ্ঠে শুনেছিলেন ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে’। আর কাহানি টু-এ দুর্গা রানি সিং-এর হিংস্র মানবিকতার আখ্যান শেষে বেজে ওঠে ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে, বিরাজ, সত্য সুন্দর’। এই তো মাত্র কয়েক মাস হল, রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত দ্বিতীয় তৃণমূল সরকার।

বলিউডি ছবিতে রাজ্য রাজনীতির শিবের গীত নয় এ উল্লেখ, নেহাতই ধরতাই। কারণ, সেবারের ঘটনাটা ঘটেছিল কলকাতায় আর এবার, শেষ অবধি কলকাতায় এসে পড়লেও দুর্গা রানি সিং-এর গল্পটা ছড়িয়ে আছে কালিম্পং থেকে চন্দননগরে।


শিশু যৌন নিগ্রহের মতো গহিন সামাজিক অপরাধ এবং অপরাধের তলদেশ ধরে হাঁটতে হাঁটতে এমন কিছু দেখে ফেলা, ছিঃ! তা দেখতে পেতে নেই।


থ্রিলার। অতএব তাতে রোমাঞ্চ থাকবে, কী হয় কী হয় ভাব থাকবে, রকমারি চমক থাকবে, এ আর নতুন কথা কি। নতুন যা, তা সুজয় ঘোষের করতলের আয়নাখানি। যেখানে উজ্জ্বল হয়ে প্রতিবিম্বিত হয় নিখাদ ভারতীয়ত্ব। শিশু যৌন নিগ্রহের মতো গহিন সামাজিক অপরাধ এবং অপরাধের তলদেশ ধরে হাঁটতে হাঁটতে এমন কিছু দেখে ফেলা, ছিঃ! তা দেখতে পেতে নেই। এবং হৃদয়। সেই আদি অনন্ত কাল থেকে যে ব্যাপারীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় পণ্য হিসেবে থেকে গেছে, মরতে মরতেও বারবার বেঁচে ওঠা ভালোবাসা।

এত বাজে কথা যে লিখতে হচ্ছে, তার একটাই কারণ, থ্রিলারের আলোচনায় গল্প বলা যায় না। শুধু বলে দেওয়া যায়, কাহানি-র মতো নিটোল-নিখুঁত চিত্রনাট্য(যে থ্রিলারের চমকটাই ছিল অবিশ্বাস্য রকমের স্বাভাবিকতা) নয় কাহানি টু-র। এখানে গল্পটা বলার জন্য একটা ফ্রেম তৈরি করতে হয়েছে চিত্রনাট্যকার সুজয়কে। বিদ্যা বালন আর অর্জুন রামপালকে আলাদা আলাদা ভাবে নিয়ে যেতে চন্দননগরে। গল্প যখন ক্লাইম্যাক্সের দিকে এগোচ্ছে, তখন হঠাৎ হঠাৎ দর্শকের মনে হয়েছে, তিনি হয়তো বুঝে ফেলেছেন গল্পটা।

কিন্তু না। কী হচ্ছে, তা কিছুটা স্বচ্ছ হয়ে এলেও কী ভাবে হচ্ছে সেটা বুঝেও না বুঝতে পারার ধাঁধাটা সুজয় দিব্যি ধরে রেখেছেন। পরিচালকের সেই লক্ষ্য পূরণ করার জন্য তো আছেনই বিদ্যা বালন। এক সঙ্গে কত রকম শেডেই না অতিরিক্ত বিশ্বাসযোগ্য তিনি। চমক যেন কাটে না কিছুতেই। শুধু বিদ্যা নন, তুনিশা শর্মা, যুগল হংসরাজ, খরাজ মুখোপাধ্যায়, প্রদীপ মুখোপাধ্যায়, কৌশিক সেন- সকলেই চমৎকার। তবু আলাদা করে বলতেই হয় অর্জুন রামপালের কথা। হাওড়া থেকে মাত্র এক ঘণ্টা ট্রেনে গেলে যে অমন একজন ইন্সপেক্টরের দেখা মিলতে পারে, যদি বাঙালি মধ্যবিত্ত জানতো, তাহলে কবেই হয়তো সে ক্ষমা করে দিতো কৌশিক-খরাজদের।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here