রাকা রায়

শহরের প্রেক্ষাগৃহে তখন বেশ ভালোই ভিড় রয়েছে। ছবির নাম ‘তুমহারি সুলু’। চিপস আর ঠান্ডা পানীয় নিয়ে বসে পড়লাম নির্দিষ্ট আসনে। আশা ছিল, বেশ মজার একটা হালকা মেজাজের ছবি দেখে বেরবো। কিন্তু কে জানত, কিছুক্ষণের মধ্যেই ইমোশনাল হয়ে পড়ব!

বিদ্যা বালনকে দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, এই সেই মহিলা! আর কেউ এই সুলুর চরিত্র করতেই পারত না। ছবি হিট করার কোনো ঠিক রেসিপি হয় না। তবে গল্প আর অভিনয়ের সঠিক মিশ্রণ সিনেমাকে জীবন্ত করে তোলে। পরিচালক সুরেশ ত্রিবেদি দর্শকদের মজার ছলে একটা মেসেজ দিতে সক্ষম হয়েছেন।

ছবির গল্প এতক্ষণে হয়ত অনেকেই অল্পবিস্তর জেনে ফেলেছেন। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে যে সন্তান খুব বেশি সাফল্য পায় না, তাকে আর্থিক সাহায্যে এগিয়ে আসেন তার প্রিয়জনরা। তবে সেই মানুষটার মনের জোর বাড়াতে কাউকেই পাওয়া যায় না।

এরকমই এক সাধারণ পরিবারের মেয়ে সুলু। উচ্চ মাধ্যমিকটাও তার দেওয়া হয়নি নানা কারণে। অন্য দিদিদের তুলনায় সে কম সফল। তবে নিপুণ ভাবে সংসার সামলায়। তার আই কিউ লেভেলেরও তারিফ করতে হয়। তবে সে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সংসারকে আরও এরটু স্বচ্ছল করার স্বপ্ন দেখে।

পুরো ছবিতে সুলুর উইল পাওয়ার দেখার মতো। ছবিতে সুলু চেষ্টার ফলও পায়  রেডিও জকির কাজ পেয়ে। সাফল্য পায়, স্বীকৃতি পায়। তবে সংসারের নানা ছোটোখাটো সমস্যা তাকে বিচলিত করতে থাকে। কাজ তাঁর সন্তানদের বড় হয়ে ওঠার পথে বাধার সৃষ্টি করছে- এমন মনোভাব পোষণ করতে শুরু করেন, তাঁর আশেপাশের মানুষরা। সেই ভাবনা তাঁরা সুলুর মধ্যে চারিয়ে দিতে চান।

ছবিতে সুলু এই সমস্যার সমাধান করতে পারল কি না, তা হলে গিয়েই দেখুন। দেখবেন, স্থূলকায় শরীর নিয়েও লাস্যময়ী বিদ্যা সকলের মন জয় করতে পেরেছেন। ‘হাওয়া হাওয়াই’ গানে এবার থেকে শ্রীদেবীর সঙ্গে বিদ্যার নাচও মনে থাকবে। যাঁরা মোটা বলে ভাবেন শরীরী আবেদনে পিছিয়ে পড়েছেন, প্লিজ তাঁরা বিদ্যাকে দেখুন আর ভরপুর বাঁচুন।

ছবিতে সুলুর স্বামী মানব কলকে অন্য রূপে পেল দর্শক। তবে ছবি জুড়ে শুধুই বিদ্যা বালন। একটা বিজ্ঞাপনের লাইন মনে পড়লো- বউকে ভালবাসে যে, ‘তুমহারি সুলু’ দেখতে যাবে সেই!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here